বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদ ধ্বং’স মা’মলার সব আ’সামি খালাস
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অযো’দ্ধার বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদ ধ্বং’স মা’মলার রায়ে অ’ভিযুক্ত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শীর্ষ নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানী, মুরালি মনোহর যোশী ও উমা ভারতী-সহ অ’ভিযুক্ত ৩২ আ’সামির সবাইকে খা’লাস দিয়েছেন দেশটির আদালত।
২৮ বছর আগে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদে হা’মলা চালি’য়ে গুঁ’ড়িয়ে দেয়ার ঘ’টনায় অভি’যুক্ত আ’সামিদের খা’লাস দিয়ে উত্তরপ্রদেশের লখনৌউয়ের বিশেষ আদালত বলেছেন, মসজিদ ধ্বং’সের ঘ’টনাটি পূর্ব-পরিকল্পিত ছিল না।
ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তৎকালীন নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানীর নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় দফা’য় দ’ফায় রথযাত্রা হয়। এই রথযাত্রা থেকে ষোড়শ শতাব্দীর অন্যতম এই মুসলিম স্থাপনায় হা’মলা চালানো হয়। কট্টরপন্থী উগ্র হি’ন্দুত্ববা’দী করসেবকরা মসজিদ গুঁ’ড়িয়ে দেয়। এ ঘ’টনার পরপর দেশটিতে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দা’ঙ্গা শুরু হয়। এতে প্রাণ যায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের। উত্তরপ্রদেশের এই মসজিদ ধ্বং’স বদলে দেয় ভারতের রাজনীতি। দেশটিতে কট্টর হি’ন্দুত্ববা’দীর উত্থানের নেপথ্যে বড় অ’নুঘটক হিসেবে কাজ করে এটি।
মসজিদ ধ্বং’সের সঙ্গে জ’ড়িত বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শীর্ষ নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানী, মুরালি মনোহর যোশী, সাবেক মন্ত্রী উমা ভারতী ও কল্যাণ সিংয়ের বি’রু’দ্ধে মা’মলা দায়ের হয়। প্রায় আড়াই যুগ পর বুধবার এই মা’মলার ‘রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
কিন্তু আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বিজেপির অ’ভিযুক্ত শীর্ষ এই নেতারা। বিজেপি নেতা আদভানী, মুরালি মনোহর যোশী, উমা ভারতী ও কল্যাণ সেন ভিডিওর মাধ্যমে আদালতে যুক্ত হন। বিজেপি নেতাদের-সহ সব আ’সামিদের খা’লাস দিয়ে রায়ে বি’চারক বলেন, বাবরি মসজিদ ‘ধ্বংস পূর্ব-পরিকল্পিত ছিল না।বাবরি মসজিদ : নির্মাণ থেকে ধ্বং’স১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বং’সের পর দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন তদন্ত শুরু করে। দেশটির সাবেক প্রধান অটল বিহারি বাজপেয়ীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বি”রুদ্ধে মসজিদ ধ্বং’সে উ’সকানি এবং নির্লিপ্ত থাকার অ’ভিযোগ উঠেছিল। ২০১৮ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ী মা”রা যান।
১৯৯৩ সালে বিজেপির শীর্ষ নেতা আদভানী, যোশী, উমা ভারতী-সহ ৪৯ জনকে অ’ভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে অ’ভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৭ জন আগেই মা’রা গেছেন।
বুধবার ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে লখনৌয়ের বিশেষ আদালত বহুল আলোচিত এই মা’মলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে শহরের সব দোকানপাট, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়। গণমাধ্যম কর্মীদেরও আদালতপ্রাঙ্গনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ২০ কোটি প্রান্তিক মুসলিম জনগো’ষ্ঠী এই মা’মলার রায়ে সন্তুষ্ট নন। উসকানিদাতারাসহ অ’ভিযুক্ত অন্যরা বাবরি মসজিদ ‘ধ্বংস মা’মলা থেকে খালা’স পাওয়ায় মুসলিমদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হিন্দুদের জয়-প্রায় তিন দশকের দশকের আইনি ল’ড়াইয়ের পর গত বছর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অযো’দ্ধার বিতর্কিত এই স্থানের মালিকানা হিন্দুদের বলে রায় দেন। এছাড়া মসজিদ নির্মাণ করার জন্য শহরের অন্য একটি এলাকায় মুসলিমদের ভূমি দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জণ গগৈয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের বেঞ্চ এক সর্বসম্মত রায়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরে অযোধ্যার যে ২ দশমিক ৭৭ একর জমি নিয়ে বি’তর্ক ছিল; সেখানে রামমন্দিরই হবে। মুসলিমদের মসজিদের জন্য ৫ একর জমি দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয় রায়ে।
গত ৫ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযো’দ্ধার রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। মন্দিরের স্থানে রূপার তৈরি ইট স্থাপনের মাধ্যমে এ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
বিতর্কের আদ্যোপান্ত-অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের ২ দশমিক ৭৭ একর বিতর্কিত জমির আইনি ল’ড়াইয়ের শুরু হয় ১৯৫০ সালে। রামের ভক্ত গোপাল সিংহ বিশারদ বাবরি মসজিদকেই রামের জন্মভূমি দাবি করে সেখানে পূজার অধিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
পরমহংস রামচন্দ্র দাস সেখানে পূজার দাবি জানিয়ে মা’মলা করেন। ১৯৬১ সালে উত্তরপ্রদেশের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জমির অধিকার চেয়ে আদালতে যায়। ‘রামলালা বিরাজমান’ নিজেও মা’মলার পক্ষ হয়ে ওঠেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাবেক বি’চারপতি দেবকীনন্দন আগারওয়ালের দাবি, রামের জন্মভূমিই দেবতার চরিত্র পেয়েছে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বং’সের পর সব মা’মলা এলাহাবাদ হাইকোর্টে চলে আসে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া, রামলালার মধ্যে জমি সমান ভাগে করে দেয়া হোক। এর ফলে হিন্দুরা পায় জমির তিন ভাগের দু’ভাগ। মুসলিমরা এক ভাগ।
এর বি’রু’দ্ধে সব পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে মা’মলা করে। রামলালা বিরাজমানের আ’ইনজীবীরা দাবি করেন, রামের জন্মভূমি দেবতা-স্বরূপ। তার ভাগ হয় না। বিতর্কিত জমি মন্দিরের জন্য দেয়ার রায় ব্যাখ্যা করে গত বছরের ৯ নভেম্বর দেশটির সুপ্রিমকোর্ট বলেন, আর্কিওলজি সার্ভে অব ইন্ডিয়া প্রমাণ পেয়েছে যে, মোঘল সম্রাট বাবরের ১৬ শতকের মসজিদ ফাঁকা জায়গায় নির্মাণ করা হয়নি।
দেবতা রামচন্দ্রের জম্মভূমির ওপর তৈরি করা মন্দিরের ধ্বং’সা’বশেষের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা দেশটির কট্টরপন্থী হি’ন্দুত্ববা’দীদের। মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলেও ষোড়শ শতকের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বং’সের ঘ’টনাকে আইনের পরপন্থী বলে রায়ে বলেছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।






