335610

পরবর্তী মেসি-রোনালদো হবেন নেইমার-এমবাপ্পে?

৩৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর ৩৩ বছর বয়সে পা রেখেছেন লিওনেল মেসি। তার আগে ১৫ বছর ফুটবল দুনিয়া শাসন করেছেন এ দু’জন। এই বয়সেও নিজেদের দাপটটা ঠিকই জানান দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বকালের সেরাদের কাতারে এই দু’জনকে নিশ্চিন্তে রেখে দিতে চান অনেকেই। তবে বয়স তো কথা মানছে না! ফুটবল বোদ্ধারা এরইমধ্যে পরবর্তী মেসি-রোনালদো কারা হতে পারেন এ নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন।

একটা বিষয়ে সবাই একমত হন, একজন লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বছর বছর জন্মান না। তারা আসেন যুগান্তরে কিংবা শতকে একবার। এমন জুটি খুঁজে পাওয়াও মুশকিল, যারা একটানা ১৫ বছর আধিপত্য দেখিয়েছেন। সমানতালে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চালিয়ে গেছেন।

তারপরও বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করেন কেউ কেউ। এই যেমন মেসি-রোনালদো পরবর্তী যুগের ছড়িটা কারা দখল করবেন? এই প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে। যে কয়জনের তালিকা করা হয় তাতে উঠে আসে ফরাসী তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পে আর ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন নেইমার জুনিয়রের কথা।

মজার ব্যাপার, যেখানে মেসি-রোনালদোকে জুটি বাঁধতে দেখা অবিশ্বাস্য এবং কল্পনাতীত ছিলো, সেখানে এই দুইজনই খেলছেন একই ক্লাবে। তাদের দু’জনের পারফরম্যান্সে ভর করে ফরাসী ক্লাব পিএসজিও ইউরোপীয়ান ফুটবলে দাপট দেখানো শুরু করেছে। এরইমধ্যে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি উঠে এসেছে সেমিফাইনাল। যে আসর থেকে রোনালদোর য়্যুভেন্তাস, মেসির বার্সেলোনা কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ-ম্যানচেস্টার সিটি বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই। সেই আসরে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে নেইমার-এমবাপ্পের পিএসজি।

সেক্ষেত্রে দু’জনের ভূমিকাটাও বেশ। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে আটালান্টার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও শেষমুহূর্তে জয়ের পেছনে বড় ভূমিকাটা এই দু’জনের। নেইমার তো পুরো ম্যাচে আক্রমনভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেনই। ইনজুরি নিয়েও ম্যাচের ৬০ মিনিটে মাঠে নামেন এমবাপ্পে। এরপরই ম্যাচের পাল্লা ঝুঁকে যায় পিএসজির দিকে। শেষমুহূর্তের দুটো গোলের একটি এসেছে নেইমারের পাস থেকে, অন্যটি এমবাপ্পের পাস থেকে।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারলে ইউরোপের বাজারে যে বাড়তি কদর পাবেন এমবাপ্পে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সাবেক বার্সেলোনা তারকা নেইমারের দখলে তো ট্রান্সফার ফি’র রেকর্ডটা আছেই! এই দু’জনেই তাই বাজি ধরছেন বেশিরভাগ ফুটবলবোদ্ধা।

পিএসজি কোচ থমাস টাচেলও তার দুই সৈনিককে নিয়ে বেশ উচ্চাকাঙ্খী। আটালান্টাকে হারানোর পর তার কথার জোরটাও আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, ওরা দু’জন অবিশ্বাস্য। আমার দলের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে এই দুজনকে একসঙ্গে পাওয়া। নেইমার ড্রিবলিং করে আর এমবাপ্পে ম্যাচের গতি বাড়ায়। দু’জনেরই আবার প্রচন্ড গোলক্ষুধা। সবসময়ই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এ দু’জন।

নেইমার কিংবা এমবাপ্পে দু’জনেরই প্রশংসায় একেবারে পঞ্চমুখ পিএসজি কোচ।তিনি বলেন, নেইমার অধিনায়ক হিসেবে অন্যরকম। সে সবসময়ই জিততে চায়। মাঠে সে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী। একইসঙ্গে প্রচন্ড সাহসীও।

এমবাপ্পেকে নিয়ে টাচেল বলেন, সে দুর্দান্ত। সারা মাঠ দৌড়ে বেড়ায়। ব্যাপক গতি আছে তার খেলায়। মুহূর্তের মধ্যে সে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দিতে পারে। খুব কম দলেই আপনি এমন একটা জুটি দেখাতে পারবেন।দু’জনেরই বিশ্বসেরা হওয়ার মতো যোগ্যতা আছে বলে মনে করেন টাচেল।

এদিকে, ইনজুরি কাটিয়ে সেমিফাইনালের জন্য এমবাপ্পে পুরোপুরি ফিট বলেও জানিয়েছেন পিএসজি কোচ। আগের ম্যাচে ৩০ মিনিট খেললেও, লিপজিগের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট তাকে পেতে চায় ফরাসী জায়ান্টরা।

ad

পাঠকের মতামত