প্রতিবছর ৫-৬ টি মহামারি আসতে পারে!
বন নিধন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণের কারণে ধীরে ধীরে জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে পৃথিবী। পাশাপাশি চলছে বন্যপ্রাণী নিধন। বাড়ছে মহামারি। এভাবেই চলতে থাকলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন বছরে ৫ থেকে ৬ টি মহামারির সম্মুখীন হতে হবে মানব সভ্যতাকে। জীববৈচিত্র্য নিয়ে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের করা গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।
বন নিধন আর অপরিকল্পিত কৃষিকাজের কারণে বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের মাঝে ভবিষ্যতে আরো বেশি ছড়াবে মহামারি। বিজ্ঞানীদের দাবি, পরিবেশ ধ্বংসের সাথে মহামারির নিবিড় সম্পৃক্ততা আছে। তাদের দাবি, যেসব রোগের প্রকোপ এখন দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর এক তৃতীয়াংশই পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত।
বিশ্বে বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিবছর গড়ে ১ কোটি হেক্টর করে বন নিধন হচ্ছে। অথচ মানব সভ্যতার আগে পৃথিবীতে ৬ কোটি স্কয়ার কিলোমিটার বনাঞ্চল ছিলো। কিন্তু এখন মানুষের কারণে ৪ কোটি স্কয়ার কিলোমিটারেরও কম বনাঞ্চল অবশিষ্ট আছে পৃথিবীতে। বন নিধন করে সে জমি ব্যবহার করা হয় কৃষিকাজে, জ্বালানি তেল উত্তোলনে, অন্যান্য খনন কাজে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী রক্ষা, বননিধন বন্ধ আর জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা এখন সময়ের দাবি হলেও এজন্য বছরে ২ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। এইচআইভি, সোয়াইন ফ্লু আর ইবোলার মতো মহামারি বন্যপ্রাণী থেকেই এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাদুরসহ বেশ কিছু বন্যপ্রাণী এখনো অনেক অদ্ভুত ভাইরাস শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছে।
বনে কাজ করা শ্রমিকদের সাথে খাবার থাকে না। বনে যা শিকার করতে পারে, তারা সেটাই খায়। আর সেখান থেকেই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়।
নেচার সাইন্টিফিক রিপোর্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, আগামী ২ থেকে ৪ দশকের মধ্যেই মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে পৃথিবী। এখনকার সময়ের মতোই যদি বননিধন চলতে থাকে, তাহলে সারা পৃথিবীর বন উজাড় করতে সময় লাগবে মাত্র ১শ’ থেকে ২শ’ বছর। নষ্ট হবে কার্বন ডাই অক্সাইড, অক্সিজেনের ব্যালেন্স। থাকবে না বিশুদ্ধ পানি, মাটিও চাষের অযোগ্য হবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানব সভ্যতা বাঁচাতে সময় আছে মাত্র কয়েক দশক।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামনের মহামারির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, তার মাত্র ২ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে করোনা মহামারিতে। করোনা মহামারিতে এখন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়ে গেছে।




