377757

খরচ বেশি হলেও বাংলাদেশ সফর করতেই হবে : ইসিবি প্রধান

ক্রীড়া ডেস্ক

টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দলগুলোর দায়িত্বের কথা বারবারই বলা হয়। সেই দায়িত্বের জায়গা থেকেই আগামী বছর বাংলাদেশ সফরকে দেখছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সফরে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও বাংলাদেশে গিয়ে টেস্ট খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ইসিবি প্রধান রিচার্ড থম্পসন।

আগামী বছর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ইংল্যান্ডের। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে এই সফরে। আর্থিক দিক থেকে সফরটি ব্যয়বহুল হলেও এটিকে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন থম্পসন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট প্রশাসনের নজর কেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ২৩ বছর পর দেশটির মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ৯ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের সেই সাফল্যকে তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন ইসিবি প্রধান।

ইংল্যান্ডে চলমান ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে স্কাই স্পোর্টসকে থম্পসন বলেন, ‘কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। এটি প্রমাণ করে, তাদের মধ্যে সম্ভাবনা ও সামর্থ্য আছে।’

আগামী বছর অ্যাশেজের আগে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। ২০১০ সালের পর এই প্রথম ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলতে যাবে বাংলাদেশ। এরপর ইংল্যান্ড একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করলেও ইংলিশদের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ সফর নিয়ে আর্থিক বাস্তবতার কথাও স্বীকার করেছেন থম্পসন। তবে খরচের কারণে সফর বাতিলের কোনো প্রশ্ন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ইসিবি প্রধান বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা এমন কিছু কাজ করি, যেগুলো না করলেও চলে এবং সেগুলোর পেছনে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। সামনে আমাদের বাংলাদেশ সফর করতে হবে, সেটির জন্যও অনেক টাকা খরচ হবে। কিন্তু আমাদের সেটা করতেই হবে।’

টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আর্থিক হিসাবের বাইরে গিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলেও মনে করেন থম্পসন। এ প্রসঙ্গে জিম্বাবুয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে ইংল্যান্ড অর্থ ব্যয় করে জিম্বাবুয়েকে নিজেদের দেশে এনে টেস্ট খেলিয়েছে।

থম্পসনের ভাষায়, ‘এমনও হয়েছে, জিম্বাবুয়েকে টাকা দিয়ে এখানে এনেছি এবং টেস্ট ম্যাচ খেলিয়েছি। বিষয়টি সব সময় আর্থিক নয়, আমাদের কাছে মান গুরুত্বপূর্ণ। আর এখানে মানে হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য ধরে রাখা। আমরা জানি, আমরা ব্যতিক্রম।’

ইসিবি প্রধানের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আর্থিক লাভের চেয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য রক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড। সেই বিবেচনায় আগামী বছরের বাংলাদেশ সফরও তাদের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ad

পাঠকের মতামত