আমার ছেলে চোর নয়, গুজব ছড়াবেন না: হত্যার শিকার মুসলিম যুবকের মা
দু’দিন আগে ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় গরু চোর সন্দেহে ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলমগীরকে পিটিয়ে হ’ত্যা করে একদল হিন্দু উগ্রবাদী। ছেলেকে হারিয়ে শোকার্ত মা নুরজাহান বলেন, ‘আমার ছেলে চোর নয়, সবাই মিথ্যে গুজব ছড়াচ্ছে; তারা আমার সন্তানকে হ’ত্যা করেছে।’
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে পাটনার পার্শ্ববর্তী ফুলওয়ারি শরীফে নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, গরু চোর সন্দেহে তাকে হ’ত্যা করা হয়েছে। তবে, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে নিহতদের পরিবার।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আলমগীরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তিন ঘণ্টা অব্যাহতভাবে মারধর করে উগ্রবাদীরা। তারপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত আলমগীর এদিন বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দুই কন্যা সন্তান এবং স্ত্রী রেখে গেছেন আলমগীর।
নুরজাহান বলেন, একমাত্র উপার্জনক্ষম আলগমীর পরিবার চালানোর জন্য লড়াই করে যাচ্ছিল। তাকে হ’ত্যা করায় এখন চারদিকে অন্ধকার দেখছি। আলমগীর হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করার জন্য সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান নুরজাহান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যকে প্রতিবেশী তৌহিদ আলম বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় আলমগীরের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মধ্যে দিয়ে পরিবারের সব আশা-স্বপ্ন চুরমার হয়েছে গেছে। সে চোর নয়; গরিব মুসলিম পরিবারটিকে নিয়ে হত্যাকারীরা মিথ্যে গুজব ছড়াচ্ছে ।
নুরজাহানের করা মামলায় অভিযুক্ত ছয়জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিহারে মুসলিমবিরোধী সংঘাতের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুসলিমদের কণ্ঠস্বর অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।
বলেন, কোনো মুসলমানকে হত্যার পর তাৎক্ষণিকভাবে একটি গল্প সাজানো হয় যে, তারা সন্দেহের কারণে হ’ত্যা করেছে! সন্দেহের কথা বলে, তারা কাপুরুষিত নির্যাতন, মানুষ হ’ত্যাকে ন্যায্যতা দিতে চায়।
‘ভুক্তভোগীকে যখন ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে দেখা হয় তখন মানবতার আর কি বাকি থাকে?’
‘গরু রক্ষা, জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করাসহ নানা কারণে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা উগ্রবাদী হিন্দুদের হাতে নির্যাতন, হত্যার শিকার হচ্ছেন। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) জয় শ্রী রাম স্লোগান নিয়ে কথা বলেছেন নোবেল বিজয়ী ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।
বলেন, জয় শ্রী রাম মানুষ হত্যার অজুহাত।
জয়দেবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া ভাষণে দরিদ্রতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়ানোর মাধ্যমে গরিব মানুষের দুর্দশা কমানো যাবে না। গরিব মানুষের দুর্দশা কমানোর জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, সঠিক শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।




