334772

‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস মেয়েরাই বেশি করে, ছেলেরা নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে ১৮ শতাংশ পুরুষ ধ’র্ষি’ত হয়, মহিলারা তাদের যৌ’ন হেন’স্থাও করে। কিন্তু পুরুষ সে কথা বাইরে বলতে পারে না। দেশের আইন প্রায় পুরোটাই মেয়েদের পক্ষে। পুরুষ তাই নিরু’পায়। এ সমাজ আর সেভাবে আজ পুরুষতা’ন্ত্রিক নয়, বরং মেয়েদের হাতেই চলে যাচ্ছে অনেক ক্ষমতা। আর এই ক্ষম’তাই প’চন ধ’রাচ্ছে, ভু’গছেন পুরুষরা।

তাই দেশের আইনে প্রকৃত লি’ঙ্গসাম্য চাই। পুরুষ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজে গণ আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। এমনটাই মনে করেন নারী হয়েও পুরুষাধিকার র’ক্ষার লড়া’ইয়ে প্রথম সারির মুখ নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাদের লড়া’ই-সং’গ্রামের কথা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন নন্দিনী।

তিনি বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ একটা মিথ। আমাদের ভুল ধারণা যে আমরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করি। এক সময় এটা ছিল, খুব বেশিভাবেই ছিল। মেয়েরা তখন অত্যন্ত নি’র্যা’তিতা হতেন, এখনও হন না, একথা আমি বলছি না। তবে এখন আর খুব বেশি পু’রুষতা’ন্ত্রিক সমাজ নেই। এই ধা’রনাটা বহু দিন ধরে চলে আসছে। আমাদের বোধ হয় এবার এটা ব’দলানোর সময় এসেছে। দেখবেন, অনেক বাড়িতে ঠাকুমা অথবা মা কিংবা স্ত্রীর বাড়ির নানা নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি ঢুকে পড়েছে।

নন্দিনী বলেন, আমি কিন্তু, অর্থনৈতিক জায়গা থেকে বলছি না। বরং বলছি, সামাজিক অবস্থানগত দিক থেকে। লক্ষ্য করবেন, ছেলে মেয়ে কোন স্কুলে বা টিউশনে পড়বে, মা না শাশুড়ি কাকে বেশি দামি শাড়ি দেওয়া হবে- এসব সিদ্ধান্ত মোটামুটি এখন পরিবারের মহিলারাই নিয়ে থাকেন। আর, পুরুষরা ঠিক করেন ফারাক্কাকে কত কিউসেক জল দেওয়া হবে বা আনবিক বো’মা ফা’টানোর রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল, এগুলি। এর থেকেই বোঝা যায়, পরিবার এবং বৃহত্তর পরিবার অর্থাৎ সমাজের দরকারি সিদ্ধান্তগুলি মহিলারাই নিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ”আমাদের কাজ দেশের আইনে প্রকৃত লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য লড়া’ই। নিরা’পরা’ধ পুরুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করা। কিছুদিন আগেই একটি ভিডিও ভাই’রাল হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল, এক পুরুষ তার স্ত্রীর হাতে বে’ধড়’ক মা’র খাচ্ছেন। সেই পুরুষটি যদি থানায় যেতেন, তবুও তিনি অ’ভিযো’গ জানাতে পারতেন না। কারণ, আমাদের দেশের আইনটি হল- ”প্রোটেকশন অব উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়লেন্স”। আমরা চাই, গার্হস্থ্য হিং’সার এই আইন, লি’ঙ্গ নিরপেক্ষ হোক।

নন্দিনী বলেন, পুরুষই শুধু ধ’র্ষ’ণ-যৌ’ন হেন’স্থা করে? এ দেশে ১৮ শতাংশ পুরুষও মহিলাদের হাতে যৌ’ন হে’ন’স্থা-ধ’র্ষ’ণের শি’কার। কিছুদিন আগে পার্লামেন্টকে অনুরোধ করা হয়েছিল যাতে ধ’র্ষ’ণের আইনটাকে লি’ঙ্গ নি’রপে’ক্ষ করা হয়। কিন্তু আমাদের মহান সংসদ তা অস্বী’কার করেছে। আমাদের কাছে এমন পুরুষরা আসেন। বহু ক্ষেত্রেই সেগুলি পুরুষদের বি’রু’দ্ধে ভু’য়ো ধ’র্ষ’ণ মামলা। আসলে ঘ’টনা অন্য রকম হয়।

পুরুষদের সাধারণত কে ধ’র্ষ’ণ করে থাকে? জবাবে তিনি বলেন, ”পরিবারের মধ্যেই কখনো হয়। তাছাড়া পাড়ার কাকি, ফুফু, দিদিরা করে থাকেন। এ ধ’রণের ঘ’টনার একটা বড় অংশের শি’কা’র হয় ব’য়ঃস’ন্ধির ছেলেরা। তারা যখন বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বলে, তারা বলেন, ”এসব বলতে নেই। উনি তোমাকে ভালবাসেন।” মেয়েরা এমন অ’ভিযো’গ করলে এখন তাও বাবা-মায়েরা গুরুত্ব দিয়ে সে কথা শুনে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আজও ছেলেরা এসব বললে কেউ গুরুত্ব দেয় না লোকল’জ্জার ভ’য়ে।

ad

পাঠকের মতামত