341786

ক’ন’ডে’ম সেলে মিন্নি, পেতে পা’রেন সুখ’বর

ব;রগুনা;র আ’লো;চিত রিফাত হ’ত্যা’ মা’ম’লায় রায় দিয়েছে আ’দালত। এতে রিফাত শরী;ফে;র স্ত্রী’ আয়েশা সিদ্দিকা মি’ন্নিসহ ছয়’জ;নকে ;মৃ’;ত্যু’দ’ণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামা’জিক যোগা’যোগ মাধ্যমে মিন্নি স’ম্পর্কে নানা তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। তিনি ছিলেন স্বামী রিফাত শরী’ফ হ’ত্যা’ মা’ম’লার স্বাক্ষী। পু’লিশি ত’দন্তে হয়ে গেলেন আ’সামি। গ্রে’প্তা;রও করা হয় তাকে। এরপর আবার হাই’কোর্ট থেকে জা’মিনে মুক্তি মেলে। এবার মৃ’ত্যু’দ’ণ্ডের রায় ঘো’ষণা হলো তার বি’রু;দ্ধে। রায়ে মিন্নিকে এ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের মা’স্টারমা’ইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করে’ছেন আ’দালত। ফলে আবারও তার স্থান হলো কা’রা’গারে। তাও আবার কন’ডেম সেলে।

এদিকে মিন্নির এই রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আ’লো’চনা। মিন্নি কি আসলেই অ’প’রা’ধি? তার কি সত্যি’ই ফাঁ’সি হবে? নাকি উচ্চ আ’দা’লতে তিনি খালাস বা কম সাজা ভোগ কর’বেন? এর’ম’ক না’নান প্রশ্নের ম’ধ্যে উঠে এসেছে অসংখ্য অ’জানা তথ্য।

আয়েশা সিদ্দি’কা মি’ন্নির ফাঁ’সি’র রায় কার্যকর নিয়ে দেখা দিয়ে’ছে ধোঁ’য়াশা। কেননা দেশে আজ পর্যন্ত কো’নো না’রী আ’সা’মির ফাঁ’সি কার্যকর হয়নি।

কারা সূত্রে জানা গেছে, কা’রাগার’গুলো’তে ফাঁ’সি’র দ’ণ্ডপ্রা’প্ত নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে কনডেম সেলের বাসিন্দা। দেশে বহু পুরুষ আ’সা’মির ফাঁ’সি কার্য’র হলেও কোনো নারী আ’সামির ফাঁ’সি কার্যকর হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে এক কারা’র’ক্ষী জানান, তিনি ২৮ বছর ধরে চা’করি করছেন, আজ পর্যন্ত কোনো নারী আ’সামির ফাঁ’সি হয়েছে, এমন কথা তিনি শোনেননি।

ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্ত নারী আ’সা’মি’দের মধ্যে সবাই হ’ত্যা’র দায়ে দ’ণ্ডিত হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। ক’লহের জে’র ধরে নিজ পরিবারের কোনো সদস্যকে হ’ত্যা’র দায়েই ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড পেয়ে’ছে এদের বেশি’র ভাগ।

কারা সূত্র জানায়, প্রতি’টি কন’ডেম সেল কম’বেশি ১০ হাত দৈ’র্ঘ্য ও ছয় হা’ত প্র’স্থে’র হয়। প্রতি সেলে তিন-চা’রজ’ন করে ফাঁ’সি’র আ’সা’মি’কে রা’খা হয়। প্রতি সে’লে গ্রি’লঘে’রা বা’রান্দা রয়ে’ছে। ওই বারা’ন্দাতে’ই তাদের হাঁ’টার সুযো’গ মেলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থা’কতে হয় সে’লের ভেতর ও বা’রা’ন্দায়। এক কারা ক’র্মক’র্তা জানান, প্রতিদিন দুপুরে গো’সল করার জন্য তাদে’র বের হতে দে’ওয়া হয়। গো’স’লে’র আ’গে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁ’টার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মা’সের পর মাস, বছরের পর বছর পে’রিয়ে যাচ্ছে তাদের।

ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড’প্রা”প্তরা মাসে এক দিন সু’যোগ পায় তা’দের আ’ত্মী’য়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা’র। তখন তারা সেল থেকে বে’রিয়ে কা’রা’গারের গেটে স্বজ’ন’দের সঙ্গে দেখা করে। সূত্র জানায়, ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড’প্রাপ্ত’দের জন্য বরাদ্দ র’য়েছে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কো’নো ধর’নের সু’যো’গ-সুবি’ধা নেই।

এক হিসা’বে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শতা’ধিক না’রীর ফাঁ’সি’র আদেশ হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো না’রীর ফাঁ’সি কা’র্যকর’ হয়নি। তাদের মধ্যে অ’নেকে’ই দীর্ঘদিন কারা ভোগ করার পর বেরি’য়ে গেছে, কেউ কেউ মা’রা গেছে, কারো কারো আ’পিলে শা’স্তি কমেছে।

এদিকে ২০০৭ সালে কা’শিম’পুরে এক’মাত্র মহিলা কা’রাগা’র উ’দ্বো’ধন করা হয়। দেশের প্রতিটি কা’রা”গা’রে ফাঁ’সি’র মঞ্চ থাক’লেও সেখানে কো’নো ফাঁ’সি’র মঞ্চ নেই। জানা গেছে, অ’তী’তে কো’নো নারী আ’সা’মির ফাঁ’সি কার্য’করের রেক’র্ড না থা’কায় ফাঁ’সি’র মঞ্চ বানানো হয়নি।

কা’রা’গারে ২২ বছর ধরে চাক’রি করেন এমন এক কর্মক’র্তা জানান, নিয়মা’নুযা’য়ী ফাঁ’সির আ’সামি’রা সর্বশে’ষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্র’পতির কাছে ক্ষমা প্রা’র্থনা করতে পারে।

রাষ্ট্রপ’তি তাদের ক্ষমা না ক’রলে ফাঁ’সি থেকে বাঁ’চার কোনো সুযো’গ নেই। তবে আজ পর্যন্ত কোনো নারীর আ’বেদন রাষ্ট্রপ’তির কাছে গেছে, এমন খবরও তিনি শোনে’ননি।

উল্লেখ্য, বর্তমা’নে দেশে ৪৯ জন নারী ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড মা’থা’য় নিয়ে বিভিন্ন কা’রাগারে’র কনডেম সেলের বাসি’ন্দা। ফাঁ’সির দ’ণ্ড’প্রা’প্তদের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগুনার আ’য়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গতকাল বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার রায় ঘো’ষণার পর মিন্নিকে বরগু’না কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই কারাগারে আর কোনো নারী ফাঁ’সি’র আ’সা’মি না থা’কায় তিনি একাই হয়ে’ছেন ক’নডেম সেলে’র বা’সিন্দা।

বরগুনা কা’রাগা’রের সুপার মো. আ’নোয়ার হো’সেন জানান, ‘ফাঁ’সির’ আ’সা’মি হিসেবে তাকে (মিন্নি) কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কা’রাগা’রের না’রী ইউনিটে ১৯ জন ব’ন্দি ছিল। মিন্নি’কে নিয়ে ২০ জন হলো।

এদিকে রায়ের পর মিন্নির পরিবার ও তার আ’ইনজী’বীরা শতভাগ ‘আশা’বাদি যে- উচ্চ আ’দালতে মিন্নির সা’জা কমবে অ’থবা খালা’স হয়ে বাড়ি ফি’রবে’ন তিনি। তবে যে যাই বলুক সা’র্বিক পর্য’বে’ক্ষণে মিন্নির জন্য যে একটা সুখ’বর র’য়েছে তা বলাই যায়! সূত্রঃ একুশেটিভি

ad

পাঠকের মতামত