‘ধ’র্ষ’ণে রাজি না হওয়ায় বি’ব’স্ত্র করে নি’র্যা’তনের ভিডিও ছেড়ে দেয় ফেসবুকে’
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ধ’র্ষ’ণের প্র’স্তাবে রাজি না হওয়ায় ব’খাটে’রা বি’ব’স্ত্র করে নি’র্যা’তনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় বলে ভু’ক্তভো’গী নারী মা’মলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকের এই ঘ’টনায় ওই নারী রোববার বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মা’মলা করেন। একটি মা’মলা করেন নারী ও শিশু নি’র্যা’তন দ’মন আ’ইনে, অন্যটি প’র্নোগ্রা’ফি নিয়ন্ত্রণ আ’ইনে। দুই মা’মলাতেই নয়জনকে আ’সামি করা হয়েছে।
মা’মলার এ’জাহারের ওই নারী অ’ভিযোগ করেন, তার স্বামীকে বেঁ’ধে রেখে আ’সামিরা তাকে ধ’র্ষ’ণের চেষ্টা করে। তারা এ ঘট’নার ভিডিওচিত্র ধারণ করে মোবাইলে। গত এক মাস ধরে তারা এই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে অ’নৈতিক প্র’স্তাব দি’চ্ছিল। তিনি এই প্র’স্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা ফেসবুকে ভিডিওটি ছেড়ে দেয়।
মা’মলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ভু’ক্তভো’গী ওই নারীকে বি’ব’স্ত্র করে নি’র্যাতন এবং নি’র্যাত’নের ভিডিও ধারণ করে বাদলসহ আ’সামিরা। গত এক মাস ধরে আ’সামিরা এই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে কু’প্র’স্তাব দিচ্ছিলেন। তিনি কু’প্র’স্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা রোববার ফেসবুকে ভিডিওটি ছেড়ে দেয়।
মা’মলার প্রধান আ’সামি বাদলসহ এ মা’মলায় চারজনকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারের নাম এ মা’মলার এজাহারে না থাকলেও তাকে গ্রে’ফতার করেছে র’্যাব।
বেগমগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের এক সদস্য জানান, ওই নারীর ১৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় কয়েক বছর আগে তিনি বাপের বাড়ি চলে আসেন। তার এক ছেলে ও মেয়ে আছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে ওই নারী ছেলে ও এক ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। সম্প্রতি তার স্বামী তার কাছে আসা-যাওয়া করতে শুরু করেন। এ নিয়ে কয়েকজন যুবক আ’পত্তি জানিয়ে সেদিন ওই নারীকে নি’র্যাতন করেন। ঘ’টনার দিন ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। নি’র্যাত’নকারীরা তার স্বামীকেও আ’টক করে নিয়ে যায়। পরে ওই নারীর ভাই ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই নারীর মা নেই। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। নি’র্যা’তনের শি’কার নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাতে ওই নারী মা’মলা করেন।
পুলিশ এ ঘ’টনায় নয় জনকে চিহ্নিত করেছে। নি”র্যাতনে জড়িতরা হলেন- বাদল, দেলোয়ার, আবদুর রহিম, রহমতউল্লাহ, আবুল কালাম, ইসরাফিল, সাজু, সামশুদ্দিন সুমন, আবদুর রব চৌধুরী ওরফে লম্বা চৌধুরী। এদের মধ্যে দেলোয়ার ও বাদল র্যা বের হাতে গ্রে’ফতার হয়েছে। আর আবদুর রহিম ও রহমত উল্লাকে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রে’ফতার করে।
প্রসঙ্গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায় ওই গৃহবধূর বসতঘরে ঢু’কে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁ’ধে রাখেন স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এর পর গৃহবধূকে ধ’র্ষ’ণের চেষ্টা করেন তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বি’ব’স্ত্র করে বে’ধড়’ক মা’রধ’র করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। সেটি ছড়িয়ে দেন ইন্টারনেটে। এ ঘট’নায় দেশব্যাপী তো’লপা’ড় সৃ’ষ্টি হয়।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, নি’র্যা’তনকা’রীরা ওই গৃহবধূর পোশাক কেড়ে নিয়ে তার বি’রু’দ্ধে কিছু একটা বলতে থাকেন। তিনি প্রা’ণপণ নিজেকে র’ক্ষার চেষ্টা করেন এবং হা’মলাকা’রীদের ‘বাবা’ ডাকেন, তাদের পায়ে ধরেন। কিন্তু তারা ভিডিও ধারণ ব’ন্ধ করেননি। বরং হা’মলাকা’রীরা তার মু’খে ও শ’রীরে লা’থি মা’রেন। এর পর তার শরী’রে একটা লা’ঠি দিয়ে একের পর এক আ’ঘাত করতে থাকেন। এ সময় ঘ’টনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার উ’ল্লাস প্রকাশ করে ‘ফেসবুক’ ‘ফেসবুক’ বলে চি’ৎকার করে আরেকজন।






