363412

পুড়ছে ইউরোপ ,পশ্চিমেও আঁচ

ডেস্ক রিপোর্ট।। ১৯৭৬ সালে ব্রিটেন একটানা একপক্ষ, মানে ১৫ দিন, প্রখর রোদে পুড়েছিল, সেখানে পারদ চড়েছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু, সেও ছিল স্থানীয় বিপর্যয়। এখন, তীব্র তাপপ্রবাহে তেতে উঠেছে যেন বিশ্বের সব প্রান্ত। দাবদাহে বিপর্যস্ত দুনিয়া।

বিশেষ করে, এখন রোদের তাপে পুড়ছে গোটা ইউরোপ। অতলান্ত মহাসাগরের (আটলান্টিক) অপর পারেও লেগেছে রোদের কড়া আঁচ। এবং এই ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা দুর্ভোগের জন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন, ও এই সত্যের থেকে নীতি-নির্ধারকদের মুখ ফিরিয়ে রাখার অবৈজ্ঞানিক অভ্যাস। বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও ওয়াশিংটন পোস্টের বিভিন্ন

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে- গতকাল যুক্তরাজ্যে রেকর্ড ৪০.২ সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠেছিল, এমনকি এদিন ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসও হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ফ্রান্সের নান্তেসে রেকর্ড করা হয় সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এরই মধ্যে স্পেনে ৭৫ হাজার একর ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্তুগাল ও গ্রিসে বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিতেও ঝাঁ ঝাঁ করছে রোদ। যুক্তরাষ্ট্রে জারি হতে পারে জলবায়ু জরুরি অবস্থা।

‘এখন ভাবুন তো,’ বিবিসির জলবায়ু সম্পাদক জাস্টিন রওলাট গতকাল লিখেছেন এক প্রতিবেদনে, ‘শিল্প বিপ্লব ঘটার পর বৈশি^ক গড় তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো বাড়তেই এসব কাণ্ড ঘটছে।’

জাতিসংঘের জলবায়ু বিজ্ঞান সংস্থার তথ্যমতে, পৃথিবী এখন সোয়া লাখ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ সময় পার করছে। আইপিসিসি জানিয়েছে, এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন। আর এজন্য দায়ী কিন্তু মানুষ নিজেই। যেমন, বায়ুম-লে যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড মানুষ নিঃসরণ করে, তা গত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ মাত্রায় রয়েছে। গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ক্রমশ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

যুক্তরাজ্যের জলবায়ু বিজ্ঞানী এলা গিলবার্ট গতকাল দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের চরম দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ও দুর্ভোগের অভিজ্ঞতা এড়াতে চাইলে আমাদের জলবায়ু নীতি আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং এখন পর্যন্ত গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে হবে।’

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির জলবায়ু অর্থনীতিবিদ ড. স্যাম ফাঙ্কুসারকে গতকাল উদ্ধৃত করেছে বিবিসি নিউজ, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে কীরূপ ভয়াল হতে পারে, আজকের রেকর্ড তাপমাত্রা সেই কথাই চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে। এও মনে করিয়ে দিচ্ছে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমাতেই হবে, জলবায়ুকে স্থিতিশীল করতে হবে।’

জয়বায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘের অফিসিয়াল টুইটারে গতকাল বলা হয়েছে, ‘এই বছর রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই তাদের জাতীয় জলবায়ু রূপকল্প নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেই রাখতে হবে।’

 

ad

পাঠকের মতামত