ধ’র্ষণের শা’স্তি মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন
ধ’র্ষণের সর্বোচ্চ শা’স্তি মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রোববার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন (সংশোধিত) আইন, ২০০০’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০’ জারি করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘দেশজুড়ে ধ’র্ষণ ও নারী নি’র্যাতনবিরো’ধী আ’ন্দোলন এবং ধ’র্ষণকারী’দের সর্বোচ্চ শা’স্তি মৃ’ত্যুদ’ণ্ড করার দাবির মধ্যে সরকার এ পদক্ষেপ নেয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় তখন আইন সংশোধনের পর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়।’
আগামী ৮ নভেম্বর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন শুরু হচ্ছে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, এজন্য অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হল।
“আজকে আইনের খসড়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশন না থাকা অবস্থায় যদি কোনো অর্ডিন্যান্স হয়, তাহলে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনই সেটি উপস্থাপন করতে হয়। অধ্যাদেশ হিসেবে যেটা আনা হয়েছিল সেটাই আজকেই আইনের খসড়া হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
২০০০ সালের নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন আইনের ৯ (১) উপধারায় বলা হয়, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধ’র্ষণ করেন, তাহলে তিনি যা’বজ্জীবন সশ্রম কারাদ’ণ্ডে দ’ণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দ’ণ্ডনীয় হবেন।
সংশোধিত আইনের খসড়ায় ৯(১) উপধারায় ‘যা’বজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদ’ণ্ড বা যা’বজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
আইনের ৯(৪)(ক) উপধারায় ছিল- ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে ধ’র্ষণ করিয়া মৃ’ত্যু ঘটানোর বা আ’হত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যা’বজ্জীবন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দ’ণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অ’র্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ডনীয় হইবেন।
এই উপধারা সংশোধন করে খসড়ায় ‘যা’বজ্জীবন সশ্রম কা’রাদণ্ড’ এর পরিবর্তে ‘মৃ’ত্যুদণ্ড বা যা’বজ্জীবন সশ্রম কা’রাদণ্ড’ শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধ’র্ষণ ছাড়া সাধারণ জ’খমের ক্ষেত্রে অ’পরাধ আ’পসযোগ্য হবে। এছাড়া আগের আইনে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের রেফারেন্স ছিল। এখন সেখানে হবে ‘শিশু আইন, ২০১৩’।
২০০০ সালের আইনের ৩২ ধারায় বলা ছিল এই আইনের অধীন সং’ঘটিত অ’পরাধের শিকার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া মেডিকেল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোন বেসরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে ।
অধ্যাদেশে অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশি ‘অ’পরাধে অ’ভিযুক্ত ব্যক্তির’ মেডিকেল পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। এছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২ ক শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয় অধ্যাদেশে।
সেখানে বলা হয়, এই আইনের অধীন সংঘ’টিত অপরাধে অ’ভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অ’পরাধের শি’কার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।






