197317

যে সিনেমাগুলো কখনোই মুক্তি পাবে না…!

শাবানা ‘বেগম রোকেয়া’ হচ্ছেন। ঘটা করে মহরত হলো। পরিচালনা করবেন সুভাষ দত্ত। সে ছবির শুটিংই শুরু হয়নি। শাবানা ও সুভাষ দত্তের খবর তো সবারই জানা। ঘটনাটা কিন্তু বছর কুড়ি আগের।

সে সময় এমন ঘটনা কমই ঘটতো আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনের চিত্র বদলেছে। এখন কোন ছবি শুরুর আগে সবার আলাপ থাকে মুক্তি দিতে পারবে তো? ঘটা করে জমকালো, নায়িকা প্রেস ব্রিফিং, বড় ব্যানার- সব কিছু নিয়েই আটকে আছে অসংখ্য সিনেমা। শুটিং শুরু যেমন হয় না, তেমনি তা যায় না এডিটিং প্যানেল পর্যন্ত।

শুরু থেকে বললে কোন ছবির গল্প লেখা হয়, কোনটার কলাকুশলি ঠিক, কোনো ছবির গান হয় কিংবা অ্যালবাম হয়, হয় না শুটিং। কোন ছবির এক লট শুটিং করেই থেমে যায় চিরতরে।

এ তালিকায় থাকা কয়েকটি ছবির নাম, শুটিং শেষ হয়েও নূর হোসেন বলাই পরিচালিত শাকিব খান অভিনীত ‘অপমানের জ্বালা’ আবু সাঈদ খানের ‘আসবো না ফিরে’, জীবন রহমানের ‘কাকনদাসী’, বি এইচ নিশানের ‘মন যারে চায়’, রানা হামিদের ‘ছলনাময়ী নারী’, সাজেদুর রহমান সাজু পরিচালিত ‘অন্তরে প্রেমের আগুন’ ছবিগুলো মুক্তি পাচ্ছে না। শান্তি চৌধুরী পরিচালিত ‘মায়ানগর’, দেওয়ান নাজমুল পরিচালিত ‘নাকফুল’, আজাদী হাসানাত ফিরোজ পরিচালিত ‘প্রেমের নদী’, বাবুল রেজা পরিচালিত ‘নবীন কমিশনার’ ছবিগুলো আটকে আছে।

মান্নার আকস্মিক মৃত্যুতেও আটকে যায় বেশ কিছু বিগ বাজেটের ছবি। যার মধ্যে জাহিদ হোসেনের ‘লীলামন্থন’ সেন্সর বোর্ডে আটকে আছে। এম এম সরকার পরিচালিত ‘বৃষ্টির চোখে আগুন’ শেষ হয়নি। পরে পরিচালকও প্রয়াত হন। পরিচালক মতিউর রহমান বাদল ও আবিদ হাসান বাদলের মৃত্যুর কারণে আটকে গেছে ‘জনতার ডাক’ এবং ‘পাগলের বিয়ে’।

অনিমেষ আইচের পরিচালক হওয়ার কথা ছিল ‘না মানুষ’ ছবিতেই। মৌসুমী হামিদকে নিয়ে যাত্রা হয়েছিল এর। কিন্তু কিছুদিন শুটিংয়ের পর বন্ধ হয়ে যায়। আহমেদ নাসির পরিচালিত ‘লাভ ইন কোরিয়া’ বহু বছর ধরেই শুটিং অসামপ্ত। নূর মোহাম্মদ মণি পরিচালিত ‘কিস্তির জ্বলা’ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। গান রেকর্ডিং করেও তিন বছরে জাকির হোসেন রাজু কোনো কিনারা করতে পারেননি ‘সোনার কাজল’ র। শংখদাস গুপ্তের ‘হ্যালো অমিত’ শুটিং বন্ধ কয়েক বছর আগেই।

