373970

ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত রেজা পাহলভি

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। ৬৫ বছর বয়সী পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ছাড়েন এবং তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিওতে তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ, ভঙ্গুর দমনমূলক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নতজানু করবো।’

ইরানে জনসমর্থন আছে?

ইরানের ভেতরে পাহলভির প্রকৃত সমর্থনের মাত্রা নির্ণয় করা কঠিন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, অন্তত একটি অংশের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি রয়েছে।

তবে অধিকাংশ বিক্ষোভকারী নির্দিষ্ট কোনো নেতার পক্ষে নন। তারা মূলত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে, যা এই বিক্ষোভের বড় প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে।

উত্তর ইরানের ২৭ বছর বয়সী আজাদেহ নামের এক তরুণী এক বার্তায় বলেন, ‘রেজা পাহলভি যা শিখেছেন, তা তার বাবার কাছ থেকেই—যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা পাহলভিদের দেখেছি, এখন সময় একটি গণতান্ত্রিক দেশের।’

ক্ষমতা গ্রহণে প্রস্তুত পাহলিভ

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় যেমন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি একক কণ্ঠে আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো একক নেতৃত্ব নেই। এই শূন্যতায় পাহলভি নিজেকে একজন ‘রূপান্তরের নেতা’ হিসেবে সামনে আনছেন।

১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া পাহলভিকে ১৯৬৭ সালে তার বাবার রাজ্যাভিষেকের সময় যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। শাহের শাসনামলে রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপন ও গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল। সেই সঙ্গে শাহের কুখ্যাত গোপন পুলিশ সাভাকের দমননীতিও জনগণের ক্ষোভ বাড়ায়।

পাহলভি ইরান ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তিনি গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকেও সমর্থন করেছিলেন।

তবে পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পাননি পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও জানিয়েছেন, পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এখন ‘উপযুক্ত না-ও হতে পারে’।

সূত্র: রয়টার্স

ad

পাঠকের মতামত