355460

রাসুলুূল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনী রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব’

ধর্মবার্তা।। মানুষের সঙ্গে অহেতুক শত্রুতা করা জঘন্য পাপ। কিছু মানুষের সঙ্গে শত্রুতা করা এতটাই ভয়াবহ অপরাধ যে মহান আল্লাহ নিজেই সেই অপরাধীদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন।

এ ধরনের লোকদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, তাদের ব্যাপারে মিথ্যা ছড়ানো আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর নামান্তর। আবু হুরায়রাহ (রা.) বলেন, রাসুলুূল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনী রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

প্রশ্ন হলো, ওলি কারা, যাঁদের সঙ্গে শত্রুতার পরিণাম এতটা ভয়াবহ? পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ওলিদের পরিচয় দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘(তাঁরাই আল্লাহর ওলি) যারা ঈমান আনে এবং তাকওয়া (পরহেজগারি) অবলম্বন করে।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৬৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ওলি হলেন আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনরা, যারা বিনয়াবনত হয়ে নামাজ আদায় করে ও জাকাত দেয়।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৫৫)

‘ওলি’ শব্দটি মূলত আরবি। এর অর্থ অভিভাবক, মুরব্বি, বন্ধু। আরবি ভাষায় ‘আউলিয়া’ শব্দটি ‘ওলি’র বহুবচন। শব্দগতভাবে কখনো কখনো ওলি শব্দের অর্থ করা হয় শাসক, অভিভাবক বা কর্তা।

উপরোক্ত আয়াতে ঈমানদার ও মুত্তাকিদের আল্লাহর ওলি বলা হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক হাদিসে ওলিদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সাইদ ইবনে জুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর ওলি কারা?’ মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যাদের দেখলে আল্লাহর কথা মনে হয়।’ (ইবনে মাজাহ, ইবনে কাসির)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে, যারা নবীও নয়, শহীদও নয়। কিন্তু কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা দেখে নবী ও শহীদরা তাদের ওপর ঈর্ষা করবেন।’ মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা সেসব লোক, যারা কেবল আল্লাহর জন্য একে অন্যকে ভালোবাসে। তাদের মধ্যে নেই কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক, নেই কোনো ধনসম্পদের সম্পর্ক। (কেয়ামতের দিন) তাদের চেহারা হবে নূরানি (উজ্জ্বল)। তারা নূরের মিম্বরের ওপর থাকবে। যখন মানুষ ভয় পায়, তখন তারা ভয় পাবে না। যখন মানুষ দুঃখ পায়, তখন তারা দুঃখ পাবে না।’ তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) ওপরে উল্লিখিত আয়াত পাঠ করেন। (আবু দাউদ ও তাফসিরে মুনির)

উল্লিখিত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ ছাড়া আল্লাহর ওলি হওয়ার সুযোগ নেই। যারা নিজেদের জীবনকে ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেছে। নিজেদের জীবনে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে, তারাই ওলি। পৃথিবীর পার্থিব স্বার্থে তাদের সঙ্গে শত্রুতায় জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এর পরিণাম হাজারটা দুনিয়া দিয়েও সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ সবাইকে সুবুদ্ধি দান করুন।

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *