342131

স্ত্রী মি’ন্নিকে না বলে জী’বনের শে’ষ কথাটা রিক’শাচা’লককেই বলেছি’লেন রিফাত!

বর’গুনার আ’লোচিত হ’ত্যা’কা’ণ্ডের শিকা’র রি’ফাত শরীফ জী’বনের শেষ ক’থাটি মি’ন্নিকে নয়, এক’জন রিক’শাচা’লককে’ (দুলাল) বলেছি’লেন। আর সেদিনের ভ’য়া’বহ ঘট’নার বর্ণ’না দিয়ে’ছেন ধা’রা’লো অ’স্ত্রে’র

কো’পে র’ক্তা’ক্ত রি’ফা’তকে হা’সপা’তা’লে নি’য়ে যাওয়া রিক’শা’চালক দুলাল। তিনি বলেন, ওই’দিন কলেজ রো’ডে ক্ষ্যা’প নিয়ে গে’লাম। মা’নুষে’র ভি’ড়ের কারণে আর সা’মনের’ দি’কে যাইতে পারি না। শুন’লাম সা’মনে কা’রা যেন কা’রে মা’র’তে’সে। প্যাসে’ঞ্জা’রকে না’মায়ে আ’মি রিকশা ঘুরা’য়ে কে’বল দাঁ’ড়াই’সি সেই সময় এ’কটা ছে’লে র’ক্তা’ক্ত অ’বস্থা’য় হাঁ’ইটা আইসা আমা’র রিক’শায় উ’ইঠাই কয়, চাচা আমা’রে তা’ড়াতা’ড়ি হাস’পা’তা’লে নিয়া যান। আর এটাই ছিল বেঁ’চে থা’কা অব’স্থায় রি’ফা’তের শে’ষ কথা।

রি’ক্সাচালক দুলা’ল ঘ’টনার ব’র্ণনা দিতে গি’য়ে আরও বলেন, আমি দেখ’লাম ছে’লেটার গ’লা ও বু’কের বা’ম পাশ কা’ই’টা র’ক্ত বা’ইর হই’তাসে। হে’র জামা’টা টা’ইনা আমি গলা ও বু’কে চা’ইপা ধই’রা হে’রে ক’ইলাম আ’পনি চাই’পা ধরেন, আমি চা’লাই। আমি হাসপাতা’লে যাও’নের জন্য কে’বল সিটে ব’সছি, চা’লামু, সেসময় এ’কটা মে’য়ে দৌড়ে রিক’শায় উই’ঠা ওই পো’লাডা’রে ধ’ই’রা বসে। আমি তাড়া’তাড়ি রি’কশা চালাইয়া হাস’পাতা’লের দিকে যাই।

দুলা’ল আরো বলেন, এক মিনি’টের মতো রি’ফাত ঘা’ড় সো’জা করে বসে ছিল। এরপর তিনি সেই মে’য়ে’টির কাঁ’ধে ঢলে পড়ে যা’য়। আর কাঁ’ধ সো’জা করতে পা’রেনি। আমাদের রি’কশার পা’শা’পাশি একটা লাল পা’ল’সার মো’টরসা’ইকে’লে দু’ইটা ছে’লে যাচ্ছিল। মে’য়েটি চি’ৎকার ক’রে রিফা’তের জ’খম চে’পে ধরে র’ক্ত থা’মা’নোর জন্য তাদে’র কাছে কা’পড় চা’ইছি’লো, ওরা সাড়া’ দেয়’নি। আমা’র কাছে মে’য়েটি ফো’ন চায় বাড়িতে জা’নানো”র

জন্য, কিন্তু আমা’র ফোন নাই। পরে ওই মো’টর’সাই’কেলের ছে’লে’দের কাছেও সে ফোন চায়। মে’য়েটি বলে, ভাই আ’প’নাদের একটা ফোন দেন, আমি একটু বা’বার কাছে ফোন করব। কিন্তু তারা বলে, আ’মাদের কাছে ফো’ন নাই, তুমি হাসপাতা’লে যাই’তে’ছো যাও।

