340678

সাবেক ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতির সংসার চালছে চা বিক্রি করে

নাম মোঃ মোতালেব মুন্সী। বয়স ৬৫। তিনি মনে প্রানে নিবেদিত এক আওয়ামীলীগ কর্মী। ২০০৪ সালে সুধা সদনে ও ঝিকাতলা বসে দুইবারে বর্তমান মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ হয়েছে তাঁর। একই বছর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসে ৪ কেজি ঝিলাপি দিয়ে মিলাদা দেয়ায় তাকে ও আজাহার বিশ্বাসকে শালিসি ব্যবস্থার মাধ্যেমে অপমান করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

এমনকি তিনি বলেন গরু চুরি করলেও ওই সময়ে এত অপমানিত হতেন না। তাদের অফিসে আমাকে চেহার দিতে হয়েছে এবং টিভি চুরি মামলায় জড়ানো হয়েছে আমাকেসহ আরো কয়েক জনকে। বিএনপি জোট সরকারের সময়ে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি ছিলাম এবং বর্তামানে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য পদে আছেন। আওয়ামীলীগ করে আমি যে ত্যাগ স্বীকার করেছি তা কেউ করেনি ওই সময়ে। বিএনপির আমলে এ এলাকায় কেউ সাহস করেনি বঙ্গবন্ধুর নামে মিলাদ দেয়ার। এ এলাকায় কোন আওয়ামীলীগ নেতাই ছিলো না। সবাই ছিলো পলানো অবস্থায়।

এ কথা বলেলে গৌরভের কথা হয়। তখন আমিসহ কয়েকজন মিলে বঙ্গবন্ধুর নামে মিলাদ দেয়ার চেষ্টা করেছি। অথচ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরে আমার কেউ আর খবর রাখেনি। এখন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার গাবুয়া বাজারে চায়ের দোকান করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাঁর যৌবনের তারুন্য এখন আর নেই। আওয়ামীলীগে হাইব্রীড নেতাদের ভীরে হারিয়ে গেছেন। ক্ষোভের সাথে এমন কথা গুলো বলেছিলেন মোতালেব মুন্সী। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম পটুয়াখালী ও বরগুনায় আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বরগুনা সফর শেষে পটুয়াখালী আসলে সেই সভায় আমি পায়ে হেঁটে মির্জাগঞ্জ থেকে পটুয়াখালী গিয়েছি। ওই সময়ে খেয়ে না খেয়ে আওয়ামীলীগ করেছেন। এখন আওয়ামীলীগ করেন ক্ষমতা আর অর্ধের লোভে। ২০০৪ সালে বিএনপি জোট সরকারের আমলে উপজেলার গাবুয়া বাজারে বিএনপি অফিস করে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের অপমান ও হেনস্থা করা হতো। শোক দিবস পালন করায় পনু নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা বিএনপি নেতারা ধাওয়া দিলে গাবুয়া বাজারে ফার্নিচার ব্যবসায়ী কাইয়ুমের ঘরে দৌড়ে উঠলে তাকে এলাকা ছাড়তে হয় ও জরিমানা গুনতে হয়েছে।

মোতাবেল মুন্সী বলেন, ২০০৪ সালে বরিশালের মেহিন্দাগঞ্জের এক মেজর মহসিন স্যারের মাধ্যমে জন নেত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ হয়েছে এবং তিনি অনেক আমাদের সাহস দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরে পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট শাহজান মিয়ার নেতার কাছে গিয়েছি কিন্তু সুযোগ আর হয়নি নেত্রীর সাথে দেখা করার। পরে অনেক চেষ্টা করেছি জন নেত্রীর সাথে দেখা করার। তবে কোন দিন দেখা হলে আমার দুঃখের কথা বলতাম। কোন কিছু পাবো তো দূরের কথা এখন আমারদের মতো কর্মীদের কোন মূল্যই নেই দলে। এখন কোন মতে চায়ের দোকানের পাশাপাশি সার বিক্রি করে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সংসার চালাই। বড় মেয়ে ঢাকায় চাকরী করেন। দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরাই দলকে আখরে রাখে।

এখন বয়স হয়ে গেছে তাই আর বেশি ছুটাছুটি করতে পারি না। দলকে ভালোবাসি এই বিশ্বাস নিয়ে আছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দুঃস্থদের টাকা দিয়েছেন মোবাইলের মাধ্যমে। কিন্তু আমার কোন ত্রানের খাতায় নাম নেই। একটি ঘরের জন্য কত চেষ্টা করেছি তাও পাইনি। বারবার হেরে গেছি কোন অজানা কারনে। কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সিরাজুল ইসলাম (নিলু) বলেন, মোতারেব মুন্সী একজন প্রকৃত আওয়ামীলীগের কর্মী। আমিসহ মোতালেব মুন্সী বিএনপির জোট সরকারের আমলে নির্যাতিত হয়েছি। সে কথা একটু বেশি বলেন তবুও যদি আপনাদের মাধ্যেমে পারেন তাঁর উপকার করেন।

ad

পাঠকের মতামত