202845

নাসিরকে খুনের সোয়া ১ ঘন্টা আগে সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক।।

রাজধানীর মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় ঠিকাদার নাসির কাজী (৪৫) হত্যাকান্ডে অংশ নেয় অস্ত্রধারী তিন ভাড়াটে খুনি। দুই সপ্তাহ ধরে রেকি করে খুনিরা। খুব কাছ থেকে নাসিরকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর সরু গলি দিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলে যায়। হত্যার আগে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। হত্যার আগে ফোনে হুমকি দেওয়া ও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ক্যাবল কাটা থাকায় হত্যাকাণ্ড টি পূর্ব পরিকল্পিত বলে ধারণা পুলিশের।

চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বসহ কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি খতিয়ে দেখছে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ।

গত রোববার সকালে মহাখালী দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাসিরের লাশ পড়ে ছিল। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। দুপুরে ঢামেক মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে , নাসির বুকে ও পেটে গুলির ৯টি ক্ষত চিহ্ন ছিল। শরীর থেকে দুটি গুলি বের করা হয়।

দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের দক্ষিণপাশের ছোট গলিপথ ধরে পাঁচ কদম ভেতরে গেলে হাতের বামপাশে ওই মসজিদের টয়লেট ও ডানপাশে ওজুখানা। টয়লেট ও ওজুখানার মাঝেই নাসিরের লাশ পড়ে ছিল। পুলিশের ধারণা টয়লেট থেকে বের হওয়ার পরই নাসিরকে গুলি করা হয়। পর পর এলো পাতাড়ি তিন রাউন্ড গুলি করলে নাছির মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে নাছিরের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে মুত্যু নিশ্চিত করে ঘাকতরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের পাশের বাড়িতে এ সময় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেটির ক্যাবল কাটা ছিল-সরেজমিনে ঘুরে এমন দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গুলিবিদ্ধ নাসিরের মাথা ছিল পশ্চিম দিকে আর পা ছিল পূর্বদিকে। প্যান্টের বেল্ট ছিল খোলা । পড়ে থাকা লাশের এ বর্ণনা শুনে পুলিশের ধারণা, টয়লেট থেকে বের হওয়ার মুখে নাসিরকে গুলি করা হয়, যে কারণে তিনি বেল্ট লাগানোর সময় পাননি।

সুমন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর সহায়তায় এই সিসি ক্যামেরাটিসহ বিভিন্ন গলিতে মোট ২৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে তা মসজিদের গ্রাউন্ডফ্লোর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।ঘটনার প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক সুমন বলেন, সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটের পর থেকে সিসি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রধান সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।

ঘটনাস্থলের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি ভবনের দ্বিতীয় তলার প্রাচীর পানি দিয়ে ভেজাচ্ছিলেন। এ সময় চারটি শব্দ শুনতে পান তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন মিস্ত্রিরা কাজ করতে গিয়ে শব্দ করছে। এরপরই হৈচৈ শুনে নিচে এসে নাসিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গুলির পর তিনি দুই ব্যক্তিকে মসজিদের পশ্চিম পাশের গলিতে পালিয়ে যেতে দেখেছেন।

ওই মসজিদের মোতোয়াল্লি মো. শাহজাহান বলেন, ঠিকাদার নাসিরের অধীনে ৪-৫ জন শ্রমিক কাজ করতেন। তদারকির জন্য দুয়েক দিন পর পর নাসির আসতেন। ঘটনার দিন সকালেও এসেছিলেন। তবে কয়টায় এসেছিলেন তা বলতে পারব না।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আমান উল্লাহ বলেন, আমাদের এ মসজিদের কাজ নাসিরই করে আসছে। ১৫-১৬ দিন আগে নতুন করে আবার কাজ শুরু হয়। কারও সঙ্গে কোনও ঝামেলা ছিল কিনা, সেটা নাসির আমাদের কখনও জানায়নি। মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র আমরা কমিটির পক্ষ থেকে কিনে দিয়েছি। আর এগুলো সে শুধু লাগিয়ে দেওয়ার কাজ করছিল। এ কাজ খুব বড় অঙ্কের টাকার না।

নাসিরের মেয়ে নার্গিস আক্তার নিপু বলেন, তার বাবা প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে কাজের উদ্দেশে বাইরে বের হন। শনিবার সকালে বের হওয়ার পর উত্তরার বাসায় যাননি, খিলক্ষেতে নানার বাসায় ছিলেন। সেখান থেকেই ঘটনার দিন সকালে মহাখালীতে গিয়েছিলেন তার বাবা।

বনানী থানার ওসি বি এম ফরমান আলী জানান, নাসির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে নারগিস আক্তার নিপু বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এটা যে পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এ ব্যাপারে আমরা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। নাসিরকে ফোনে দেওয়া হুমকি, সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয় মাথায় রেখে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ad

পাঠকের মতামত