368448

রিকশাচালকরা যেসব দাবি নিয়ে রাস্তায় নামলেন

নিউজ ডেস্ক।। রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন পায়ে চালিত রিকশাচালকরা। বৃহত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশন রিকশা মালিক ঐক্যজোটের ব্যানারে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন চালকরা। এসময় তারা বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে পায়ে চালিত রিকশা নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন শত শত চালক। এতে মোড়ের চারপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এসময় ‘চলবে না চলবে না, অটোরিকশা চলবে না’, ‘অবৈধ অটোরিকশা চলতে দেয়া হবে না’, ‘বাংলাদেশে বৈষম্য মানি না মানবো না’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন প্যাডেল চালিত রিকশাচালকরা।

তাদের দাবিগুলো হলো-ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে রিকশা মালিকরা নতুন লাইসেন্স প্রদান ও পুরাতন লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে; সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ও বৈধ লাইসেন্সধারী রিকশা পেশাজীবীদের স্বার্থে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে চালক লাইসেন্স দিতে হবে। অসুস্থ চালকদের ফ্রি ফ্রাইডে মেডিক্যাল চিকিৎসা দিতে হবে; ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিকশা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স দিতে হবে।

আন্দোলনের বিষয়ে অবরোধকারী রিকশাচালকরা বলেন, অটোরিকশার চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ন্যায্য ভাড়া আদায় করে না। তারা যেখানে ৫০ টাকা ভাড়া, সেখানে ২০ টাকায় চলে যায়। তাদের কারণে আমরা কোনও যাত্রী পাই না। তারা আরো বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে আমরা যে টাকা কামাই করি, তা দিয়ে নিজেরাই চলতে পানি না। দিনশেষে হাতে কোনও টাকা থাকে না। পরিবারের জন্যও বাড়িতে কোনও টাকা পাঠাতে পারি না।

তাদের দাবি, আগে এলাকার অলিগলিতে অটোরিকশা চলতো, এখন তারা প্রধান সড়কে অটোরিকশা চালায়। প্রধান সড়কে অটোরিকশা ট্রাফিক আইন মেনে চলে না। এদের কারণে যানজট তৈরি হয়, দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা ইনকামের জন্য নিয়ম না মেনে ইচ্ছা মতো চালায়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের পর পুলিশ ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯ মে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক এই আটকের প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুর-১০ মোড়ে অবরোধ করেন। মিরপুরের কালশী মোড়ে বাস ভাঙচুর ও পুলিশ বক্সে আগুন দেন তারা। পরদিন ২০ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি দেন।

 

ad

পাঠকের মতামত