রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাবের চাপ? কারণ জেনে নিন
গভীর ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে বাথরুমে যাওয়াটাকে আপনার সাধরণ ঘটনা মনে হতে পারে, যতক্ষণ না এটি রাতের পর রাত ঘটতে থাকে। যদি আপনাকে প্রায়ই মাঝরাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করার জন্য উঠে পড়তে হয়, তাহলে আপনি সম্ভবত নক্টুরিয়া নামে পরিচিত একটি সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে এটি আপনার শরীরের একটি স্বাস্থ্য সমস্যার সংকেত হতে পারে, যা খুব স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নক্টুরিয়া কেবল ঘুমের মতো ব্যাঘাতই ঘটায় না, এটি প্রতিদিনের অভ্যাস, হরমোনের পরিবর্তন বা চিকিৎসাগত অবস্থারও প্রকাশ করে, যার জন্য এদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আপনাকে যদি নিয়মিত রাতের বেলা প্রস্রাবের জন্য জাগতে হয়, তাহলে তার পেছনে এই কারণগুলো থাকতে পারে-
১. সন্ধ্যায় তরল গ্রহণ
নক্টুরিয়ার সবচেয়ে সাধারণ এবং উপেক্ষিত কারণের মধ্যে একটি হলো ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ। রাতে প্রচুর পানি, চা, কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে রাতে মূত্রাশয়ে অতিরিক্ত চাপের কারণ হতে পারে। এর মধ্যে অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন বিশেষ করে প্রস্রাব উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ঘুমের চক্র ভেঙে ফেলার জন্য দায়ী, কারণ এগুলোর মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
২. বয়স-সম্পর্কিত মূত্রাশয়ের পরিবর্তন
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মূত্রাশয়ের প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। একইভাবে হরমোনের পরিবর্তনগুলোও রাতের বেলা শরীর পানির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে প্রভাবিত করে। ফলস্বরূপ, স্বাভাবিক প্রস্রাবের পরিমাণও অতিরিক্ত বলে মনে হতে পারে, যার ফলে রাতে বেশ কয়েকবার টয়লেটে যেতে হয়, যা বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে প্রচলিত।
৩. ডায়াবেটিস বা মূত্রনালীর সমস্যার জন্য সতর্কতা চিহ্ন
রাতের বেলায় বেশ কয়েকবার প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিস মেলিটাসের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যেখানে রক্তে উচ্চ গ্লুকোজ প্রস্রাবের জন্য আরও পানিকে প্রস্রাবে পরিণত করে। এছাড়াও মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) বা মূত্রাশয়ের প্রদাহ ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ সৃষ্টি করতে পারে, এমনকী যদি মূত্রাশয় পূর্ণ না-ও থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রে বর্ধিত প্রোস্টেট হলো প্রস্রাবের প্রবাহ সীমিত করার আরেকটি কারণ এবং ফলস্বরূপ মূত্রাশয় সম্পূর্ণরূপে খালি হয় না।
৪. পা ফুলে যাওয়া এবং হৃদরোগ
নক্টুরিয়া হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী পা ফুলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত হতে পারে। দিনের বেলায় সাধারণত পায়ে তরল জমা হয়। রাতে ঘুমাতে গেলে তরল রক্তপ্রবাহে ফেরত পাঠানো হয় এবং কিডনি তা ফিল্টার করে যার ফলে ঘুমের সময় প্রস্রাবের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
৫. ঘুমের সমস্যা
নক্টুরিয়া পরোক্ষভাবে স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং অন্যান্য ঘুমের ব্যাধির কারণেও হতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাতের ফলে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয় এবং কিডনির কার্যকারিতায় পরিবর্তন আসে, যার ফলে রাতে প্রস্রাবের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
৬. কিছু ওষুধ
মূত্রবর্ধক এবং অন্যান্য ওষুধ যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের জন্য নির্ধারিত ওষুধ প্রস্রাবের প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। যদি দিনের বেলায় দেরিতে এগুলো গ্রহণ করা হয়, তাহলে রাতের প্রস্রাবের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
নক্টুরিয়া বা রাতে প্রস্রাব করার জন্য ঘুম থেকে ওঠা সবসময় ক্ষতিকারক নয়। তবে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন সতর্ক হতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে শরীর হয়তো শুরুতেই সংকেত দিচ্ছে যে আপনার বিপাক, হৃদপিণ্ড, মূত্রাশয় বা ঘুম সম্পর্কিত সমস্যা হচ্ছে।










