আগামীকাল মিন্নির রায় নিয়ে যা বললেন তার বাবা
জেলা প্রতিনিধিঃ বহুল আ’লোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বি’চারক আছাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করবেন।
মা’মলার রায়ে রিফাতের স্ত্রী মা’মলার অন্যতম আ’সামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বেকসুর খা’লাস পাবে বলে প্র’ত্যাশা বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের। একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমরা আসলেই হ’য়রানির শি’কার। জীবন বা’জি রেখে মিন্নি তার স্বামীকে বাঁ’চানোর আ’প্রাণ চেষ্টা করে ব্য’র্থ হলো। অথচ মিন্নি প্রধান সা’ক্ষী থেকে এখন আ’সামির কা’ঠগড়ায়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, মিন্নির আইনজীবীরা যে যুক্তিতর্ক আদালতে উপস্থাপন করেছেন সেই যুক্তি খণ্ডন করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। মিন্নি যে নি’র্দোষ এটা আ’দালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন আমাদের আ’ইনজীবীরা। আ’ইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, মিন্নি এ মা’মলা থেকে বেকসুর খা’লাস পাবে।
মিন্নির আ’ইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, মা’মলার তদন্ত প্রতিবেদনে মিন্নির উপস্থিতিতে কলেজের শহীদ মিনারে হ’ত্যার পরিকল্পনার যে মিটিংয়ের কথা বলা হয়েছে, সেখানে মিন্নি ছিল না। আ’হত রিফাত শরীফকে মিন্নি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। কিন্তু সে বিষয়টি চার্জশিটের কোথাও নেই।
তিনি বলেন, রিফাত শরীফকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মিন্নির র’ক্তমা’খা জা’মা-কাপ’ড় পুলিশ নিলেও আদালতে সেই জামা-কাপড় উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ বলা হয়েছে, নয়ন ব’ন্ডের বাসা থেকে মিন্নির জামা-কাপড় জ’ব্দ করা হয়েছে এবং এই জ’ব্দ তালিকায় নয়ন ব’ন্ডের মা সাহিদা খাতুনের স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে উ’দ্ধার করা জা’মা-কাপড় যে মিন্নির তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ হয়নি। নয়ন ব’ন্ডের মাকে মা’মলায় সাক্ষী’ও করা হয়নি।
মিন্নির আ’ইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, যদি কেউ কাউকে খু’নের পরিকল্পনা করে তাহলে সে কখনও তাকে বাঁ’চাতে যায় না। মিন্নি যেভাবে রা’মদা’র নিচে গিয়ে তার স্বামীকে বাঁ’চানোর চেষ্টা করেছে এবং পরে রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে; এতেই বোঝা যায় মিন্নি নি’র্দোষ। মিন্নি কোনোভাবেই হ’ত্যায় জ’ড়িত নয়। আমরা মনে করি, আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তাই আশা করছি মিন্নি বে’কসুর খা’লাস পাবে।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কু’পি’য়ে হ’ত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কু’পি’য়ে হ’ত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভা’ইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ধা’রা’লো দা’ দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কো’প দিতে থাকেন দুই যুবক। ওই সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই যুবককে বারবার প্র’তি’হতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘ’টনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। কিন্তু স’ন্ত্রা’সীর সঙ্গে যু’দ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচা’তে পারলেন না স্ত্রী মিন্নি। গু’রুতর আ’হত অবস্থায় বরিশাল নেয়ার পর মা’রা যান রিফাত।
এ ঘ’টনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আ’সামি করে বরগুনা থানায় হ’ত্যা মা’মলা করেন; এতে মিন্নিকে প্রধান সা’ক্ষী করা হয়েছিল। এরপর আরেকটি ভিডিও ভা’ইরাল হয়। ওই ভিডিও দেখে মিন্নির বাবার বি’রুদ্ধে’ও মা’মলা করার কথা জানান রিফাতের বাবা।
এরই মধ্যে মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে স্বামী হত্যায় ফেঁসে যান মিন্নি। পরদিন তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দুদিন পরে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বী’কারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পরদিন মিন্নিকে আ’দালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। মিন্নির পাঁচদিনের রি’মান্ড ‘মঞ্জুর করেন আদালতের বি’চারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।
পরদিন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বী’কার করেছেন। এ হত্যার পরি’কল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
এসপির সংবাদ সম্মেলনের পরদিন বিকেলে মিন্নি একই আদালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বী’কার করে স্বী’কারো’ক্তিমূলক জ’বানবন্দি দেন। পরে আ’দালত তাকে জে’লহাজতে পা’ঠানোর নির্দেশ দেন।
অবশ্য মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন শুরু থেকেই অ’ভিযোগ করেন, নি’র্যাতন করে ও ভ’য়ভী’তি দেখিয়ে মিন্নিকে স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানবন্দি দিতে বা’ধ্য করেছে পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্র’ভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে।
গত ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বি’চারক মো. আছাদুজ্জামান মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেন। এর আগে ২১ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আ’দালত মিন্নির জা’মিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর মিন্নির জামিনের বিষয়টি হাইকোর্টে আসে। এ অবস্থায় মিন্নির জামিন কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২০ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট। অবশেষে ২৯ আগস্ট দুই শর্তে মিন্নির জা’মিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট।
এরপর রিফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির বি’রু’দ্ধে ৭৬ জন সা’ক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এক আ’সামির পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। সব আ’সামির প’ক্ষে-বি’পক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। ১৬ সেপ্টেম্বর নি’হত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে নি’র্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতে উপস্থাপিত যুক্তিখণ্ডন শেষে এ রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।




