বাংলাদেশের জনসংখ্যা অর্ধেক হয়ে যাওয়ার আ’শঙ্কা!
নিউজ ডেস্ক।। সারা পৃথিবীতে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে জনসংখ্যার পরিমাণ কমে যাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনসংখ্যাও অর্ধেক হয়ে যাওয়ার আ’শঙ্কা প্রকাশ করেছে আমেরিকার ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এর একদল গবেষক।
সম্প্রতি মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট এ প্রকাশিত হয়েছে এই সং’ক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পৃথিবী যে ভাবে সামনের দিকে এগুচ্ছে তেমন পিছিয়েও যাচ্ছে। হানা দিচ্ছে ভ’য়াবহ ম’হামারি। পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে সবখানেই। আর তাতেই মানব সভ্যতা ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে এগুচ্ছে এমনটিই আ’শঙ্কা।
প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সমগ্র বিশ্বের মত বাংলাদেশেও ৮০ বছর পর বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ছোঁয়ায় জনসংখ্যা কমে যাবে। কমে যাওয়া জনসংখ্যার পরিমাণ হতে পারে ৮ কোটি ১৩ লাখের মত। তবে SDG বাস্তবায়িত হলে, এই সংখ্যা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকবে ২০৩৯ সালে। ওই সময় দেশের মোট জনসংখ্যা হতে পারে প্রায় ১৭ কোটি ৩৪ লক্ষ। এই সময়ে বাংলাদেশে জন্মহারও কমে আসবে অনেকটা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে জন্মহার ছিল প্রায় ২ শতাংশ। ২১০০ সালে এটি কমে আসতে পারে ১.১৯ শতাংশে। আর জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী চললে তা দাঁড়াবে ১. ১৭ শতাংশে।’
আজ থেকে ৮০ বছর পর বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৮৮০ কোটি হতে পারে দাবি করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা জাতিসংঘের অনুমানের চেয়েও প্রায় ২শ কোটি কম। বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ থাকবে ২০৬৪ সালে প্রায় ৯৭০ কোটি।
বাংলাদেশের মতো স্পেন, জাপান ও ইটালির জনসংখ্যাও প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৮০ বছরে আফ্রিকার জনসংখ্যা বাড়বে প্রায় তিনগুণ।
এই শতাব্দী শেষে তরুণদের তুলনায় বৃদ্ধের সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যাবে। ২১০০ সালের মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২৪০ কোটি। বিপরীতে ২০ বছরের কম বয়সীদের সংখ্যা হবে মাত্র ১৭০ কোটি।
জনসংখ্যা কমার কারণ হিসেবে নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং জন্মনিরোধক পদ্ধতি সহজলভ্য হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৬৯ লক্ষ। ৮০ বছর পর এই সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৮ কোটি ১৩ লক্ষ। আর জাতিসংঘের আ’শঙ্কা সত্যি হলে তা আরও কমে হবে ৭ কোটি ৪১ লক্ষ। উৎস: সময়নিউজ।






