342097

তরুণীকে ধ’র্ষ’ণের পর গাড়ি আ’টকে রেখেছিলেন কেন, জানালেন ৩ আা’সামি

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে প্রাইভেটকারের মধ্যে চার দফা ধ’র্ষ’ণ করা হয়েছে। পরে ধ’র্ষ’ণের আ’লামত নষ্ট করতে গাড়িটি আ’টকে রেখে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন আ’সামিরা। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে আসছে জেনে পালিয়ে যান তারা। গতকাল শুক্রবার রাতে আ’দালতে দেওয়া স্বী’কারো’ক্তিমূলক জ’বানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আ’সামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম।

তদন্ত ও আ’দালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, পাঁচ দিনের রি’মান্ড শেষ হলে গতকাল বেলা সোয়া ৩টার দিকে সাইফুর, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলামকে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে হাজির করা হয়। এরপর তিনজন পর্যায়ক্রমে আ’দালতে দোষ স্বীকার করে জ’বানবন্দি দেন।

সূত্র জানায়, প্রথমে জবানবন্দি দেন মা’মলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আ’সামি অর্জুন লস্কর। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর প্রধান আ’সামি সাইফুর রহমান জ’বানবন্দি দেন। এই দুজনের জ’বানবন্দি গ্রহণ করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতের বি’চারক (এমএম–১) মো. জিয়াদুর রহমান।

এরপর রাত আটটার দিকে ৫ নম্বর আ’সামি রবিউল ইসলামকে আ’দালতে নেওয়া হয়। তিনি ধ’র্ষ’ণে সহায়তা করেছেন বলে স্বীকার করেন। তার জ’বানবন্দি গ্রহণ করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান। ঘ’টনা সম্পর্কে সাইফুর ও অর্জুনের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে রবিউলের বর্ণনার মিল রয়েছে। জ’বানবন্দি শেষে রাত পৌনে ১১টায় তিন আ’সামিকে ফের কা’রাগারে পাঠানো হয়।

রাতে যোগাযোগ করলে মহানগর সিলেট পুলিশের অ’তিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ‘তিন আ’সামি স্বী’কারোক্তিমূ’লক জ’বানবন্দি দিয়েছেন। শুধু এটুকু জানি। আ’সামিরা কী বলেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানি না।’

আ’দালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল পাঁচটা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা জবানবন্দি দেন সাইফুর। এরপর অর্জুন জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ধ’র্ষ’ণের কথা স্বীকার করে সাইফুর বলেছেন, তরুণীকে আগে থেকে চিনতেন তিনি। তরুণীর সঙ্গে থাকা যুবককে চিনতেন না। ওই যুবককে স্বামী বলে পরিচয় দেন তরুণী।

সাইফুর বলেন, তারা তরুণীর স্বামীর কাছে টাকাপয়সা দাবি করেন। ধ’র্ষ’ণের পর অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা আ’সা’মিরা ছাত্রাবাসে অবস্থান করেন। ছাত্রাবাসে পুলিশ প্রবেশ করার আগেই খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যান। তার আগে মুঠোফোনে তাদের সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিষয়টি জানান।

জবানবন্দিতে এই আ’সামি আরও বলেন, প্রাইভেটকারটি টিলাগড় মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখান থেকে তারেক কারটি চালিয়ে ছাত্রাবাসে নিয়ে আসেন। এ সময় সাইফুর ও অর্জুন গাড়িতে ছিলেন। পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে শাহ রনি তাদের সঙ্গে যোগ দেন। গাড়িতে তারা তরুণীকে নিয়ে নানা রকম খিস্তি করেন। গাড়িটি নিয়ে তারা এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ১০৫ নম্বর কক্ষের সামনে আসেন। স্বামীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে সেখানেই তরুণীকে ধ’র্ষ’ণ করা হয়। ১০৫ নম্বর কক্ষটি মাহফুজুর রহমানের (এজাহারে ৬ নম্বর আ’সামি) নামে বরাদ্দ থাকলেও কক্ষটি ব্যবহার করতেন সাইফুর। কক্ষ থেকে উ’দ্ধার হওয়া পা’ইপগা’নসহ অ’স্ত্রগু’লো তার ছিল বলে জ’বানব’ন্দিতে বলেছেন।

