353737

করোনার টিকা না নিলে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনার টিকা না নিলে বিভাগীয় মামলা করা হবে। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় কর্মরত সব শিক্ষক এবং কর্মচারীর উদ্দেশে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেন। এরই মধ্যে মেইল পাঠিয়ে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের আদেশটি জানানো হয়েছে।

এদিকে আদেশের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ আদেশকে এখতিয়ারবহির্ভূত উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে হয়রানির আশঙ্কা থেকে আবার কেউ কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

কলেজ শিক্ষক সমিতির নেতারা বলছেন, টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক নয়। সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কীভাবে এমন আদেশ দিলেন তা বোধগম্য নয়। তার দেয়া ওই নির্দেশনা অনতি বিলম্বে প্রত্যাহার না হলে আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন তারা।

টিকা গ্রহণের আদেশে লেখা রয়েছে, নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আদেশটিতে স্বাক্ষর করেন। তাতে বলা হয়েছে, উপজেলায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় কর্মরত সব শিক্ষক ও কর্মচারীকে জানানো যাচ্ছে যে, দেশব্যাপী কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদানের কার্যক্রম চলমান। তারই প্রেক্ষিতে উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় কর্মরত সব শিক্ষক এবং কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করতে হবে। এরপর একটি ছক মোতাবেক তথ্য ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।এরপর লেখা রয়েছে, যারা নির্দেশনা সত্ত্বেও টিকা গ্রহণ করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে অনুরোধ করা হলো। আদেশের নিচের দিকে ছকে ক্রমিক, শিক্ষক-কর্মচারীর নাম, পদবি, টিকাগ্রহণ করেছেন কিনা? মন্তব্য লেখা কোট করা ছিল। এরপর ছকের নিচে লেখা ছিল বিষয়টি অতীব জরুরি।

নেছারাবাদ উপজেলার আলকির হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শনিবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে মেইল দেয়া হয়েছে। সেখানে টিকা গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছে। পাশাপাশি টিকা না নিলে বিভাগীয় মামলার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এটা উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল না। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্বরূপকাঠি কলেজিয়েট একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ওবায়দুল হক বলেন, এরকম একটি আদেশের কথা শুনেছি। এভাবে আদেশ দিয়ে কাউকে টিকা নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।

নেছারাবাদ উপজেলার কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আলহাজ আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে পাঠানো মেইলটি বুধবার সকালে পড়েছি। মেইলে করোনার টিকা না নিলে বিভাগীয় মামলার নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি এভাবে লিখতে পারেন না। এটা তার এখতিয়ারবহির্ভূত।

তিনি আরও বলেন, আদেশটি পড়ার পর বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম, কিসের ভিত্তিতে বা কার নির্দেশনায় বিভাগীয় মামলা রুজুর কথা লিখেছেন। জবাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন উপরের নির্দেশনা রয়েছে। তবে কে ওই নির্দেশনা দিয়েছেন জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির বরিশাল বিভাগের সভাপতি মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, টিকা সংক্রান্ত এখতিয়ারবহির্ভূত ওই আদেশের কারণে শিক্ষা অফিসারকে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা দরকার। ওই নির্দেশ দ্রুত প্রত্যাহার না হলে শিক্ষক সমিতি আদালত এবং আন্দোলনে নামবে।

নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উপজেলায় ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের টিকা নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মেইলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় টিকা না নিলে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার দফতরে গিয়ে দেখা করে তথ্য নিতে বলে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার তার মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পিরোজপুর জেলা মাধ্যমিক অফিসার মো. ইদ্রিস আলী আজিজি জানান, টিকা নিয়ে কী নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, টিকা নেয়ার বিষয়ে জোরাজুরির কিছু নেই। কাউকে চাপ দিয়ে নির্দেশনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতর থেকে দেয়া হয়নি।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিভাগের ছয় জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জুম অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে জেলার সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের ৫২ কর্মকর্তা কনফারেন্সে অংশ নেন। তবে ওই কনফারেন্সে কােনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অংশ নেয়নি। এছাড়া কনফারেন্সে স্বেচ্ছায় টিকা নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা নির্দেশানা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনভাবেই কাউকে হুমকিমূলক আদেশ বা চাপ প্রয়োগের কথা বলা হয়নি।  সূত্র-বিডিমর্নিং ও আমাদেরসময়.কম।

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *