সিগারেটের ফয়েল পেপার থেকে দলব’দ্ধ ধ’র্ষণ ও হ’ত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
নীলফামারীর সৈয়দপুরের গৃহবধূ আকলিমা বেগমকে (২৫) ধ’র্ষণের পর হ’ত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে সি’গারেটের ফয়েল পেপারের সূত্র ধরে। ওই গৃহবধূর ম’রদে’হের সঙ্গে পাওয়া একটি সু’ইসাইড নোটের সূত্র ধরে হ’ত্যা রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান শনিবার দুপুরে তার সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের মৎস্য খামারের পেছনের বাঁশঝাড় থেকে ২৩ আগস্ট সকালে এক নারীর ম’রদে’হ উদ্ধার হয়। ম’রদে’হের কোমরে পাওয়া যায় একটি সু’ইসাইড নোট। ডার্বি সি’গারেটের ফয়েল পেপারে ওই সু’ইসাইড নোটটিতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না’।
তিনি জানান, পরে পুলিশ জানতে পারে তার নাম আকলিমা বেগম (২৫)। তিনি কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামের মৃ’ত আবেদ আলীর মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবরা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের রয়েছে এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলের বয়স ৬ বছর। এক মেয়ের বয়স ১৮ মাস, আরেক মেয়ের বয়স ২ মাস। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী শরিফুল ইসলাম সন্তানদের রেখে ঘটনার ১২ দিন আগে আকলিমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ অবস্থায় আকলিমা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পুলিশ জানায়, বাবার বাড়িতেও পরিবারের লোকজন তাকে মেনে না নিয়ে গালমন্দ করে। এতে ক্ষো’ভে ও দুঃখে আকলিমা ২২ আগস্ট বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে কামাপুকুর মৎস্য খামার এলাকায় ঘুরতে থাকেন। সেখানে একই গ্রামের কাঙ্গালু পাড়ার আনারুল ইসলাম (৩৫), মো. শুভ (২০) ও মো. হৃদয় (১৮) তাকে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকা দিতে চায়। একপর্যায়ে তারা তাকে পার্শ্ববর্তী বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে পা’লাক্রমে ‘ধর্ষণ করে। আকলিমা ঘটনার কথা প্রকাশের হুম’কি দিলে তারা তাকে শ্বা’সরো’ধে হ’ত্যা করে গ’লায় দ’ড়ি দিয়ে আ’ত্মহ’ত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় আনারুল নিজ হাতে সু’ইসা’ইড নোট লিখে আকলিমার কোমরে গুঁজে দেয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, নি’হত আকলিমার মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ২৩ আগস্ট নি’হতের স্বামী শরিফুল ইসলামকে আ’সামি করে সৈয়দপুর থানায় মা’মলা দায়ের করেন। আমরা তার স্বামীকে ওই মা’মলায় গ্রে’প্তার করি। এরপর সু’ইসা’ইড নোটের সূত্র ধরে ওই এলাকায় ডার্বি সিগারেট পান করেন এমন ৫০ থেকে ৬০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করি। সু’ইসা’ইড নোটের লেখার সঙ্গে তাদের হাতের লেখা মেলানোর চেষ্টা করি। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করি। একপর্যায়ে আনারুল ইসলামের হাতের লেখার সঙ্গে সু’ইসা’ইড নোটের লেখা মিলে যায়। আমরা তাকে গ্রে’প্তার করলে তিনি ঘটনায় তিনজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে আমরা মো. শুভকেও গ্রে’প্তার করি। তারা দু’জন শুক্রবার ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। এ ঘটনায় জড়িত হৃদয় প’লাতক রয়েছে। তাকে গ্রে’প্তারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, আকলিমা বেগমের এমন পরিণতির জন্য তার স্বামী শরিফুল ইসলামকেও দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, মেয়েটি স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় পেল না, ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় পেল না, বাইরের সমাজও তাকে জায়গা দিল না। যে কারণে তাকে ওই নি’র্মম পরিণতির শিকার হতে হলো।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর রহমান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজমিরুজ্জামান প্রমুখ।




