ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে সুইটির শরীর পুড়িয়ে দেন তারা
ডেস্ক রিপোর্ট : গৃহকর্মী সুইটিকে মশা মারার ব্যাট দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। রুটি বানানোর বেলনা দিয়ে তার দুই হাত, পায়ের হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন গৃহকর্তা তানভির আহসান ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট নাহিদ।
গত ১ জুলাই রাত ১০টার দিকে সুইটিকে জামা-কাপড় খুলে মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে শরীরের মাংস পুড়িয়ে দেন তারা। আঘাত করা স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে ছোপ ছোপ চিহ্ন পড়ে আছে। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এরপর গতকাল সোমবার (৫ জুলাই) সুইটির বাবা শহিদ মিয়া শাহবাগ থানায় তানভীর আহসান ও তার স্ত্রী নাহিদ জাহানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ৯ মাস আগে সুইটিকে কাজের জন্য নিয়ে আসেন ওই দম্পতি। পরবর্তীতে সে কাজ করতে পারে না বলে বিভিন্ন অজুহাতে নানা সময়ে তাকে মারধর করেন তারা। গত ১ জুলাই রাত ১০টার দিকে সুইটিকে জামা-কাপড় খুলে মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে তার শরীরের মাংস পুড়িয়ে ফেলেন তারা।
নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আবেদনে আরও বলা হয়, পাভেল ও আঁখি রুটি তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠের বেলুন দিয়ে সুইটির বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে দেয়। নাহিদ সুইটির যৌনাঙ্গে কাঠের বেলুন ঢুকিয়ে নির্যাতন করে। এতে যৌনাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত হয়।
তার চোখে, মুখে ও যৌনাঙ্গে মরিচও লাগিয়ে দেওয়া হয়। সুইটি জীবন বাঁচানোর জন্য আসামিদের বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে দুই দিন বাথরুমে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে খেতে দেওয়া হয়নি। ৩ জুলাই সুইটি বাথরুম থেকে বের হয়ে তাদের ঘরে থাকা বিস্কুট খেলে আসামিরা তাকে রাত ১টার দিকে আবার মারপিট করে। সুইটি কৌশলে আসামিদের বাসা থেকে পালিয়ে একজনের বাসায় আশ্রয় নেয়। বাংলাট্রিবিউন




