332755

সিনেমার গল্পের মতো হোটেল দখল করেছিল প্রতারক ‘সাহেদ’

নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর উত্তরার অভিজাত আবাসিক হোটেল ‘মিলিনা’ও জবরদখল করেছিলেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ‘প্র’তারক’ মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম।

উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে হোটেল মিলিনার মালিক আনোয়ার হোসেন গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) মা’মলা করেছেন সাহেদের বি’রুদ্ধে।

আগের দিন তিনি অ’ভিযোগ জমা দেন র‌্যাব, দু’র্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কাছে। অংশীদারির ভিত্তিতে হোটেল পরিচালনার কথা বলে গত বছরের নভেম্বরে সাহেদ করিম হোটেলটি দখল করে নেন।

ক্ষ’মতার দাপট দেখিয়ে মূল মালিককে তাড়িয়ে দিয়ে মিলিনা হোটেলটি প্রায় আট মাস কবজায় রেখেছিলেন সাহেদ। শুধু তাই নয়, ছবি জা’লিয়াতির মাধ্যমে নিজে হোটেলের জমি ও ভবনের মালিক সেজে ব্যাংক থেকে আট কোটি টাকা ঋণ তুলে নেয়ার পাঁয়তারা করেছিলেন এই প্র’তারক। এর মধ্যেই ৬ জুলাই র‌্যাব উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অ’ভিযান চালায়।

এরপর ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সী’মান্ত থেকে র‌্যাব তাঁকে গ্রে’প্তার করে। এছাড়া উল্টো মাম’লা দিয়ে হয়রানিও করা হয়েছিল হোটেল মালিক আনোয়ারকে। হোটেলটি দখলে নিতে সাহেদকে তার তিন সহচর সাংবাদিক পরিচয়ে চলা এম এ সালাম শান্ত এবং রিজেন্ট কর্মকর্তা কাজী সাইফুল বারী ও রবিউল সহযোগিতা করেছিলেন বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। মালিক আনোয়ার হোসেন এক জাতীয় দৈনিককে বলেন, একটা বড় সময় তিনি জাপানে কাটিয়েছেন। দেশে ফিরে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর সড়কে জমি কিনে আটতলা ভবন করেন।

২০১১ সালে চালু করেন হোটেল মিলিনা। ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি বিনিয়োগকারী খুঁজছিলেন। গত বছর নভেম্বরের দিকে কাজী সাইফুল বারী নামের এক ব্যক্তি নিজেকে রিজেন্ট গ্রুপের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁদের উড়োজাহাজের ব্যবসা আছে। অতিথি, পাইলট, কেবিন ক্রুরা সেখানে উঠবেন, হোটেল জমজমাট চলবে।

আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য সময় চান। কিন্তু সাহেদ পক্ষের তাড়া ছিল। তাঁরা ২১ নভেম্বর আনোয়ার হোসেনকে রিজেন্ট সদর দপ্তরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। আনোয়ার দাবি করেন, প্রতি মাসে হোটেল মিলিনা থেকে ৮ লাখ টাকা ভাড়া ও প্রতি মাসে লাভের ৬০ শতাংশ দিতে হবে। রিজেন্ট গ্রুপের কর্মীরা তাঁকে বলেন, ভাড়া সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও লাভের ৫৫ শতাংশ দেওয়া হবে।

সাহেদের কক্ষে ঢোকার আগে ওই কর্মীরা আনোয়ারকে এই শর্তে রাজি হতে বলেন। ওই দিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, বাইরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর সাহেদের ঘরে ঢোকার অনুমতি পান তিনি। আধশোয়া অবস্থায় সাহেদ তাঁর কর্মীদের চুক্তিতে কী আছে, পড়ে শোনাতে বলেন।

এ সময় সাহেদ বলেন, তাঁর ভীষণ তাড়া আছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক আমলা বিদেশ থেকে আসছেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে তাঁকে বিমানবন্দরে যেতে হবে। বেশ তাড়াহুড়ার মধ্যে আনোয়ার হোসেন সেদিনই চুক্তিতে সই করেন। ওই দিন রাত ১১টায় মোহনা টেলিভিশনে টক শো করে সাহেদ তাঁর দলবল নিয়ে মিলিনায় যান। সেদিনই হোটেলের সব হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দেন। পরদিনই হোটেল দখলে নেন সাহেদ। কিছুদিনের মধ্যেই আনোয়ার বুঝতে পারেন, তিনি বিপদে পড়েছেন। বিমানের পাইলট, ক্রু বা যাত্রী কেউই আসছেন না। আনোয়ার সাহেদের সঙ্গে বসতে চান।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে আ’দালতে তিনটি মামলা হয়েছে। সাহেদের লোকজন মুঠোফোনে তাঁকে পরোয়ানা জা’রির কাগজও পাঠান। বেঁ’চে থাকতে চাইলে তাঁকে চুপ করে থাকতে বলা হয়। আনোয়ার বলেন, ‌’এখন সাহেদের বি’রুদ্ধে যে যে ধরনের প্র’তারণার মামলা হয়েছে, সাহেদ তাঁর বিরুদ্ধে ওই একই ধরনের অ’ভিযোগে আ’দালতে মা’মলা করেন। মা’’মলা করতে না করতেই পরোয়ানা জারি হলো কী করে, খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আ’ইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হাত আছে এতে। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। কিন্তু হোটেলে আর ঢুকতে পারেননি।

ad

পাঠকের মতামত