349362

‘বিকেলে সুস্থ নিয়ে যায় পুলিশ, সকালে ফোনে জানায় মারা গেছে’

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম লিটন খাঁ (৩৫)। বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা থানার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে। পেশায় তিনি সিএনজি চালক। তিন সন্তানের জনক লিটন খাঁ জীবিকার তাগিদে ঢাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন।

রোববার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে দশমিনা থানার পুলিশ লিটনকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। এরপর অসুস্থ অবস্থায় তাকে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাতে তাকে পুলিশ পাহারায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোববার (৬ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত লিটনের স্ত্রী মাজেদা বেগম জানান, আক্রাম খান সিনিয়র দাখিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

গত শনিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে মাদরাসা-সংলগ্ন বিরোধীদের জমির একটি পুকুরে কে বা কারা বিষ দেয়। সে কারণে ওই পুকুরের মাছ মরে ভেসে ওঠে। পুকুরে বিষ দেওয়ার ঘটনায় মাদরাসা সুপার মাওলানা সিহাব উদ্দিন আমার স্বামী লিটনকে সন্দেহ করেন।কিন্তু ওই সময় লিটন ঢাকায় ছিলেন।

এরপরে মাদরাসা সুপার লিটনের নামে দশমিনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ফোনে লিটনকে বাড়িতে আসতে বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জমি নিয়ে বিবদমান সমস্যা সমাধানের জন্য ।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী রোববার বাড়িতে আসেন। সেদিন বিকেল ৩টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তখন আমার স্বামী ভীত সন্ত্রস্ত ছিলেন। রাতে থানা পুলিশ জানান, আমার স্বামী খুব অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ সোমবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে জানতে পারি আমার স্বামী মারা গেছেন।

তবে থানায় নেয়ার সময় লিটন সুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেন মাজেদা বেগম। তিনি আরও জানান, তার স্বামীর শরীরে কোনও রোগ ছিল না। হঠাৎ করে কীভাবে মৃত্যু হলো তা পুলিশই ভালো বলতে পারবে। আমার তিন সন্তান এখন এতিম হয়ে গেছে। আল্লাহ এর বিচার করবেন আমাকে বিধবা করে দিল।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়ে লিটন খাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

দশমিনা ও গলাচিপা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, থানায় প্রবেশের সময় কীটনাশকজাতীয় তরলের বোতল লুকিয়ে রেখেছিলেন লিটন খাঁ নামের ওই যুবক। থানায় প্রবেশের চার মিনিটের মাথায় তিনি বাথরুমে যান। এরপর ওই তরল পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন লিটন। এর পরেও থানার সেন্ট্রি বা কারোর দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র: আরটিভি নিউজ

ad

পাঠকের মতামত