335939

আমিরাত-ইসরায়েল চুক্তি, মুখ খুললো সৌদি আরব

দীর্ঘদিনের আরব পিস ইনিশিয়েটিভের ভিত্তিতে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সৌদি আরব। অতিসম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক উন্নত করার ঘোষণা দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

১৯ আগস্ট, বুধবার জার্মানির বার্লিনে এক অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই কথা বলেন। এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইট বার্তায় জানায় ওই অনুষ্ঠানে ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করার জন্য ইসরায়েলের যে কোনো ধরনের একতরফা ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানকে হেয় করার শামিল বলে মনে করে সৌদি আরব।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চুক্তিতে পৌঁছেছে তারা। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন লড়াই, ফিলিস্তিন ইস্যুসহ মধ্যপ্রাচ্যের পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

সৌদি আরব ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরব পিস ইনিশিয়েটিভের প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখলিকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিনিময়ে দেশটির সঙ্গে আরব বিশ্বের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দেয় রিয়াদ।

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের লঙ্ঘন এবং জেরুজালেমের মর্যাদা পাল্টে দেয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের কোনো শান্তি পরিকল্পনা সৌদি সমর্থন করবে না বলে দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন দেশটির বাদশাহ সালমান। এমনকি ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাদশাহ সালমানের সঙ্গে সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মতের কোনো অমিল নেই বলে দাবি করেন দেশটির কর্মকর্তারা।

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সুসম্পর্ক থাকলেও গত এপ্রিলে মার্কিন একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ইসরায়েলিরা শুধুমাত্র তাদের নিজ ভূখণ্ডেই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার রাখেন।

ইরানকে বড় ধরনের হুমকি মনে করে সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। তেহরান এবং রিয়াদের চলমান উত্তেজনায় সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়াদ এবং তেলআবিবের কিছু কার্যক্রমেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে।

ad

পাঠকের মতামত