তিনি আরো বলেন, হা’সপা’তা’লের গেট দিয়ে ঢো’কার সময় মে’য়েটি এক’জন লোককে ডাক দেয়। রিকশা থামানোর সাথে সাথেই ওই লোক দৌড়ে আসে। রিফা’তের অবস্থা দেখে সেই লোক স্ট্রেচার নিয়ে আসে। রি’ফাতকে রিকশা থেকে না’মিয়ে স্ট্রে’চারে করে অ’পা’রে’শন থিয়ে’টা’রে দিয়ে আসি। রিফা’তকে অ্যা’ম্বু’লেন্সে করে বরি’শাল নি’য়ে যাওয়ার পর পু’লিশ আমা’র রিক’শার ছবি তুলে নেয় আর কাগ’জপত্র’ নিয়ে যায়। আমা’র রি’কশা’র কাগজপত্র এখনো পু’লি’শের কাছে।

হাসপাতা’লের সিসি’টিভি ফু’টেজ ও রিক’শাওয়া’লার বর্ণনামতে, সাদা গেঞ্জি পরা এক লোক দৌড়ে আ’সেন। রিকশাচা’লক দুলালকে সঙ্গে নিয়ে স্ট্রেচার নিয়ে আসেন তিনি। স্ট্রে’চারে তুলে রি’তকে দ্রুত অ’পারেশন থিয়ে’টারেও নিয়ে যান। ওই ব্যক্তির নাম আমিনুল ইস’লাম মামু’ন। তিনি একজন অ্যাম্বু’লেন্স ব্য’বসায়ী।

মামুন বলেন, মিন্নির ডাক শুনেই আমি দ্রুত ছুটে যাই। রিফা’তের অবস্থা দেখে দ্রুত রিক’শাচালক ভাই’কে নিয়ে হা’সপাতা’লের জরু’রি বিভাগ থেকে স্ট্রে’চার নিয়ে আসি। সে সময় রিফা’ত রিক’শায় মিন্নির কাঁ’ধে ভর করে বসে ছিল। আমি, রি’কশাচালক ও মিন্নি তিনজ’ন মিলে রিফা’তকে ধ’রে স্ট্রে’চারে তুলি। দ্রুত তাকে’ ও’টি’তে নি’য়ে যাই।

তিনি বলেন, ডা’ক্তা’রের লিখে দেয়া স্লি’প নিয়ে ফা’র্মে’সিতে তি’নবা’র ছুটে যাই। তিনবা’রে এক হা’জার ৪০০ টা’কার ওষুধ কিনে আনি। রিফাতের শরীর থেকে প্রচু’র র”ক্ত’ক্ষ’রণ হ’চ্ছিলো। কিছুতে’ই র’ক্ত ব’ন্ধ করা যা’চ্ছিলো না। চিকিৎসক রিফাতের ক্ষত গজ ও তুলা দিয়ে ব্যা’ন্ডেজ করে দেন। পরে দ্রু’ত বরি’শাল নিয়ে যাও’য়ার পরা’ম’র্শ দেন। আমি অ্যা’ম্বু’লেন্স ঠিক করে নিয়ে আসি। এর মধ্যে রি’ফা’তের বন্ধুরা সেখানে আসে। মি’ন্নির চাচা ও বাবা আ’সেন। পুরে রি’ফাতকে অ্যা’ম্বুলে’ন্সে করে বরি’শাল নিয়ে যাও’য়া হয়। মিন্নিও যাওয়া’র জন্য বারবা’র অনুরো’ধ কর’ছিলো কিন্তু তার বাবা ও চাচা তাকে যেতে দেননি।

মামুন বলেন, একজ’ন মা’নুষের বি’পদে সহা’য়তা করা মা’নবি’ক দা’য়িত্ব, সে যেকোনো মা’ষই হোক না কেন। আমিও সেই চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আ’ফ’সোস রিফা’তকে বাঁ’চা’নো যায়নি।

ad

পাঠকের মতামত