354173

খাশোগি হত্যা নিয়ে মার্কিন প্রতিবেদন: কী বলছে সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। বহুল আলোচিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই প্রতিবেদনে সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ সালমানকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রশাসনের ভেতরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, জামাল খাশোগিকে হত্যা অথবা অপহরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবরাজ সালমান।

তবে এ প্রতিবেদনকে অগ্রহণযোগ্য, নেতিবাচক ও মিথ্যা বলে বর্ণনা করেছে রিয়াদ। খবর বিবিসি।

খাশোগি হত্যা নিয়ে মার্কিন প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি প্রকাশ হয় শুক্রবার। যদিও প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুদিন আগেই প্রকাশ করেছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্স জানিয়েছে, জামাল খাশোগি হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে যুবরাজ সালমানের নাম আসছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পরও সেটিই দেখা গেল। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো ও ঘনিষ্ঠ মিত্র হলো সৌদি আরব। এ প্রতিবেদনের কারণে রিয়াদ-ওয়াশিংটন সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কূটনীতিক মহলের নানা মত রয়েছে।

মার্কিন ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাশোগিকে আটক কিংবা হত্যার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেন যুবরাজ সালমান। যদিও শুরু থেকেই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন যুবরাজ। এদিকে প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে রিয়াদ। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সৌদি আরবের নেতৃত্বকে জড়িয়ে এ প্রতিবেদনে যে মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়েছে, তা পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করছে সরকার। এ প্রতিবেদনে যে তথ্য ও উপসংহার হাজির করা হয়েছে তা যথার্থ।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অপরাধটি এমন এক দল ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল, যারা সব প্রাসঙ্গিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। এ ধরনের ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি নেতৃত্ব।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে ‘পাশ কাটানোর’ কৌশল নিয়েছিলেন। তবে বাইডেন নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বাইডেন সৌদি বাদশার সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন।

 

ad

পাঠকের মতামত