আটকে যাওয়া ছবির তালিকায় আরো রয়েছে ছটকু আহমেদের ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’, এম এ রহিমের ‘সুন্দরী গুলবাহার’, মোহাম্মদ আসলামের ‘ভালোবাসা ডটকম’ ইত্যাদি ঘোষণা দিয়েও শুরু হয়নি ‘মুসাফির টু’র কাজ। শফিকুল ইসনলাম ভৈরবী শেষ করতে পারেননি ‘শুয়াচান পাখি’, ডায়েল রহমানের ধরতে পারেননি ‘দুদ মিয়া’। ঘোষণা দিয়েও পপিকে নিয়ে ‘দেহ’ বানাতে পারেননি সালমান হায়দার।

ওয়াজেদ আলী সুমন ব্যর্থ হয়েছেন শুভ-পরীকে নিয়ে ‘দরদিয়া’ বানাতে। বাপ্পি-তানহাকে নিয়েও পারেননি ‘জানবাজ’ শুরু করতে। শাহিন সুমনের ‘প্রবাসী ডন’ আর ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’ আছে আটকে। আশিকুর রহমান পারেননি ‘ম্যাডাম ফুলি টু’ বানাতে।

অনিশ্চয়তায় হাবুডুবু খাচ্ছে ‘নূরজাহানের প্রেম’, প্রয়াত এনায়েত করিমের ‘বউ পাগল’, রেজা পরিচালিত ‘কেন আমি সন্ত্রাসী’, এমএ আউয়াল পিন্টুর ‘কালো বিড়াল’ ও ‘তুষের আগুন’, মাসুম পারভেজ রবেলের ‘লড়াকু সন্তান’, আইনুলের ‘সাহসী কন্যা’ ইত্যাদি। মোহাম্মদ হোসেন প্রযোজিত পরিচালিত ‘নষ্ট ছেলে’র মতো অশ্লীলতা যুগের আরো কিছু ছবি কোনদিন মুক্তি পাবে না।

এগুলোর বাইরে অনুদান পাওয়া ডজনখানেক ছবি ঝিমিয়ে আছে। ‘হাডসনের বন্ধুক’, ‘যৈবতী কন্যার মন’ ইত্যাদি অনুদানের ছবিগুলো কবে সরকারি অনুদানের সঙ্গে বাইরের পুঁজি যোগ করে শেষ হবে তা কেউ জানে না। নাকি সরকারি অর্থ লোপাট হয়ে যাবে তাও কেউ ঠিক করে বলতে পারছে না।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত পুঁজির ছবি বলে নানা সময় ঘোষিত ছবিগুলোর পরিণতি কী হবে তাও কারো অনুমেয় নয়। এসব নামসর্বস্ব ছবির মধ্যে রয়েছে নীলাঞ্জনা, আদম, নষ্ট হওয়ার কষ্ট, টাকার খেলা, আল্লাহ রাখলে মারে কে, চাইলাম যারে পাইলাম তারে, প্রিয়তমা আমি দাড়ি তুমি কমা, বিচার আমি করব, কেন আমি আসামি, কালো বিড়াল, জলে ভাসা পদ্ম, আমার পিরানের কোনো মাপ নাই, মন যারে চায়, মধুর জীবন, প্রজন্ম এক্স, বিন্দু বিন্দু ভালোবাসা, স্বজনহারা, প্রিয়া শুধু আমার, ভালেলাগার চেয়ে একটু বেশি, প্রবাসী ডন, ভালোবাসা ছাড়া কেউ কি বাঁচে, অনেক দৃষ্টি কেড়ে তুমি এলে, অসম প্রেম, মারুফ টাকা ধরে না ইত্যাদি।

ঢাকাই ছবির সুপারস্টার শাকিব খানেরই আটকে আছে এম এ রহিম পরিচালিত ‘রানা দ্য ফাইটার’, মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘মাই ডার্লিং’। শাকিব-অপুর শিডিউল জটিলতায় আটকে আছে। জি সরকার পরিচালিত ‘লাভ ২০১৪’। প্রায় ১২ বছর ধরে ক্যানবন্দি হয়ে আছে নজরুল ইসলাম খান পরিচালিত ‘স্বপ্নের বিদেশ’। শাকিব-শাবনূর অভিনীত ছবিটি সেলুলয়েড যুগে শুরু। মৌসুমী, ফেরদৌস, শাকিব খান ও জনাকে নিয়ে ‘চোখ যে মনের কথা বলে’ কাজ অনেকদূর এগিয়েছিল।

ad

পাঠকের মতামত