হাটহাজারী মাদ্রাসায় অজ্ঞাত লিফলেট!
হাটহাজারী মাদ্রাসা এবং হেফাজতের নেতৃত্ব নিয়ে কয়েক মাস ধরেই চলছে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ। কিছুদিন আগে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। আল্লামা শফিকে জিম্মি অবস্থায় রেখে তার ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা পরিচালনা থেকে অপসারণে বাধ্য করলে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা শফি মা’রা গেলে শুরু হয় শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে উভয় গ্রুপের তোড়-জোড়।
এই সংগঠনটির ১০ বছর পর আগামীকাল ১ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে অস্থিরতা। এরইমধ্যে কে বা কারা শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) জুমার নামাজ আদায়কালে হাটহাজারী মাদ্রাসা মূল ফটকের বাইরে নানা ধরনের অজ্ঞাত লিফলেট ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, যখন মুসল্লিরা জুম্মার নামাজ আদায় করে মাদ্রাসার বাইরে বের হচ্ছেন ঠিক ওই মুহূর্তে চোখে পড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নানা ধরনের রহস্যময় রঙিন লিফলেট। লিফলেটে কারো নাম ঠিকানা না থাকলে এসব লিফলেটগুলোতে জুনায়েদ বাবুনগরী ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদীর একটি ছবি দিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, হাটহাজারী মাদ্রাসায় মানবতাবিরোধী সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাঈদীপুত্র শামীম সাঈদীর আনাগোনা এটি কিসের ইঙ্গিত?
এছাড়াও হেফাজতে ইসলামকে হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রভাবমুক্ত করতে আল্লামা শফীর ঘনিষ্ঠদের বাদ দিয়ে হেফাজতের কমিটি করতে জামায়াত শিবির ষড়যন্ত্র করছে বলেও এসব লিফলেটে দাবি করা হয়। অন্য একটি লিফলেটে লেখা হয়েছে, ধর্মপ্রাণ ও অরাজনৈতিক হেফাজতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ষড়যন্ত্রে মরিয়া জামায়াত-বিএনপি।
এ বিষয়ে হেফাজতের এক নেতা বলেন, অতীতে যারা হেফাজত নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে, হেফাজতকে বিলীন করার চেষ্টা করেছে এটা তাদেরই কাজ। তৌহিদী জনতা এখন সব বুঝে কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। যথাসময়ে কাউন্সিল হবে, এটা কেউ চাইলে বানচাল করতে পারবে না। করতে চাইলে তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এক শিক্ষার্থী জানান, কারা বিলি করেছে তা বলতে পারছি না। আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে লিফলেট বিলিকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে শুনেছি।
এদিকে শনিবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকা এবং চট্টগ্রামে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির একাংশের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, হেফাজত ইসলামের নেতৃত্বের দখল নিতে জামায়াত-শিবির নানামুখী চক্রান্ত করে যাচ্ছে।




