ছেলের কবর খুঁড়ছেন বাবা
নিউজ ডেস্ক।। সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ারে ছেলে নিহত হয়েছেন। নিয়মানুযায়ী ‘জঙ্গি’র তকমা দেওয়া নিহত ছেলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি প্রশাসন। অজানা কোনো কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছে।
এদিকে একমাত্র ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় হাতের কড় গুণে দিন গুনছেন বাবা। চোখের পানি মুছে নিজেই পারিবারিক কবরস্থানে সন্তানের জন্য কবর খুঁড়ে রেখেছেন। আর এখানেই সমাধিস্থ করতে চান ছেলেকে।
গত বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ভারতের শ্রীনগর লাগোয়া লইয়াপোরা এলাকায় আতার মুস্তাক, জুবের আহমেদ ও আজাজ আহমেদ নামে ৩ জন তরুণ নিহত হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ৩ তরুণ ‘জঙ্গি’শ্রীনগর-বারামুলা মহাসড়কে হামলার জন্য পরিকল্পনা করছিল। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীদের এমন দাবি নিহতের আত্মীয়রা মানছেন না। তারা বলছেন, ওই ৩ জন নির্দোষ। ভুয়া সংঘর্ষে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের মধ্যে আতার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ক্রসফায়ারের পর ৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কারো মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মরদেহগুলো সেনামর্গের অজানা কোনো জায়গায় সমাধিস্থ করা হয়েছে।
এদিকে একমাত্র সন্তানের মরদেহ ফেরত দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার থেকে। নিহত আতারের বাবা মুস্তাক আহমেদ ওয়ানি ছেলের জন্য কবর খুঁড়ছেন। কবরের মাটি সরাতে সরাতে আতারের বাবা বলেন, ছেলের দেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকব। আমি যাতে পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ করতে পারি। আমার ছেলে নির্দোষ। ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে তাকে।
নিজের খোঁড়া কবরে শেষবারের মতো একমাত্র সন্তানকে শুইয়ে দিতে চাইছেন আতারের বাবা। ছেলের দেহ ফেরত পাওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গেও দেখা করতে চান। চোখের পানি আটকে বলেন, দেহ ফেরত না পেলে আত্মহত্যা করব। তার মতো একই কথা বলেন ক্রসফায়ারে নিহত জুবের ও আজাজের পরিবারের সদস্যরা।




