ঘুম থেকে তুলে সাইফকে আটক করে পুলিশ, ঘটনা দেখে স্ট্রোকে বাবার মৃ.ত্যু
নিউজ ডেস্ক।। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় লক্ষ্মীপুরে সাইফ মোহাম্মদ আলী নামে এক কলেজ ছাত্রকে বাসা থেকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয় তার বাবা সামছুল আলম মামুনের (৫২)।
সোমবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কালু হাজী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
সাইফ মোহাম্মদ আলী লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র।
তাকে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আদালতে তোলা হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত একজন আইনজীবির জিম্মায় তাকে বাবার জানাযার নামাজে অংশ নিতে জামিন দেয় আদালত।
পরিবারের লোকজন জানায়, সাইফ মোহাম্মদ আলী বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা ছিল না। মঙ্গলবার রাতে সদর থানা পুলিশ সাইফ মোহাম্মদ আলীকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় তাকে ঘুম থেকে তুলে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাবা সামছুল আলম মামুন বাধা দেয়।
ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট আছে কিনা, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে চান। তবে পুলিশ কোনো উত্তর না দিয়ে সাইফকে আটক করে নিয়ে যায়। এসময় ছেলের দুঃখে ও আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করেন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
পরে সাইফকে পুলিশের দায়েরকরা নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিন আবেদন করেন আইনজীবীরা। পরে আদালত অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলমের জিম্মায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত জামিন দেন। এ সময়টাতে বাবার জানাযার নামাজে অংশ নেয় সাইফ মোহাম্মদ আলী।
তার আইনজীবী মহসিন কবির মুরাদ বলেন, ‘সাইফ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিলনা। তাকে পুলিশের দায়েরকরা নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। এসময় তার বাবা সামছুল আলম মামুন ছেলেকে না দিতে পুলিশকে বাধা দেয়। এরপর পুলিশ সাইফকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কিত হয়ে বাসায় মামুন মারা যায়।
সাইফ মোহাম্মদ আলীর মা তাহমিনা আক্তার নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, ‘সাইফ কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। পুলিশ জোরপূর্বক ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। সব হারিয়েছি আমি। আমার আর কিছুই রইলো না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিল মজুমদার ফারুক বলেন, নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় সাইফ মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টিও শুনেছি। সাইফ ছাড়াও আরও চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। সহিংসতা ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। উৎস: সময়টিভি।










