202950

ভয়ঙ্কর পেশায় জড়িত কে এই ফারজানা?

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডাক্তার সেজে শিশু চুরি করতে গিয়ে ধরা খেল দুই ভুয়া ডাক্তার।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি করতে এসেছিল ওই দুই ভুয়া ডাক্তার। এ সময় তাদের গায়ে ছিল চিকিৎসকের অ্যাপ্রন। তাদেরকে ডাক্তার মনে করে প্রথমে কেউ কিছু বলেও নি। কিন্তু এদের সন্দেহজনক গতিবিধি ও কথাবার্তার কারণে শিশু চুরির আগেই ধরা পড়ে ওই তাভুয়া ডাক্তাররা।

এ ঘটনাটি রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘটলেও এ নিয়ে যাচাই-বাছাই ও শিশু চোর চক্রের পেছনে জড়িতদের ধরার জন্য বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই চক্রের আর কাউকে ধরতে না পারলেও পুলিশ শিশু চোর চক্রের এই দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মিরসরাই উপজেলার নিজামপুর কলেজ এলাকার রাজু (১৯)। তার পিতার নাম মো: জাফর বলে জানা গেছে। অপরজন হলো- বরিশালের বাকেরগঞ্জের শাহরিয়ার মাহমুদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার মনি (২৬)।

তারা দুই জনই চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় থাকেন। এ এলাকায় থেকেই তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির সাথে জড়িত বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি আরো জানান, রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আটক শিশু চোর চক্রের ওই দুই ভুয়া ডাক্তারকে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় সোপর্দ করা হয়।

এর আগে তারা বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসকের অ্যাপ্রন পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে গাইনি ও শিশু চিকিৎসার লেবার রুমে ঢুকে পড়ে। সেখানে ফারজানা আক্তার নিজেকে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের ভাবসাব-বেশভুষা ডাক্তারের মতো মনে হলেও গতিবিধি ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এ সময় দায়িত্ব পালনরতরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।

পরে তাদের ভুয়া পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের আটক করে চমেক পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ নিয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে শিশু চুরির লক্ষ্যে তারা হাসপাতালে প্রবেশ করে বলে স্বীকার করে। এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার শিশু চুরি করতে সক্ষম হন। আটককৃতদের পিছনে শিশু চোর চক্রের কারা জড়িত। যাদের ধরার চেষ্টা করেও সফল হওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান, চমেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল নয়, নগরীর আরো বেশ কয়েকটি হাসপাতালে শিশু চুরি করেন তারা। আটকরা বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে এ চক্রের সদস্যরা শিশু চুরির কাজে জড়িত বলে স্বীকারোক্তিও দেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেন, এর আগে গত মঙ্গলবার অ্যাপ্রন পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকে শিশু চুরিতে ব্যর্থ হয়ে ২৯ নম্বর বেডের এক রোগীর মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যখন যা পায় তখন তাই চুরি করে বলে জানান, ওই দুই ভুয়া ডাক্তার।

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার এসআই নুরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন বিকেলে ভিজিটিং আওয়ারে রোগীর স্বজনদের প্রবেশে হাসপাতালে তেমন তল্লাশি করা হয় না। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা চমেক হাসপাতালে ঢুকে পড়ে। অ্যাপ্রন পরে রোগীদের আশপাশে ঘোরাফেরা করে। সুযোগ বুঝে শিশু চুরি করে। এছাড়াও মোবাইল ফোনও চুরি করে তারা।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ জানান, সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের বিরুদ্ধে শিশু চুরি ও হাসপাতালে অনধিকার প্রবেশের অপরাধে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। এরপর দুপুরে তাদের আদালতে নেয়া হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ad

পাঠকের মতামত