355379

মহামারি করোনায় মুসলমানদের করণীয়

ইসলামি ডেস্ক।। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাকে পরীক্ষা করার জন্য বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ফেলে থাকেন। মহামারি তার অন্যতম।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

করোনাভাইরাস হয়তো এই পরীক্ষার অংশ। এই ভাইরাসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, বাড়ছে মানুষের আহাজারি। মানুষ হারাচ্ছে কর্ম। বাড়ছে ভীতি। করোনাভাইরাসই যেন এখন একমাত্র আলোচ্য বিষয়। নিম্নে মহামারি করোনায় মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

আক্রান্তদের চিকিৎসা ও মৃত ব্যক্তিদের কাফন-দাফনের সুব্যবস্থা করা
যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা ও তাদের পরিবার পরিজনের পাশে দাঁড়ানো এবং যারা ইন্তেকাল করেছে তাদের কাফন-দাফনে শরিক হওয়া আমাদের দায়িত্ব। অবশ্য সব কিছু করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। হয়তো এর অসিলায় মহান রব তাঁর বিশেষ করুণায় আমাদের এ ঘাতক ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে পারেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ আদায় করল তার জন্য এক কিরাত পরিমাণ সওয়াব আর যে ব্যক্তি মৃতের সঙ্গে থাকল কবরে রাখা পর্যন্ত তবে তার জন্য দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব আছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবু হুরায়রা, কিরাত কী? তিনি বলেন, উহুদ পাহাড়ের সম পরিমাণ।’ (মুসলিম, ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ২৬৪)

অভাবীদের খাদ্য-বস্ত্রের ব্যবস্থা করা : এ মহামারির সময়ে যারা অর্ধাহারে/অনাহারে আছে তাদের খাদ্য-বস্ত্রের ব্যবস্থা করা প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের ওপর বর্তায়। প্রতিবেশীর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আশপাশে ৪০ বাড়ি পর্যন্ত সবাই প্রতিবেশী।’ স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে পাশাপাশি বসবাসকারী কিংবা সামাজিকভাবে আশপাশে অবস্থানকারী এবং চলারপথে সহযাত্রীরাও প্রতিবেশী বলে গণ্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর গোলামি করো; তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না; মাতা-পিতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো। নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের সঙ্গে ভালো আচরণ করো এবং আত্মীয় প্রতিবেশী ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধীনে যেসব দাস-দাসী আছে তাদের প্রতি সদয় হও। নিশ্চয়ই জেনে রেখো যে আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না যে বড় হওয়ার গৌরব করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৬)

অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা
এ মহামারিতে যারা কর্ম হারিয়েছেন এবং কর্ম হারাতে যাচ্ছেন আর এর ফলে যে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে এ ক্ষেত্রে আমাদের যাদের এখনো কর্ম আছে তাদের করণীয় রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, আমরা কী খরচ করব? জবাব দিন, যে সম্পদ তোমরা খরচ করবে তা নিজের জন্য, মাতা-পিতার জন্য, আত্মীয়-স্বজনের জন্য, এতিম ও মিসকিনদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৫)।

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে আছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ১৯)
এ আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, সব দায় সরকারের কাঁধে দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে আমরা বাঁচতে পারব না। সুতরাং সম্পদ থেকে অভাবীদের কিছু অংশ দান করা তাদের অধিকার।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা : চিকিৎসকরা মনে করেন করোনা থেকে বাঁচার অন্যতম প্রধান উপায় হলো পরিচ্ছন্ন বা পবিত্র জীবন যাপন করা এবং বারবার হাত ধোয়া। এ ক্ষেত্রে মহান রবের বাণী শুনুন, ‘…আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন, যারা পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে ও পবিত্রতার পথে চলে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২২২)

মহান রব আরো বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা যখন নামাজে দাঁড়াতে উদ্যত হও তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত কর। আর তোমরা তোমাদের মাথা মাসেহ কর এবং পা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করো।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৬)

এ আয়াত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শরীরের যেসব পয়েন্ট দিয়ে আবর্জনা ও জীবাণু প্রবেশ করার আশঙ্কা থাকে নামাজের আগে সে পয়েন্টগুলোই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হয়!

সদকা বিপদ-আপদ ও রোগ-ব্যাধি দূর করে: মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের রোগীদের চিকিৎসা সদকা দ্বারা করো। (তাবরানি, হাদিস : ১০১৯৬)
মনে রাখতে হবে দান/সদকা/জাকাতে সম্পদ কমে না; বরং বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ঋণ দাও উত্তম ঋণ, তাহলে তিনি তা বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন এবং তিনি তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বড়ই গুণগ্রাহী ও পরম সহনশীল।’ (সুরা তাগাবুন, আয়াত : ১৭)

মহামারিতে ইন্তেকালকারীদের জন্য সুখবর: যার জন্ম আছে তার মৃত্যুও আছে। তবে একটা ভালো মৃত্যু এবং মৃত্যুর পর একটা সুন্দর জীবন সবাই আশা করে। আর শহীদি মৃত্যু তো সবাই লালন করে। যে মৃত্যু বীরের মৃত্যু তার জন্য জান্নাত অপেক্ষমাণ। যারা এই মহামারিতে ইন্তেকাল করেছে তাদের জন্য আছে সুখবর। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদে নিহত হওয়া ছাড়া আরো সাত শ্রেণির শহীদ আছে—১। মহামারি রোগে মৃত্যু; ২। পানিতে ডুবে মৃত্যু; ৩। শ্বাস কষ্ট রোগে মৃত্যু; ৪। পেটের পীড়ায় মৃত্যু; ৫। পুড়ে গিয়ে মৃত্যু; ৬। চাপা পড়ে মৃত্যু; ৭। সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মৃত্যু। (আবু দাউদ, আয়াত : হাদিস : ৩১১১)

আমরা ইতিমধ্যে যাদের হারিয়েছি, দোয়া করি মহান রব যেন তাঁর বিশেষ করুণায় তাঁদের সবাইকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। আমিন! সুম্মা আমিন! সূত্র: কালের কণ্ঠ

লেখক : প্রশিক্ষক শ্রেণি ‘বি’ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম। [email protected]

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *