333932

পল্লবী থানায় বি’স্ফোরণ: আইএসের দায় স্বীকার

নিউজ ডেস্ক।।  রাজধানীর পল্লবী থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে বো’মা বি’স্ফোরণের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জ’ঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আ’ইএস)। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে সাইট ইন্টেলিজেন্স তাদের টুইটার ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাত ৮টা ৪৬ মিনিটে স্বীকারোক্তিমূলক টুইট করেন রিতা কাটজ। তবে ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তারা এই বি’স্ফোর’ণের সঙ্গে কোনও ধরনের জ’ঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে।

পুলিশের দাবি, স্থানীয় এক রাজনীতিকের ছেলেকে হ’ত্যার জন্য সাধারণ অ’পরাধী’রা এই বো’মা বহন করছিল। বি’স্ফোর’ণের আগে রফিকুল ইসলাম (৪০), শহিদুল ইসলাম (২৩) ও মোশাররফ হোসেন (২৬) নামে যে তিন জনকে গ্রে’ফতা’র করা হয়েছে, তারা সবাই পলাতক শীর্ষ স’ন্ত্রা’সী শাহাদাতের ক্যাডার। থানা পুলিশ গো’য়ে’ন্দা হেফাজতে পাঠানোর পর বর্তমানে তাদের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের সদস্যরা জি’জ্ঞাসাবাদ করছেন।

বুধবার ভোরে রাজধানীর পল্লবী থানায় ওজন মাপার যন্ত্রের মতো দেখতে হাতে বানানো একটি বো’মা বা আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভড ডিভাইসড) বি’স্ফো’রিত হয়। এতে থানার চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জন আ’হত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে সেখান থেকে দুটি অবি’স্ফো’রিত বো’মা উদ্ধারের পর নি’ষ্ক্রি’য় করা হয়।

ঘটনাস্থলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ক্রা’ইম সং’ঘটি’ত হয়ে থাকে। অ’পরা’ধ নিয়ন্ত্রণের জন্য মিরপুর বিভাগের ডিসির নেতৃত্বে পল্লবী থানা পুলিশের একটি টিম কিছু দিন ধরে কাজ করছিল। পুলিশের কাছে তথ্য আসে— মিরপুরের কালশী কবরস্থানে একটি স’ন্ত্রা’সী গ্রুপ অ’পরা’ধ করার জন্য অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাত ২টায় সেখানে অ’ভিযা’ন চালিয়ে তিন স’ন্ত্রাসী’কে আ’টক করে। গ্রে’ফতা’রের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পি’স্তল, চার রা’উ’ন্ড গু’লি ও ওজন মাপার য’ন্ত্রের মতো একটি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।’

কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘স’ন্ত্রাসী’দের কাছে ওয়েট মে’শিন দেখে থানা পুলিশ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়। বো’ম্ব ডি’সপো’জাল ইউনিটের কয়েকজন সদস্য ডিভাইসটি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা এই ইউনিটের আরও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সদস্যদের থানায় আসতে অনুরোধ করেন। কিন্তু অন্য সদস্যরা আসার আগেই একটির বি’স্ফোর’ণ ঘটে।’

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রে’ফ’তার ব্যক্তিরা ভাড়াটে খু’নি হিসেবে পরিচিত। তারা স্থানীয় এক কাউন্সিলরের ছেলেকে হ’ত্যা’র পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য তারা নিজেরা বোমা বহন করছিল। ওজন মাপার য’ন্ত্রটির মধ্যে চারটি পৃথক বো’মা ছিল। এরমধ্যে একটি প্রথমে বি’স্ফো’রিত হয়। বাকিগুলো বোম্ব ডি’সপো’জাল ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, থানা কম্পাউন্ডে বি’স্ফো’রিত বো’মাগুলো আইইডির আদলে তৈরি। জ’ঙ্গি’রা সাধারণত এ ধরনের আইইডি তৈরি করে। গত শুক্রবারও রাজধানীর পল্টন থানা এলাকায় একটি আইইডি বি’স্ফো’রিত হয়। এর আগে গত বছর রাজধানী ঢাকার পাঁচটি স্থানে, খুলনা ও চট্টগ্রামে পুলিশকে টা’র্গে’ট করে আইইডি নিক্ষেপ এবং পুলিশ ভ্যানে আইইডি বি’স্ফো’রিত হয়েছিল। করোনা মহামারির মাঝে জ’ঙ্গি’রা ফের সক্রিয় হয়ে পুলিশের ওপরে হা’ম’লা করতে পারে, এমন আশঙ্কায় গত ১৯ জুলাই পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি চিঠি ‘ইস্যু করা হয়। ওই চিঠিতেও পুলিশ সদস্য বা পুলিশের স্থাপনাসহ দূতাবাস বা বিদেশি নাগরিকদের ওপর জ’ঙ্গি’রা হা’ম’লা করতে পারে বলে স’তর্ক’তা জা’রি করা হয়।
ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, পল্লবীর এই বি’স্ফোর’ণের সঙ্গে এখন পর্যন্ত জ’ঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই। আন্তর্জাতিক জ’ঙ্গি সংগঠন আ’ইএ’সের দায় ‘স্বীকার নিছকই ‘ক্রেডিট নেওয়া’ বলে দাবি করেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রে’ফ’তার হওয়া তিন স’ন্ত্রা’সীও জি’জ্ঞাসাবা’দে নিজেদের শাহাদাত বাহিনীর লোক বলে স্বীকার করেছে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অতীতে আ’ইএ’স’ অনেক ফেক ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। এবারও সেরকমই দেখা যাচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে জ’ঙ্গি সম্পৃক্ততার কোনও তথ্য পাইনি। তারপরও আ’ইএস যেহেতু দায় স্বীকার করেছে, কাউন্টার টে’রোরি’জম ইউনিটের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

তবে দীর্ঘদিন জ’ঙ্গি নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বি’স্ফোর’ণের ধরণ দেখে জ’ঙ্গিদে’র কাজ বলেই মনে হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় যেহেতু তিন জনকে গ্রে’ফতা’র করা হয়েছে, জি’জ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া যায় সেটি আসল বিষয়। জ’ঙ্গিদে’র কাজ হলে কোনোভাবেই তা গো’পন করা সমীচীন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা। জ’ঙ্গি নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা খুব কঠিন। তবে যে ধরনের আ’ক্রম’ণ—এটা কোনও মাস্তান গ্রুপ বা সাধারণ অ’পরাধী’দের কাজ না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, একটা ডিজিটাল ওয়েট মেশিনে বোমা লুকিয়ে মাস্তানরা ব্যবহার করবে, এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে কী ঘটনা ঘটেছে, এটার জন্য আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করা জরুরি। কৌশলগত কারণে তদ’ন্ত কর্তৃপক্ষকে একটু সময় দেওয়া দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আ’ক্রম’ণের ধরনটা অ’ভিনব। পুলিশের পক্ষ থেকেও কয়েকদিন ধরে জ’ঙ্গি হামলার আ’শঙ্কা করা হয়েছিল। আ’ইএ’স ইতোমধ্যে দায় স্বীকার করেছে। এটা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি না করে বরং রাষ্ট্রের স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত। কারণ, এটা স’ন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে স্থানীয় কোনও মাস্তান গ্রুপ পোর্টেবল ওয়েট মেশিনের ভেতরে বো’মা ঢুকিয়ে চলবে। আ’ইনশৃঙ্খলা বাহিনী ত’দন্ত করছে। এটা যেন কোনোভাবেই পাশ কাটিয়ে যাওয়া না হয়।’

ad

পাঠকের মতামত