প্রেম, বিয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করায় অবশেষে যা জানালেন নায়িকা বুবলী
বিনোদন ডস্ক।। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর। সবে প্রস্তুতি নিচ্ছি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে। এরই মাঝে বেজে উঠলো মুঠোফোনের রিংটোন। মুঠোফোনের ডিসপ্লেকে অনেকটা ওভারলুক করে ফোনটা ধরা হল।
অপরপ্রান্ত থেকে বলল “কেমন আছেন, রাসেল ভাই… বুবলী বলছি”। এটা শোনার পর কান থেকে মুঠোফোনটা সরিয়ে ভালো করে ডিসপ্লেতে তাকালাম, দেখলাম বুবলী নাম শো হচ্ছে। এবার জিজ্ঞেস করলাম সত্যি বুবলী, নাকি বুবলীর ভূত? অপরপ্রান্ত থেকে অট্টহাসির শব্দ শোনা গেল। বললেন, “এ কেমন কথা।
যে দু’একজনের সঙ্গে এ সময় যোগাযোগ হতো তাদের মধ্যে আপনিও তো ছিলেন। তাহলে ভূত বলছেন কেন?” মুখের কথা কেড়ে নিয়ে উল্টো বললাম, গত ১১ মাসে যে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি তার মধ্যে ৬০ ভাগ সফল হয়েছি। বাকি ৪০ ভাগ হইনি। এছাড়া আপনি নিজে কখনো এর মধ্যে ফোন দেননি। যোগাযোগ করলে রিপ্লাই দিয়েছেন। স্বেচ্ছায় ফোন দিয়েছেন তাই ভূত-ভূত মনে হলো।
কথা না বাড়িয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়লাম, এগার মাস আড়ালে ছিলেন। এবার সত্যিটা বলুন, এটা কি স্ট্যান্টবাজি না কোনো রিকভারির জন্য? বুবলী বলেন, “প্রথমত, আমি যখন টানা কাজ করি তখন কাজের ক্ষেত্রে সবাই কিন্তু আমাকে পায়। এমন কিন্তু কখনো হয়নি যে একটা কাজের জন্য কাউকে কথা দিয়েছি কিন্তু সেটা রাখিনি। যখন কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকি তখন অবশ্যই আমাকে পাওয়া যায়। কিন্তু যখন ব্যক্তিগত কোন বিষয় চলে আসে তখন ওভাবে আড়ালে থাকা হয়। এবারও একই ঘটনা, কিছু পার্সোনাল রিজন ছিল…” এবারও মুখের কথা কেড়ে নিয়ে উল্টো প্রশ্ন ছুড়লাম, ‘ব্যক্তিগত কারণের কথা বলছেন। তাহলে কি সেটা বলা যাবে কি?’ বললেন, “গত বছরই প্লান ছিল সময় পেলে কিছু প্রফেশনাল কোর্স করবো। সে উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারির শেষে নিউ ইয়র্কে যাই। যদিও করোনা ও লকডাউনের কারণে কোর্সটা খুব অল্পসময়েই শেষ হয়েছে। আর ব্যক্তিগত? আসলে সবকিছুরই একটা সঠিক সময় দরকার।
গত কয়েক বছর ধরে আমাকে নিয়ে খুব গুঞ্জন। আমার প্রেম, আমার বিয়ে- সব শেষে সন্তান হওয়া নিয়ে গুঞ্জন। এসবের পেছনে যখন কেউ কেউ একতরফাভাবে কথা বলে মনের মাধুর্য দিয়ে, তখন কিন্তু মানুষজন তাদের মতো করে বিচার করে। তবে আমি দর্শকদের তাদের আগ্রহের জায়গা থেকে ধন্যবাদ ও সম্মান জানাবো।
তারাও আমার থেকে অনেক কিছু শুনতে চান যেটা স্বাভাবিক। এমনকি এসব গুঞ্জন নিয়ে সাংবাদিকরা আমাকে আমার দিক থেকে বিষয়টি খোলাসা করতে বলেছেন। কিন্তু এই জায়গা থেকে বিষয়টা এত বেশি সেনসিটিভ যে আমি হুট করে কিছু বলতে চাই না। আসলে সব কিছুর একটা প্রপার টাইম আছে, সময় হলে বিষয়গুলো আমি জানাবো। আমরা যতই বলি ব্যক্তিগত বিষয়গুলো আমাদের মধ্যে রাখবো, আসলে সেটা হয় না। যেহেতু আমরা মিডিয়াতে কাজ করি।”
তাহলে কিন্তু নতুন রিউমার ছড়াবে যে ‘যা রটে তার কিছুতো বটে’। তার মানে যেটা শোনা যাচ্ছে সেটা সত্য। অথবা মৌনতা সম্মতির লক্ষণ, এটাই কী ধরে নেবো? “দেখুন, সববিষয় কেন জানাতেই হবে? ব্যক্তিগত সে বিষয়গুলো জানাবো যা নিয়ে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু আমি ওটাও করতে চাই না যেটা বা যাতে কাজের থেকে পারসোনাল বিষয়গুলো বেশি ফোকাসড হয়। অনেকেই আছেন যারা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে লাইমলাইটে থাকতে চায়।
আমি ওটা চাইনি বলে শুরু থেকেই এড়িয়ে যাই। কিন্তু দিন শেষে মানুষের কিছু জায়গায় ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি এখনো রয়েছে। যার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি হয়তো আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো ভবিষ্যতে শেয়ার করবো। না হলে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো ব্যক্তিগতই রাখতাম। কিন্তু আমরা যেহেতু মিডিয়াতে কাজ করি মানুষের আগ্রহের একটা জায়গা থাকে। সেটাকে সম্মান জানিয়ে আমি দর্শকদের বলবো, তারা যেন বিষয়টা আমার মুখ থেকে জেনে বিশ্বাস করে, তার আগে অন্য কোনো কথায় কান না দেয়।”




