করোনা নিয়ে চিকিৎসকদের ৬ মাসে যেসব অভিজ্ঞতা হলো
নিউজ ডেস্ক।। ছয় মাস আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যখন শুরু হয়, অনেকটা গোলকধাঁধায় ছিলেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে চীন ও ইতালির স্বাস্থ্যকর্মী-নার্স পড়েছিলেন বেকায়দায়।
হাসপাতালগুলো এত এত রোগী সামলাতে গিয়ে বেসামাল হয়ে পড়ে। তবে ছয় মাস পরে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে। অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন চিকিৎসকারা।
করোনায় আ’ক্রান্ত রোগীর রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি, রোগীর ফুসফুসে আ’ক্রন্ত হলে কী করতে হবে, বা আ’ক্রান্তদের কোন কোন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হবে, ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছেন করোনা যো’দ্ধারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের অভিজ্ঞ হয়ে ওঠার তথ্য দিয়েছে।
কি কি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা : করোনাভাইরাস সং’ক্রমিত হলে শুরুর দিকে শ্বাসতন্ত্র-ফুসফুস আ’ক্রান্ত হওয়ার কথা বলেছিলেন চিকিৎসকরা। রোগীর অবস্থা এতটাই খা’রাপ হতো, তাকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যেতে হতো। শরীরে অক্সিজেনের পরিমাB কমে গিয়ে মৃ’ত্যু হতো। তবে এখন চিকিৎসকরা বলছেন, উপুড় করে শুইয়ে রাখলে রোগীর ফুসফুসের ওপর চাপ কমে। যাদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমান মতো থাকে, তাদের ভেন্টিলেটর দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
করোনাভাইরাস শুধু শ্বাসতন্ত্র-ফুসফুসেই নয় আ’ক্রান্ত করে কিডনি, যকৃৎ, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ককেও। এমনকি রোগীর রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁ’কি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে র’ক্ত তরলীকরণের ওষুধ সাহায্য করতে পারে।
এখন পর্যন্ত করোনার চিকিৎসায় ভাইরাসপ্রতিরোধী রেমডেসিভির ও ডেক্সামেথাসন নামে স্টেরয়েড ওষুধ বেশ কাজে লাগছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কোভিড-১৯ রোগ থেকে যেসব রোগী এখন পর্যন্ত সেরে উঠেছেন, তাদের প্লাজমা অন্যান্য রোগীদের সেরে ওঠায় সাহায্য করছে। এ ক্ষেত্রে আগের রোগীদের শরীরের অ্যান্টিবডি বেশ কাজে লাগেছে।
হাসপাতালের ওপর চাম কমাতে প্রয়োজন ব্যাপক হারে নমুনা পরীক্ষা এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এতে দ্রুত রোগী চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। শুরুতেই স’তর্ক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
বিশ্বব্যাপী চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে করোনাসংক্রা’ন্ত তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
আরও যা বললেন চিকিৎসকেরা : যে অভিজ্ঞতা তারা পেয়েছেন, তা বাদের বিশেষ কিছু তথ্য দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, করোনার বি’রুদ্ধে ল’ড়াইয়ে এখনও অনেক জানার প্রয়োজন। অনেক কিছু করার রয়েছে। কোন চিকিৎসা কাজে আসছে, বা কোনটা নয়- সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। কোভিড-১৯ সারতে রোগীর ঠিক কতদিন সময় লাগছে, তাও জানা সম্ভব হচ্ছে না।
গবেষণা হচ্ছে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে করোনা রোগের ফল কী, জানায় সম্ভব হয়নি। কোন ওষুধে এই রোড় সারবে, বা কবে নাগাদ অ্যান্টিবডি আসবে, কত দ্রুত ওষুধ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, সেটিও নির্ণয় করা যায়নি। বিশেষ করে রেমডেসিভিরের মতো ওষুধের ক্ষেত্রে এটা কবে সম্ভব হবে, জানা যাচ্ছে না তা–ও। উৎস: আমাদের সময়।






