‘ঘুষ দেয়ার আগে দুদককে জানান’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘কোনও কাজে ঘুষ দেবেন না। ঘুষ দেয়ার আগে অন্তত বিষয়টি কমিশনকে জানালে ঘুষ গ্রহণকারীকে আমলে আনা যাবে। ব্যবসায়ীদের বৈধ কাজ সঠিক সময়েই সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নেয়া যাবে।’
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুক্তবাজার ব্যবস্থাপনা। এই বাজার ব্যবস্থাপনায় যে কোনও ধরনের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতি ব্যবসার পরিবেশ বিনষ্ট করে এবং দেশীয় বিনিয়োগের পথকে বাধাগ্রস্ত করে। দেশীয় বিনিয়োগ না হলে, বৈদেশিক বিনিয়োগও আসবে না।’
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনও কোনও কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেন এমন বক্তব্য কখনও কখনও শোনা যায়। আমি এ বিষয়ে বলতে চাই, এমন কোনো ঘটনা আপনাদের নজরে এলে তা কমিশনকে জানান। আমাদের দ্বার ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। তবে ব্যবসার একটি নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত। ভ্যাট ফাঁকি, ট্যাক্স ফাঁকি, ওভার ইনভয়েসিং অথবা আন্ডার-ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন দেশের সংবিধানও সমর্থন করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ বিতরণ কিংবা আদায় প্রক্রিয়ায় দুদক হস্তক্ষেপ করে না করবেও না। তবে ব্যাংক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কেউ যদি জাল কাগজপত্র বা দলিলাদি ব্যবহার করেন তাহলে বিষয়টি দুদকের এখতিয়ারে এসে যায়। সবাইকে মনে রাখতে হবে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের অর্থই পাবলিক মানি। এটার যে কোনও প্রকার অপচয় বা ক্ষতিসাধনই দুর্নীতি।’
সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরনের বিধি-বিধান, আইন কানুন হবে বৈষম্যহীন ও সম সুযোগের ক্ষেত্র।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসা ক্ষেত্রে দুর্নীতি থাকলে পণ্য এবং সেবার মূল্য বেড়ে যায় এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় অসমতার সৃষ্টি হয়।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, এফিসিসিআইয়ের পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ, ডিসিসিআইয়ের পরিচালক সেলিম আখতার খান, এফসিসিআইয়ের মহাসচিব ফারুক আহমেদ, মালোয়েশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।




