ডা. সাবরিনার কু’কীর্তি যেভাবে প্রকাশ পেল
নিউজ ডেস্ক।। করোনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতা’রণার বিষয়ে রিমান্ডে পুলিশের জি’জ্ঞাসাবাদে জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার (জেকেজি হেলথকেয়ার) চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক (বরখাস্ত) ডা. সাবরিনা চৌধুরী এবং তার স্বামী (প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী) আরিফ চৌধুরী একে অপরকে দো’ষারোপ করছেন। তবে পরীক্ষার নামে প্রতা’রণার কথা স্বীকার করছেন তারা।
বিভিন্ন মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রভাব খাটিয়ে ‘স্বামী’ আরিফুল চৌধুরীর জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা তথা জেকেজি হেলথকেয়ারকে সরকারি কাজ পাইয়ে দিতেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী। ফলশ্রুতিতে করোনার এ দু”র্যোগকালে জেকেজি হেলথকেয়ার প্র’তারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়।
করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেয়া ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গত ১২ জুলাই গ্রে’ফতার করে পুলিশ। প্রথমে তাকে তেজগাঁও থানা পুলিশ জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলেও স’ন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় গ্রে’ফতার দেখানো হয়। ১৩ জুলাই তার তিন দিনের রি’মান্ডে মঞ্জুর করেন আ’দালত।
তবে মা’মলার সুষ্ঠু ত’দন্তে আরও জি’জ্ঞাসাবাদের স্বার্থে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর আরও ৫ দিনের রি’মান্ড চান ত’দন্তকারী কর্মকর্তা। তবে শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান দু’দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।
ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক। পুলিশ বলছে, সাবরিনা জেকেজির চেয়ারম্যান। তবে সাবরিনা নিজেকে জেকেজির ‘চেয়ারম্যান নয়’ বরং প্রতিষ্ঠানটির ‘কোভিড-১৯ বিষয়ক পরামর্শক’ দাবি করেছেন।
সাবরিনা আরিফের চতুর্থ স্ত্রী। আরিফের প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিয়া ও লন্ডনে থাকেন। তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয়েছে তার। চতুর্থ স্ত্রী ডা. সাবরিনার কারণেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ পায় জেকেজি হেলথকেয়ার। প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তারা।
নমুনা সংগ্রহের জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তাদের হটলাইন নম্বরে রোগীরা ফোন দিলে মাঠকর্মীরা বাড়ি গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন। আবার অনেককে জেকেজির বুথের ঠিকানা দেয়া হতো। এভাবে কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতো।
পরে তাদের গুলশানের একটি ভবনের ১৫ তলার অফিসের একটি ল্যাপটপ থেকে ভু’য়া সনদ দিত। ওই ল্যাপটপ থেকে জেকেজির কর্মীরা রাতদিন শুধু জা’ল রিপোর্ট তৈরির কাজ করতে। প্রতিটা সনদের জন্য নেয়া হতো পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বিদেশিদের কাছ থেকে নেয়া হতো ১০০ ডলার। যদিও শ’র্ত ছিল বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ল্যাবে পাঠাতে হবে। কিন্তু তারা সব ধরনের শর্তভ’ঙ্গ করে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিত।






