আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র অগ্নিপরীক্ষা
কিছুটা সংশয় এখনো আছে। তবে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হচ্ছে সম্ভাবনা। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন রাজনীতির মাঠের প্রধান খেলোয়াড়রা। রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আমেজ এখনো মিইয়ে যায়নি। ফল নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে প্রধান দুই শিবিরেই।
রসিক নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থী। এ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করছে প্রধান দুটি দল। বহু বছর ধরেই রংপুরে সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিপুল জনপ্রিয়তা। এবারও জাপা প্রার্থীর জয়ের পেছনে কাজ করেছে এরশাদ টনিক। ভোটের আগেই লাঙলের জয়ের সম্ভাবনা আলোচনায় আসে। কিন্তু ভোটের বিপুল ব্যবধান রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময় তৈরি করেছে।
রংপুর থেকে ঢাকা কতদূর। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, বহুদূর। রংপুরে এরশাদ ম্যাজিক কাজ করলেও ঢাকায় তার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ঢাকায় মূলত অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হবে নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদের নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সরকার ও বিরোধীপক্ষের নীতিনির্ধারকরা। রসিক নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন সফলতা দেখিয়েছে। ঢাকায় অবশ্য চ্যালেঞ্জটা আরো বড়। যেমন বড় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্যও। গত নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে চমক দেখিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। ব্যবসায়ী নেতা ও উপস্থাপক আনিসুল হককে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছিলো দলটি। ওই নির্বাচনে আনিসুল হক ৪ লাখ ৬০ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাবিথ আউয়াল পেয়েছিলেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ভোট। অবশ্য জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ওই দিন দুপুরেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তাবিথ। গত ৩০শে নভেম্বর লন্ডনে ইন্তেকাল করেন আনিসুল হক। এরপর ৪ঠা ডিসেম্বর মেয়রের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
এবারের নির্বাচনে দুই প্রধান জোটের প্রার্থী হচ্ছেন কারা? আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এরইমধ্যে তাদের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। ইতিমধ্যে তেজগাঁও ও ফার্মগেট এলাকাসহ উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় আতিকুলের ছবি সংবলিত ব্যানার-পোস্টার টাঙানো হয়েছে। ভোটে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে প্রচারণায় মাঠে নেমেছি। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই কার্যক্রম শুরু করেছি। দোয়া করবেন। যেন সফল হতে পারি। কারণ নির্বাচনে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আশা করছি আনিসুল হকের মতো সফল হতে পারবো। তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান কাজ। আতিকুলও বিজিএমইএ’র সভাপতি ছিলেন ২০১৩-১৪ মেয়াদে। এখন তিনি পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ’-সিবাইয়ের সভাপতি।
আওয়ামী লীগের মতো বিএনপির প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত। আলোচনায় আরো কিছু নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাবিথ আউয়ালই বিএনপি প্রার্থী হতে পারেন। তার ব্যাপারে দলের হাইকমান্ডের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালও ব্যবসায়ী। তার পিতা ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনে তাবিথ আউয়ালকে প্রার্থী করে বিএনপি যেমন চমক তৈরি করেছিলো, তেমনি ভোটের ফলেও খারাপ করেননি এ তরুণ। দিনের মধ্যভাগে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানো তাবিথ বিপুল ভোট পেয়েছিলেন। অনেক পর্যবেক্ষকই বলেন, সেসময় তার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না।
গত বেশ কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির লড়াই দেখেছে দেশের মানুষ। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোটের লড়াই নিশ্চিতভাবেই এতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ লড়াইয়ে কারা বাজিমাত করেন তা দেখতে অনেক দেরি আছে। তবে লড়াই যে জমজমাট হবে তার ইঙ্গিত এখনই পাওয়া যাচ্ছে।
ডিএনসিসি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে বসছে ইসি
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও দুই সিটির ৩৬ ওয়ার্ডে ভোটের তারিখ নির্ধারণে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে তা কমিশনে উপস্থাপন করবে ইসি সচিবালয়। বুধবার সকাল ১০টায় আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবের সভাকক্ষে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক ডাকা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তরের মেয়রের শূন্যপদে উপ-নির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে নির্বাচন উপলক্ষে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোটের তারিখ নির্ধারণ বিষয়ক এ আলোচনা হবে। আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট করতে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয় গত রোববার কমিশন সভায়। পরে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, মেয়রের শূন্যপদে উপ-নির্বাচন, সম্প্রসারিত সীমানায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও একই দিনে ভোট হবে।
তিনটি তফসিল একদিনেই ঘোষণা করা হবে এবং একই দিনে ভোট হবে। নতুন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মেয়াদ হবে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পর্যন্ত। এ ধারাবাহিকতায় বুধবার ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ডিসিসি’র সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বিষয়ে ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দীন মণ্ডল বলেন, ভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অগ্রগতি বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র, ব্যালট বাক্স, বিদ্যমান ভোটার তালিকা ও হালনাগাদ তথ্য, মনোনয়নপত্র ছাপানো প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা’র সিডিসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত পেলে যথাসময়ে সব সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানান তিনি। ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশনের পরবর্তী সভায় ১১ই জানুয়ারির মধ্যে তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখা হবে, পরীক্ষার মধ্যে নির্বাচন করা হবে না। সেজন্য ২৫ থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি উপযুক্ত সময় বিবেচনা করা যেতে পারে। ২৭শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উৎস: মানবজমিন।




