ভ’য়াবহ যু’দ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানে
বি’তর্কিত নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে ব্যাপক যু’দ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ভ’য়াবহ এ সং’ঘাতের জন্য একে অ’পরকে দায়ী করছে দু’পক্ষে। সং’ঘাতের কারণে হ’তাহ’তের ঘট’না ঘটেছে বলেও খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
আর্মেনিয়া অ’ভিযোগ করেছে, প্রতিবেশী আজারবাইজান নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হা’মলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে অঞ্চলটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত। প্রধান শহর স্টেপেনকোর্টসহ নাগরনো কারাবাখ নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে হামলা চালায় আজারবাইজান। জবাবে আর্মেনিয়ার বাহিনী প্রতিপক্ষের দুটি হেলিকপ্টার এবং তিনটি ড্রোন ভূ’পাতিত করেছে।
তবে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আর্মেনিয়ার আ’ক্রমণ প্র’তিহত করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তারা পাল্টা আ’ক্রমণ চা’লিয়েছে। এ সময় তারা ট্যাংক, আর্টিলারি মি’সাইল, যু’দ্ধবি’মান এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজারবাইজানের হেলিকপ্টার ভূ’পাতিত করা হলেও ক্রুরা জী’বিত আছেন।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হিকমেত হাজিয়েভ এক বিবৃতিতে বলেন, হ’তাহ’তদের মধ্যে সাধারণ মানুষ এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ হ’তাহ’ত হয়েছে। সেখানে সামরিক আইন জারি ছিল। পরে পুরো এলাকা সামরিকীকরণ করা হয়েছে। আলাদা বিবৃতিতে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আর্মিনিয়ার এক নারী এবং এক শিশু নি’হত হয়েছে।
দীর্ঘকাল ধরে চলমান সং’ঘাত পর্যবেক্ষণ করছেন আল-জাজিরার রবিন ফরস্টিয়ার-ওয়াকার। রোববারের ঘট’নাকে অত্যন্ত গু’রুতর সং’ঘাত বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সং’ঘাত চলছে। চিরশত্রু দু’দেশের মধ্যকার নতুন সং’ঘাত আরও ভ’য়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আ’শঙ্কা করা হচ্ছে।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভে’ঙে যাওয়ার পর আর্মেনিয়ারা ওই অঞ্চলে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ওই যু’দ্ধে কারবাখকে, বাকু থেকে দখল করে নেয় তারা। সে সময় ৩০ হাজার মানুষ নি’হত হয়। ১৯৯৪ সালে যু’দ্ধবিরতিতে একমত হয় আজারবাইজান-আর্মেনিয়া। তবে নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল এবং আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে হা’মলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে আসছিল দু’পক্ষ।
নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে বিতর্ক নিরসনে আলোচনা, যু’দ্ধবিরতি চুক্তির পর মূলত থেমে যায়। ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ গঠিত মিনসক গ্রুপ সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার জন্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু ২০১০ সালে শান্তি চুক্তির বড় একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অতিসত্বর যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য অতিদ্রুত যু’দ্ধ বন্ধ এবং দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইবরাহিম কালিন এক টুইট বার্তায় বলেন, বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়িতে হা’মলা চালিয়ে যু’দ্ধবিরতি লঙ্ঘ’ন করেছে আর্মেনিয়া। ভয়াবহ এ উস্কানি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জুলাইতে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সীমান্তে ব্যাপক সং’ঘাত হয়। এতে উভয়পক্ষের ১৭ সেনা নি’হত হন।






