352693

আমিও তার ব্যতিক্রম নই : বুবলী

বিনোদন ডেস্ক।। প্রায় ১১ মাস লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন হালের জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী বুবলী। এরপর চলতি বছরের প্রথম দিকে আড়াল ভেঙে কয়েকটি গণমাধ্যমে কথা বলেন। যেসব খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আবারও নড়েচড়ে ওঠেন বুবলী ভক্তরা। এরই মাঝে আকর্ষণীয় লুকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন নিয়মিত। এসব মাধ্যমে তিনি এখন বেশ সরব বললেই চলে। অভিনয়ে ফেরা, নতুন চলচ্চিত্র ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বুবলীর সঙ্গে কথা বলেছেন একটি জাতীয় দৈনিক।

প্রশ্ন : আড়াল ভেঙে হঠাৎ কেন অ্যাকটিভ সোশ্যাল মিডিয়াতে…
বুবলী : দেখুন, সবারই একটা অভিযোগ ছিলো। যখন শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতাম তখনো দর্শক-সহকর্মীদের অভিযোগ, চাপা অভিমান ও একটা দুঃখ ছিল যে আমাকে তারা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ কোথাও আমি কেন অ্যাকটিভ না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো আপডেট কেন নেই। যেখানে সময় ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ-বিদেশের তারকারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ও ইউটিউবে খুব অ্যাকটিভ। তো সেই জায়গা থেকে কোভিড-১৯ এর প্যানডেমিকে অনেক ব্যাপারে রিয়েলাইজেশন এসেছে। যেমন আমার মনে হলো দর্শকের সাথে একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ রয়েছে, যা পূর্ণ করা দরকার। কারণ তাদের একটা এক্সপেক্টেশন থাকে। আসলে সেই জায়গা থেকে আমার নতুন বছরে নতুন নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাকটিভ থাকা অন্যতম। অলরেডি শুরুও করেছি। খেয়াল করবেন বছরের প্রথম থেকেই আমি চাচ্ছি আমার দর্শক ও সহকর্মীদের সাথে কানেক্টেড থাকতে। আরেকটা ইস্যু হচ্ছে, আমাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। সেই জায়গা থেকে সঠিক তথ্যগুলো দেয়ার চেষ্টা করছি, যাতে করে বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে আসলে কোনটা ফেইক আর কোনটা অরিজিনাল।

প্রশ্ন : ইউটিউব নিয়ে কিছু বললেন না যে…
বুবলী : আসলে ইউটিউবের বিষয়টি হচ্ছে, আরেকটা বড় প্ল্যাটফর্ম যা দর্শকের সাথে যোগাযোগ বাড়ায়। আমি চাচ্ছি ইন ফিউচারে এখানে বড় আকারে কিছু করতে। এটা সুন্দর একটা জায়গা যেখান থেকে নানান মেসেজ দিতে পারি দর্শকদের। পার্সোনাল ব্লগ, মুভির কাজ যাবতীয় সব আপডেট এখন থেকে ইউটিউবে থাকবে। প্রতিমাসেই নতুন নতুন আপডেট থাকবে- এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমি মূলত ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের পাশাপাশি ইউটিউবেও সরব হচ্ছি।

প্রশ্ন : নিউ নরমাল লাইফের মতো বুবলীকেও কি নতুনভাবে পাচ্ছি আমরা?
বুবলী : সত্যিকার অর্থে করোনার কারণে এখন আমাদের কাজের পরিসরটা খুবই সীমিত। এখন যদি আমরা কথা বলার জন্য বলি যে, না অনেক কাজের প্রস্তাব আসছে, ফিরিয়ে দিচ্ছি সময় পাচ্ছি না। এগুলো আসলে কথা বলার জন্য বলা হবে। সত্যিকার অর্থে এখন কাজের পরিমাণ অনেক কম সবাই সেফটি-সিকিউরিটি মেইনটেইন করে কাজে ফিরছে। সেই জায়গা থেকে আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমার সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে। এর মধ্যে একটা দুইটা প্রজেক্ট নিয়ে কথা হচ্ছে, শীঘ্রই ফাইনালি জানাতে পারবো কোনটা করছি।

