পি’স্তল দেখিয়ে পুলিশ পে’টানো সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার
নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর পল্লবীতে মাস্ক পরতে বলায় পিস্তল দেখিয়ে কর্তব্যরত পুলিশের এক সার্জেন্টকে পে’টানোর অ’ভিযো’গে অ’ভিযুক্ত পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানাকে দুই দিনেও গ্রে’প্তা’র করতে পারেনি পুলিশ। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার ওই নেতাকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটি।
প্রসঙ্গত, গত রোববার দুপুরে পল্লবীর কালসী পুলিশ বক্সের অদূরে পুলিশ পে’টা’নোর এ ঘটনার বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ‘মাস্ক পরতে বলায় পি’স্তল দেখিয়ে পুলিশ পে’টা’লেন যুবলীগ নেতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় দৈনিক আমাদের সময়ে।
প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই বহিষ্কার করা হলো যুবলীগ নেতা জুয়েল রানাকে। তার বি’রু’দ্ধে ধ’র্ষ’ণ, মা’দ’ক, হ’ত্যা ও হ’ত্যা চেষ্টার একাধিক মা’ম’লা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল গতকাল সন্ধ্যায় দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘পল্লবীর কালসী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে একটি অপ্রিতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃ’ঙ্খ’লা ভ’ঙ্গে’র কারণে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক’রেছে কেন্দ্রিয় কমিটি।’ নীতি নৈতিকতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সংগঠনের কেউ উ’শৃঙ্খলা’তার পরিচয় দিলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হু’শি’য়ারি দেন তিনি।
পুলিশ পে’টানা’র ওই ঘটনায় গতকাল সোমবার পল্লবী থানায় যুবলীগ নেতা জুয়েল রানাসহ অচেনা আরও ৪০ জনের বি’রু’দ্ধে হ’ত্যা’চেষ্টা মাম’লা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য সার্জেন্ট মো. আল ফরহাদ মোল্লা। মামলা নম্বর-৬১।
মা’মলা’র ত’দন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই তাপস কুণ্ড গতকাল সন্ধ্যায় জানান, ঘটনায় জ’ড়ি’ত জুয়েল রানা ও তার সহযোগীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। তাদের গ্রে’প্তা’রের চেষ্টা চলছে।
ভু’ক্তভোগী পুলিশ সার্জেন্ট মো. আল ফরহাদ মোল্লা জানান, তিনি পল্লবী ট্রাফিক জোনে কর্মরত। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কালসী পুলিশ বক্সের অদূরেই মূল সড়কে ইঞ্জিন ন’ষ্ট হয়ে বিকল হয়ে পড়ে বসুমতি পরিবহনের একটি বাস। রাস্তায় যানজট লেগে গেলে সহকর্মীদের নিয়ে বাসটি রাস্তা থেকে সড়ানোর চেষ্টা করছিলেন সার্জেন্ট ফরহাদ। এ সময় বিকল হওয়া বাসের চালককে গা’লাগা’ল করছিলেন জুয়েল রানা। তাকে থামার জন্য বললে উল্টো ফরহাদকেও অকথ্য ভাষায় গা’লাগা’ল করতে থাকেন ওই যুবলীগ নেতা। এ সময় জুয়েলকে মাস্ক পরে কথা বলতে বললে আরও ক্ষে’পে গিয়ে ফরহাদকে চ’রথাপ্পর মারতে থাকেন জুয়েল। একপর্যায়ে জুয়েল প্যান্টের প’কে’ট থেকে পি’স্ত’ল বের করে ফরহাদকে গু’লি করার জন্য উদ্যোত হন জুয়েল। সহকর্মী ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় রক্ষা পান।
সার্জেন্ট ফরহাদ আরও জানান, কালশী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে জুয়েল রানা তার ক্যাডারদের খবর দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেনা ৩০ থেকে ৪০জন এসে বক্সের মধ্যেই ফরহাদ ও তার সহকর্মীদের ওপর হা’ম’লা চালায়। ছিনিয়ে নেয় তার বডিঅন সরকারী ক্যামেরা; ছিঁড়ে ফেলেন পরিধেয় পুলিশের পোষাক। খবর পয়ে পল্লবী থানা পুলিশ এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় হা’মলা’কারীরা। পরে সহকর্মীরা আ’হ’ত ফরহাদকে ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যায়।
অ’ভিযোগে’র বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতা জুয়েল রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ওপাশ থেকে সাড়া দেননি তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তরের পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম বাপ্পী আজ সন্ধ্যায় দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘পুলিশকে মা’রধ’রের অ’ধিযো’গে দায়ের মা’মলা’য় অ’ভিযুক্ত পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে আমিও শুনেছি।’ তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি কাউন্সিলর বাপ্পী।






