335460

বাদশার আ’হা’জা’রি

নিউজ ডেস্ক।। ‘লাইন চালু রেখেই ১১ হাজার ভো’ল্টে’র বি’দ্যুতের তা’রের সং’যো’গ লা’গাতে বলা হয়। বারবার বলেছি লাইন ব’ন্ধ করেন। ঠিকাদার বললেন কাজ ক’রো। চা’পের মুখে সংযো’গ স্থাপনের জন্য ১১ হাজার ভোল্টের বি’দ্যুতের তা’রে হা’ত দিই।

স’ঙ্গে স’ঙ্গে বি’দ্যুৎস্পৃ’ষ্ট হয়ে খুঁ’টিতে ঝু’লে যাই। ঝু’লে থাকা অব’স্থায় ঠিকাদার পা’লিয়ে যান। পরে বি’দ্যুতের সংযো’গ ব’ন্ধ করে আমাকে উ’দ্ধার করা হয়। কিন্তু ত’তক্ষ’ণে সব শেষ। প্রাণে বাঁ’চলেও দুই হাত কে’টে ফে’লতে হয় আমার। এখন প্র’তিব’ন্ধী হয়ে বেঁ’চে আছি। ঠিকাদারের ভু’লে চি’রত’রে প’ঙ্গু হয়ে গেলাম আমি।’

পল্লী বি’দ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প’ঙ্গু হওয়ার নির্ম’ম ঘটনার বর্ণনা এভাবেই দেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের চন্দনপাঠ গ্রামের যুবক বাদশা মিয়া। ঠিকাদারের হয়ে পল্লী বি’দ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প’ঙ্গু হন তিনি। সেদিনের ঘটনার কথা মনে করে কেঁ’দে ফেলেন বাদশা মিয়া।

২০০৯ সালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন বাদশা। ২০১১ সালে এমএ মোত্তালিব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। ২০১৩ সালে তার মা ফেলানী বেগম মা’রা যান। মা হা’রানোর শো’ক বুকে নিয়ে অনেক ক’ষ্টে পড়াশোনা চালিয়ে বোনারপাড়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন তিনি।

বাবা মোসলেম উদ্দিন রংপুর সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বাদশা মেজো। বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বিজিবিতে কর্মরত। ছোট ভাই মেহেদী হাসান লেখাপড়া করছেন। স্ব’প্ন ছিল লেখাপড়া শেষে সরকারি চাকরি করে বড় ভাইয়ের পাশাপাশি সংসারের হাল ধ’রবেন। এরই মধ্যে পাশের গ্রামের উর্মি আক্তারকে বিয়ে করেন বাদশা।

বিয়ের ছয় মাস না যেতেই অধিক বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলেন প্রতিবেশী পল্লী বি’দ্যুতের ঠিকাদার সোহরাব এন্টারপ্রাইজের মালিক মোখলেছুর রহমান। পল্লী বি’দ্যুতের কাজে বাদশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বিটঘর কাইতলা এলাকায় নিয়ে যান মোখলেছুর রহমান। কি কাজ করতে হবে কোনো ধা’রণা না দিয়েই বাদশাকে পল্লী বি’দ্যুতের কাজ করতে বলা হয়। এরপর জীবিকার তাগিদে পল্লী বি’দ্যুতের কাজ শুরু করেন তিনি।

নেই কোনো অভি’জ্ঞতা, নেই দ’ক্ষতা। ঠিকাদার যেভাবে বলেন সেভাবে বি’দ্যুতের কাজ করতে হয়। কাজ করতে গিয়ে বি’দ্যুতের সং’যোগ ব’ন্ধ আছে কি-না জানতে চাইলে ঠিকাদার গা’লিগা’লাজ করেন। কাজ করতে গিয়ে বাদশা বুঝে গেছেন ঠিকাদারের কাছে কর্মীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই।

১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের সং’যোগ বন্ধ না করেই নতুন সং’যোগ স্থাপনের কাজ করতে হয় বাদশাকে। দু’র্ঘট’নার দিন বি’দ্যুতের খুঁ’টিতে উঠে বাদশা বারবার ঠিকাদার মোখলেছুর রহমান ও অন্যদের বলেছেন সং’যোগ ব’ন্ধ কি-না। এ সময় ঠিকাদার রে’গে গিয়ে বলেন লাইন ব’ন্ধ, কাজ করো। এত ভ’য় কিসের। টাকা কি এমনি এমনি দেব।

ad

পাঠকের মতামত