188498

মাদকদ্রব্য না আনায় যুবককে বিবস্ত্র করে পেটালো ছাত্রলীগ নেতা!

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ছাত্রলীগ নেতাকে মাদকদ্রব্য এনে না দেওয়ায় কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিবস্ত্র করে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার পেড়াবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা জানার পর ওই ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। তবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতার এমন কর্মকাণ্ড সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কিছুই জানে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে মাদকদ্রব্য কিনে এনে দিচ্ছিলেন লালপুর উপজেলার চকশোভপুর গ্রামের ওমর মন্ডলের ছেলে কামরুল ইসলাম। সম্প্রতি তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে কামরুল মাদকদ্রব্য সরবরাহ বন্ধ করে দেন। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় কামরুলকে পেড়াবাড়িয়া বাজারে নিজের অফিসে ডেকে আনেন আলিফ মাহমুদ। এ সময় আবারো মাদকদ্রব্য সরবরাহ করার প্রস্তাব দিলে কামরুল তাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলিফ মাহমুদ কামরুলকে মারধর শুরু করে। এ সময় বাধা দিলে কামরুলকে বিবস্ত্র করে পেটাতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতা আলিফ মাহামুদ। কামরুল নিজেকে রক্ষা করতে বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎকার করকে করতে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বাজারে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে আশপাশের লোকজন একটা কাপড় দিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করে। ঘটনাটি শোনার পর ছাত্রলীগ নেতার এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকে অবহিত করেন।

বিষয়টি জানার পর লালপুর বাগাতিপাড়া আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত আলিফ মাহমুদকে তার পদ থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো নেতাকর্মী তাদের প্রয়োজন নেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিগারেট কেনার জন্য তাকে ৫০০ টাকা দেওয়া হলে সেই টাকা নিয়ে সে আর ফিরে আসেনি। পরে তাকে ডেকে এনে শুধুমাত্র টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কামরুলের সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টা মীমাংসা করে নেওয়া হয়েছে। তাকে বিবস্ত্র করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এলাকার কিছু ব্যক্তি এমন ঘটনা রটিয়েছে। তারপরও সংসদ সদস্য তাকে দল থেকে পদত্যাগ করতে বলায় নেতার সম্মানে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে নাটোর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল হাসান জেমস জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগ করেছেন এ কথা তিনি শুনেছেন। জেলা কমিটির পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ad

পাঠকের মতামত