প্রশ্ন : নতুন কোনো টিভিসির পরিকল্পনা আছে কিনা?
বুবলী : আসলে টিভিসি বা ছোটপর্দার বিজ্ঞাপন চিত্রের ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। তবে একটা বিষয় শুরু থেকেই মেইনটেইন করি সেটা হচ্ছে প্রোডাক্টটা কতটুকু মানসম্মত। কারণ আমি প্রোডাক্টটি প্রমোট করবো- আমার উপর আস্থা রেখেই মানুষ সেটার দিকে যাবে। সেজন্য আমি চাই ওই আস্থাটা ধরে রাখতে। এক্ষেত্রে প্রোডাক্টটা আসলে কি তার উপর বেশি গুরুত্ব দেই। তাই সময় নিয়ে বাছাই করা কাজগুলো করার চেষ্টা করি। ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই সব মাধ্যমেই আমাকে দেখতে পাবেন।

প্রশ্ন : ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো কাজ শুরু করেননি, তো কিভাবে সময় কাটছে?
বুবলী : হা. হা.. হা… প্রত্যাবর্তনের জন্য এই টার্ম বা শব্দটা ভালোই বললেন। আসলে গেল বছর ২০২০-এ করোনার প্যানডেমিক সময়টাতে বেঁচে থাকাটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল। ওইটা এখনো রয়েছে, যার রেশ কাটেনি। এখনো কিন্তু করোনা যায়নি। তো চলতি বছরেও সেই বিষয়গুলো মেইনটেইন করতে হচ্ছে। এর মধ্যেও আমাদের প্রফেশন ও বেঁচে থাকার লড়াইটা চলমান। এখন বেঁচে থাকাটা যেমন চ্যালেঞ্জিং তেমন সার্ভাইভ করাটাও চ্যালেঞ্জিং। সেই জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে কথা হচ্ছে। ওভাবেই যাচ্ছে আসলে।

প্রশ্ন : এখন অনেকেই খামার করছেন, কেউ বুটিক হাউস বা কেউ ফ্যাশন হাউস খুলছেন। এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
বুবলী : আসলে এই মুহূর্তে আমার ওরকম কোন পরিকল্পনা নেই। কারণ ২০২০ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে- কখন কি হয় আমরা বলতে পারি না। এই জন্য আমি ফিউচার নিয়ে ভাবি না। কখন কি হবে তা সময়ই ভালো বলতে পারবে। মূলত সময়ই মানুষকে পথ দেখিয়ে দেয়, বলতে গেলে সময় মানুষকে বাধ্য করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। তো ওই জায়গা থেকে চিন্তা করে আমি এখন ফিল্ম নিয়েই থাকতে চাই। আপাতত ফিল্ম নিয়ে ভাবছি এর বাইরে অন্য কিছু মাথায় নেই। কোনো হতাশার কথা বলতে চাই না। আর এটাও ঠিক যে জীবিকার ক্ষেত্রে একটা সাপোর্ট থাকা দরকার। আমার কাছে মনে হয় বর্তমান সময়টাতে আমরা একটু পজিটিভ থাকি। যারা যে মাধ্যমেই কাজ করছি, ওটা নিয়েই পজিটিভ থাকি। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু আসবে।

প্রশ্ন : অনেকেই ওয়েব সিরিজ বা অনলাইন বেইজড কন্টেন্টে কাজ করছেন। নতুন এ মাধ্যম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
বুবলী : আমি খুবই সাধুবাদ জানাই। কারণ আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন কিন্তু কখনো ভাবিনি যে গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আসবে। সময়ের চাহিদার কারণে এগুলো কিন্তু এসেছে এবং একটু সময় লাগলেও আমরা কিন্তু এটা গ্রহণ করছি। মজার বিষয় হচ্ছে মানুষ এখন এগুলো স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছে। তবে এসব কনটেন্ট মোবাইল কিংবা কম্পিউটার-ল্যাপটপ-আইপ্যাডে দেখি না কেন, ব্যক্তিগতভাবে চাইবো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি বড়পর্দার যে ঐতিহ্য তাও যেন বজায় থাকে। তবে এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে সময়ের চাহিদা কোনভাবে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গেল বছর বড় বড় বাজেটের বলিউড-হলিউড সিনেমা কিন্তু নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গেছে। তাই ব্যাটে-বলে মিললে আমাকেও দেখা যাবে এই মাধ্যমে। উৎস: বিডি-প্রতিদিন।

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *