345827

এইডস রোগের লক্ষণ, যেভাবে ছড়ায় এবং প্রতিরোধের উপায়

মানব ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাধি এইডস। এ রোগ সর্বপ্রথম ১৯৮১ সালে আমেরিকায় ধরা পড়ে। এ পর্যন্ত ১৭৩টি দেশে এইডস বিস্তার লাভ করেছে। প্রায় দুই কোটি পুরুষ-মহিলা ও শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

এইডস কী : এইডস একটি জীবনঘাতী রোগ। হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস নামক বিশেষ এক ধরনের ভাইরাস এইডস রোগের কারণ। এ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়।

বিশেষ পার্থক্য : এইডস রোগের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ৮-১০ বছর পর্যন্ত কোনো প্রকার লক্ষণ দেখা দেয় না। আক্রান্ত ব্যক্তি এ দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাপন এবং কাজ কর্ম করতে পারে। তবে সে সবার অজান্তে অন্যদের মাঝে বিশেষ পদ্ধতি এইচআইভি ভাইরাস ছড়াতে থাকে।

এইডস রোগের লক্ষণ : দীর্ঘদিন ধরে অবিরাম ডায়রিয়া যা ভালো হয় না। * অনেক দিন ধরে জ্বর এবং সর্দি থাকে। * অতিরিক্ত কাশি, নিউমোনিয়া এবং ফুসফুস ও ত্বকের প্রদাহ থাকে। * রাতে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হয়। * শরীরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। * শরীরের বিভিন্ন স্থানের গ্রন্থি ফুলে যায় এবং ঘা ও ক্যান্সার হয়। এইডস কীভাবে ছড়ায় : এইডস ভাইরাস ব্যক্তির সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের মাধ্যমে। * এইডস ভাইরাসযুক্ত ইনজেকশনের সুচ, সিরিঞ্জ এবং অপারেশনের যন্ত্রপাতি সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে। * এইডস আক্রান্ত মায়ের গর্ভে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে।

এইডস যেভাবে ছড়াতে পারে না : এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা, কাজকর্ম করলে এ রোগের কোনো আশঙ্কা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, বিছানাপত্র, থালাবাসন ব্যবহার নিরাপদ। হাঁচি, কাশি, বাতাস, পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন করলে বা মুখম-লে চুম্বন করলে ভাইরাস ছড়ায় না। মশা বা অন্য কোনো পোকামাকড় কামড়ালে এ রোগ ছড়ায় না।

এইডস প্রতিরোধের উপায় : ধর্মীয় অনুশাসন মেনে কেবল স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে বজায় রাখুন। পতিতালয়ে গমন থেকে বিরত থাকুন। ইনজেকশনের জন্য ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন। অপারেশনের যন্ত্রপাতি ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। যদি কোনো মা এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে হয় বা সন্দেহ থাকে তাহলে সন্তান ধারণ থেকে বিরত থাকুন।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *