ভুল চিকিৎসায় আর কোনো মা-বাবার বুক যেন খালি না হয়
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল ঘেরাও করে বি’ক্ষোভ ও ভা’ঙচুর করেছেন স্বজনরা। এ সময় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অ’বরোধ করেন তারা। রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ফতুল্লার পাগলার গ্রীন ডেলটা হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই বি’ক্ষোভ শুরু করেন মৃ’তের স্বজনরা।
মৃ’ত স্কুলছাত্রী আয়েশা আক্তার আলফি (১৪) পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সে ফতুল্লার দক্ষিণ নয়ামাটি এলাকার শাহাদাৎ হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মিজানুর রহমানের মেয়ে।
জানা যায়, চারদিন আগে (২০ আগস্ট) বাড়ির ছাদে সমবয়সীদের সাথে খেলার সময় হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যায়। যার ফলে ব্যা’থা অনুভব করলে স্থানীয় পাগলা বাজার কামালপুরে অবস্থিত গ্রীন ডেলটা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, পায়ের হাড় ভে’ঙ্গে গেছে এবং অ’পারেশন করাতে হবে। আলফির অভিভাবক এখানে অ’পারেশন করাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও, তারা আস্থা দেয় তারা এটা সম্পন্ন করতে পারবে। ততক্ষন পর্যন্ত আলফি স্বাভাবিক ছিলো। পরবর্তীতে অ’পারেশনের জন্য তাকে অজ্ঞান করার জন্য Anthesia ই’নজেকশন পুশ করা হয় ভুল জায়গায়। যার ফলে কার্যকারিতা না পাওয়ায় তারা আবারো ই’নজেকশন পুশ করে এবং ওভার ডোজের কারণে একপর্যায়ে কো’মায় চলে যেতে থাকে আলভী। মূহুর্তের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে যায় আলভীর পুরো শরী’র। অবস্থা বেগতিক দেখে গ্রীন ডেলটা কতৃপক্ষ জানায় আলফির আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। যা তাদের এখানে না থাকায়, তারা তাদের অন্য শাখা ধোলাইপাড় ডেলটা হাসপাতালে (যাত্রাবাড়ী শাখা) নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ ৩ দিন মৃত্যুর সাথে ল’ড়াই করার পর আজ (২৩ আগস্ট) সকালে আইসিইউ রুমে আলফির বড় ভাই হাসিবুল হাসান শান্ত (২২) প্রবেশ করে দেখতে পায় যে ইতিমধ্যে আলফির সমস্ত শ’রীর ঠান্ডা হয়ে গেছে এবং পালস বন্ধ হয়ে যাওয়াতে নিশ্চিত হন তার বোন আর নেই। ডাক্তারদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোয় আলফির পরিবার অপেক্ষায় থাকে এবং একপর্যায়ে তাদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর আসে।
আলফির বাবা মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়েকে হারিয়েছি। আমার বুকটা খালি হয়ে গেল। আমি মেয়ে হ’ত্যার বিচার চাই। এই হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হবে; যাতে ভুল চিকিৎসায় আর কোনো মা-বাবার বুক খালি না হয়।
হাসপাতালের সামনে বি’ক্ষোভ ও সড়ক অ’বরোধের খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তিনি সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে স্বজনরা সড়ক অ’বরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, মৃ’তের স্বজনরা সড়ক অ’বরোধ করেছিল। তাদের বিচারের আশ্বাস দেয়ায় অ’বরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।






