ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরলেন লিটন!
প্রথম ইনিংসে দলের প্রয়োজনের সময় বাজেভাবে আউট হয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন এই তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের মহাবিপদের সময় ব্যাট হাতে নামলেন তিনি। এবার আর ব্যর্থতা নয়। দলকে বিপদমুক্ত করে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন দাস। হঠাৎ কী হলো, রঙ্গনা হেরাথকে তুলে মারতে গেলেন। আর তাতেই ৯৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হলো তাকে।
৭ টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে গতবছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্লুমফন্টেইন টেস্টে ৭০ রানের ইনিংসটিই ছিল এতদিন তার ক্যারিয়ার সেরা। আজ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ফেরার আগে ১৮২ বলের ইনিংসে হাঁকালেন ১১টি বাউন্ডারি। ব্যাড লাক লিটন! বাংলাদেশের লিড ৮০ রানের।
৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন অপরাজিত মুমিনুল হক এবং নতুন ব্যাটসম্যান লিটন দাস। ধীরে ধীরে তারা উইকেটে সেট হয়ে যান। ৭৮ বলে ১ চার ১ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার প্রথম ইনিংসে বাজেভাবে আউট হয়ে সমালোচিত লিটন দাস ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন ৯৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে। কিন্তু দুজনের আসল ব্যাটিং তখন কেবল শুরু হয়।
একবার জীবন পেয়েও দারুণ ব্যাটিংয়ে তিন অংকের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন মুমিনুল হক। নার্ভাস নাইন্টিতে বেশ স্নায়ুচাপ ছিল। শেষ পর্যন্ত সব শংকা কাটিয়ে ১৫৪ বলে ৫ চার এবং ২ ছক্কায় ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ‘লিটল মাস্টার’। আজ নিজস্ব স্টাইলেই উদযাপনে মাতলেন ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’। নেচে উঠল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারি। এর সাথে সাথে বাংলাদেশের হয়ে একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন মুমিনুল।
চলতি টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ১৭৬ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেছিলেন মুমিনুল। আজ অবশ্য অতদূর যেতে পারেননি। ১৭৪ বলে ১০৫ রান করে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে করুনারত্নের তালুবন্দি হয়েছেন। ভাঙল লিটন দাসের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৮০ রানের ম্যাচ বাঁচানো জুটি।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৫১৩ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসেই ৭১৩/৯ রানের পাহাড় গড়ে দিনেশ চান্দিমালের দল। শ্রীলঙ্কার চেয়ে ২০০ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের শেষ সময়টুকুতেই তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল (৪১), ইমরুল কায়েস (১৯) এবং মুশফিকুর রহিম (২)।