সাইফুর ও অর্জুনের দেওয়া জ’বানবন্দির অনেক তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে ঘটনার পর তরুণীর স্বামীর দেওয়া ঘটনার বর্ণনাও। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তরুণীর স্বামী বলেছিলেন, টিলাগড় মোড়ে তারা স্বামী-স্ত্রী গাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাদের জি’ম্মি করে ফেলেন। আসামি তারেক (পরে নাম জেনেছেন) তার কাছ থেকে স্টিয়ারিং কে’ড়ে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ছাত্রাবাসে যান। এ সময় গাড়িতে বসে ছিলেন দুজন (সাইফুর ও অর্জুন), পেছনে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসেন একজন (শাহ রনি)।

তরুণীর স্বামী বলেন, ছাত্রাবাসের সামনে নিয়ে প্রথমে টাকা দাবি করেন আ’সা’মিরা। তারপর তাকে নামিয়ে আ’টকে রেখে তরুণীকে গাড়িতে ধ’র্ষ’ণ করা হয়। পরে তরুণীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কক্ষে নিয়ে যান, আবার গাড়িতে নিয়ে আসেন। এভাবে কয়েকবার আনা–নেওয়া করেন বলে জানিয়েছিলেন স্বামী।

ছাড়া পাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী দুজনে ওই রাতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টিলাগড় মোড়ে যান। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিহিত গুহ চৌধুরীর (বাবলা চৌধুরী) কাছে ঘটনার কথা জানান বলে বলেছিলেন তরুণীর স্বামী। পরে বাবলা চৌধুরী বলেছিলেন, তিনি ঘটনাস্থলে যান। অ’ভিযুক্ত ব্যক্তিদের ছাত্রাবাসে দেখেন। তখন পর্যন্ত তরুণীর স্বামীর গাড়িটি সেখানেই ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এলেও ছাত্রাবাসের ফটকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় ছিল। এরই মধ্যে খবর পেয়ে আ’সা’মিরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে গাড়ি এবং সাইফুরের কক্ষে ত’ল্লাশি চালিয়ে অ’স্ত্র উ’দ্ধার করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জবানবন্দিতে সাইফুর ও অর্জুন দুজনেই বলেছেন, বাবলা চৌধুরী তাদের দেখে ফেলার পর গাড়িটি পরিষ্কার (ধ’র্ষ’ণের আলা’মত নষ্ট করে) করে পালাতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই সোহেল) ঘটনাস্থলে আসছেন দেখে তারা পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে গত রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে শাহপরান থানার এসআই সোহেল রানা বলেন, তিনি যদি ওই সময় না যেতেন, তাহলে গাড়িটি ধুয়েমুছে আলামত নষ্ট করে পালাতেন আ’সামি’রা। ধ’র্ষ’ণের আলামত তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষিত করেন। পরে কক্ষে সাইফুরের অ’স্ত্রশ’স্ত্র দেখতে পান।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দ’খল করা একটি কক্ষের সামনে সদ্য বিবাহিত তরুণীকে ধ’র্ষ’ণ করা হয়। এ ঘ’টনায় পরদিন ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে শাহ রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমসহ ৯ জনের বি’রু’দ্ধে মা’মলা হয়। পুলিশ ও র‌্যাবের অ’ভিযানে তিন দিনের মধ্যে এজা’হারভুক্ত ছয়জনসহ আটজন গ্রে’প্তার হন।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে পাঁচ দিনের রি’মান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার সন্দেহভাজন দুই আ’সামি আইনুদ্দিন ও মিসবাউর রহমান ওরফে রাজনকে এবং সর্বশেষ গ্রে’প্তার হওয়া শাহ মো. মাহবুবুর, তারেকুল ও মাহফুজুরকে পাঁচ দিনের রি’মান্ডে নেওয়া হয়। আজ শনিবার আইনুদ্দিন ও মিসবাউরের রি’মান্ড শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত