338383

ইউএনও ওয়াহিদাকে হা’তুড়িপে’টা: সিসিটিভি ফুটেজে যা আছে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে (৭০)হা’তুড়ি দিয়ে পি’টিয়ে জ’খম করেছে দু’র্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সারাদেশে। সবাই এ নৃ’শংস হা’মলার নি’ন্দা জানিয়েছেন। হা’মলাকারী’দের দ্রুত বি’চার দাবি করেছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে ঢুকে নি’রাপত্তাপ্রহরীকে আটকে রেখে এ হা’মলা চালানো হয়। প্রচ’ণ্ড আ’ঘাতে ওয়াহিদার মা’থার খু’লির হা’ড় ভে’ঙে ভেতরে ঢুকে যায়।

জ’খম মা’রাত্মক হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ইউএনওকে ঢাকায় আনা হয়। বেলা ৩টায় তাকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয়। রাত ৯টায় শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে অ’স্ত্রোপ’চার করা হয়। অ’স্ত্রোপ’চার সফল হলেও তিনি শ’ঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ইউএনওর বাসায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এতে দুজন দু’র্বৃত্তকে হাম’লায় অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের মুখে মু’খোশ ছিল এবং সেগুলো দেখে পর্যালোচনা চলছে। পুলিশের চৌকস একটি টিম কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এ হা’মলায় অংশ নেয় দুজন। এদের মধ্যে একজন ছিল মুখোশ পরা এবং অন্যজন পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) পরা।

যাতে তাদের চেনা না যায়। রাতে তারা এক এক করে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ঘটনা ঘটিয়ে একসঙ্গেই বের হয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এমন কথা নিশ্চিত করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা ও পুলিশের রংপুর জোনের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।

এর আগেও একই কথা জানান ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। সিসিটিভি ফুটেজ ধরেই এগোচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে হা’মলায় অংশ নেন হালকা স্বাস্থ্যের দু’জন তরুণ।তবে তাদের চেহারা পুরো বোঝা যাচ্ছে না। হা’তুড়িজা’তীয় কিছু দিয়ে আ’ঘাত করেছে।

এদিকে অন্যান্য উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ক্যাম্পাস ও থানা প্রায় কাছাকাছি অবস্থান হলেও ঘোড়াঘাট উপজেলার চিত্র ভিন্ন। ঘোড়াঘাট উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ক্যাম্পাস ওসমানপুর আর ঘোড়াঘাট থানা সেখান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে।

ওসমানপুরে উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনওর বাড়ির পেছনটা সুনসান। নেই তেমন নি’রাপত্তা ব্যবস্থা। বাড়িতে ছিল শুধু একজন নৈশপ্রহরী। এ অবস্থায় থানা ৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় নিরাপদ ভেবেই দু’ষ্কৃতকা’রীরা নির্বিঘ্নে এই ঘটনা ঘটাতে পেরেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে উপজেলা ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী অধিবাসী ঘোড়াঘাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুট্টু জানান, উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাস ও থানার দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। এ কারণেই উপজেলা পরিষদ ওসমানপুরে প্রায়ই চু’রিসহ বিভিন্ন অপকর্ম ঘটায় দু’ষ্কৃতকা’রীরা। উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের অদূরে গত ১৫ দিন আগে তার বাড়িতেও চু’রি সংঘ’টিত হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল চু’রি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর নানান অভিযানে অংশ নেন ওয়াহিদা খানম। বিভিন্ন অ’বৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদী থেকে অ’বৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অবৈধ কারখানা বন্ধসহ বিভিন্ন অ’পকর্ম বন্ধ করেন তিনি। তিনি কখনোই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি।

তবে কী কারণে এই হামলা, সিসিটিভি ফুটেজের দুজন এবং আর কে কে এর পেছনে থাকতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হা’মলাকা’রীদের গ্রে’ফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন তিনি আশাবাদী, খুব দ্রুত গ্রে’ফতার করতে পারবেন।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের হা’মলার বিষয়ে কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এ সময় তার পাশে সচিব শেখ ইউসুফ হারুনও উপস্থিত ছিলেন। ওয়াহিদা মা’রাত্মকভাবে আ’হত হয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শ’ত্রুতাবশত মনে করলে সে একা আ’ক্রান্ত হতো, কিন্তু তার পিতাও আ’ক্রান্ত হয়েছেন। ডা’কাতির উদ্দে’শ্যে বা এরকম কিছুও হতে পারে।

আমরা অপেক্ষা করছি, অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছি। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আশা করি জটটা খুলবে এবং আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ad

পাঠকের মতামত