আর্জেন্টিনার টাকায় ম্যারাডোনা
গত কয়েকদিন আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। তার সম্মানে নাপোলির স্তাদিও সান পাওলো স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাখা হয়েছে ম্যারাডোনার নামে। এবার ম্যারাডোনার ইতিহাসকে আরও শক্ত করতে ম্যারাডোনার ছবিসংবলিত ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাংক আর্জেন্টিনাকে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে এক হাজার আর্জেন্টাইন ডলার বা তার বেশি মূল্যমানের কমপক্ষে অর্ধেক নোটে দিয়েগো ম্যারাডোনার ছবি দিতে হবে। নোটের অন্যদিকে ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা দ্বিতীয় গোলের মুহূর্ত দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী বছর ম্যারাডোনার পুরো ক্যারিয়ারের মুহূর্তগুলো নিয়ে স্ট্যাম্প ছাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে ম্যারাডোনা যত ক্লাবে ছিলেন, সেসবের স্মৃতি ধরে রাখতেই এই প্রস্তাব।
এদিকে, ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর থেকে একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার জানা গেল বেশ গোপন একটি তথ্য। প্রতি মাসে দাতব্য কাজে মিলিয়ন মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করতেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তার আশেপাশের কিংবা শ্রমিক-কর্মচারীদের বড় একটি অংশের পরিবার চালাতেন ম্যারাডোনা।
ইউরোপে ম্যারাডোনা
১৯৮২ বিশ্বকাপের পর ৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনায় যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে কোচ সিজার লুইস মেনত্তির অধীনে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে কোপা দেল রে এবং অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে। তবে, বার্সায় ম্যারাডোনা কিছুটা খারাপ সময় কাটিয়েছেন। প্রথমে তাকে হেপাটাইটিসের সাথে লড়তে হয়। এরপর গোড়ালির ইনজুরিতে পড়েন। অবশ্য, চিকিত্সা শেষে দ্রুতই মাঠে ফেরেন। বার্সেলোনার হয়ে ৫৮ খেলায় ৩৮টি গোল করেন।
বার্সেলোনায় থাকাকালে ক্লাব পরিচালকদের সাথে দফায় দফায় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ম্যারাডোনা; বিশেষ করে ক্লাব প্রেসিডেন্ট ইয়োসেপ লুইস নুনেজের সাথে। ১৯৮৪ সালে আরেকটি রেকর্ড ট্রান্সফার ফি-তে (৬.৯ মিলিয়ন ইউরো) সিরি এ ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন তিনি।
তার যাদুর ছোঁয়ায় অখ্যাত নাপোলিকে চেনে সারা দুনিয়া
১৯৮৫ সালে নাপোলির হয়ে মাঠে নামেন। এই ক্লাবেই ম্যারাডোনা তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শিখরে পৌঁছান। খুব দ্রুত ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার যাদুতে নাপোলিও তার ইতিহাসের সেরা সময় কাটায় তখন। ম্যারাডোনার অধীনে ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে সিরি এ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে এবং ১৯৮৯-৮৮ ও ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে তারা রানারআপ হয়। তার সময়ে নাপোলি একবার কোপা ইতালিয়া (১৯৮৭) জেতে এবং একবার রানার-আপ (১৯৮৯) হয়। ১৯৯০ সালে ইতালীয় সুপার কাপও জেতে নাপোলি। ১৯৮৭–৮৮ মৌসুমের সিরি এ-তে ম্যারাডোনা সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন।
ইতালিতে বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যায় জড়ান ম্যারাডোনা। তার কোকেইন নেশা বহাল থাকে। অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকায় ক্লাবের পক্ষ হতে তাকে ৭০,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়। ইতালিতে তাকে পুত্রসন্তান সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হতে হয়। এরপর ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়ে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে ১৯৯২ সালে ম্যারাডোনা নাপোলি ছেড়ে দেন।
তবে ম্যারাডোনা নাপোলির কাছে আজও সম্মানিত। নাপোলিতে তার অর্জনসমূহের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সিটি দাপ্তরিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ফরাসি ক্লাব অলিম্পিকে মার্শেই ম্যারাডোনাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী হলেও স্পেনের ক্লাব সেভিয়াতে যোগ দেন তিনি। সেখানে তিনি এক বছর ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি লিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেন এবং ১৯৯৫ সালে তিনি বোকা জুনিয়র্সে ফিরে আসেন এবং সেখানে দুই বছর খেলেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কিছু আগে ম্যারাডোনা টটেনহাম হটস্পারের হয়েও মাঠে নামেন ইন্টারন্যাজিওনালের বিপক্ষে। খেলায় টটেনহাম ২-১ গোলে জয় লাভ করে। তিনি গ্লেন হোডেলের সাথে খেলেন, যিনি ম্যারাডোনার জন্য তার ১০ নম্বর জার্সিটি ছেড়ে দিয়েছিলেন।




