328771

‘তিলে তিলে গড়া সংসারটা মাত্র একটা ট্রাকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হলাম’

নিউজ ডেস্ক।। একটি শপিং মলের কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন হুমায়ন কবির। বিয়ে করেছেন চার বছর হলো। স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে রাজধানীর বাড্ডায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

যদিও ব্যাচেলর হিসেবে ঢাকা শহরে তার বসবাস ১৩ বছর আগ থেকে। করোনায় চাকরি হারিয়ে রীতিমতো নিঃস্ব তিনি। চাকরি হারানোর পরে আয়-উপার্জনের ভিন্ন পথ খুঁজেও তিনি ব্যর্থ হন।

সব পথ হারিয়ে ভাগ্যকে মেনে নিয়েই এই জীবিকার শহর ছেড়ে তিনি আজ (শনিবার) নিজ এলাকা নাটোরে চলে যাচ্ছেন। যাওয়ার আগে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে হুমায়ন কবির বললেন, ‘চলে যাচ্ছি, এই শহর আর আমার হলো না’।

তিনি বলেন, ‘চাকরি হারানোর পর আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেলে, নতুন আয়ের পথ সৃষ্টি করতে চেষ্টাও করেছিলাম। একটি ভ্যান ভাড়া নিয়ে কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনে পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করেছি কয়েকদিন। কিন্তু ভ্যান ভাড়া, সব খরচ বাদ দিয়ে ইনকাম বেশি থাকত না, ক্রেতাও কম। যে কারণে ওটা করেও আর পোষাতে পারিনি। তাই সব ধরনের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই ঢাকা ছেড়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছি আমরা।’

টিউশনি করে স্ত্রী ও এক কন্যা নিয়ে সংসার চলতো জাকারিয়া লাবণের। বনশ্রী থেকে গত বুধবার তিনি রাজধানী ছেড়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জে চলে গেছেন। যাওয়ার সময় তিনটি ছবি তার ফেসবুক ওয়ালে দিয়ে তিনি লিখেন, ‘এই শহরে চার বছর ধরে তিলে তিলে গড়া সংসারটা মাত্র একটা ট্রাকে করে নিয়ে নিরুদ্দেশ হলাম। বাকিটা আল্লাহ দেখবেন। শুভ কামনা সকলের তরে। মায়ার এই শহর আর কারও সাথে বেঈমানি না করুক।’

শুধু হুমায়ন কবির আর জাকারিয়া লাবণই নন, করোনার পরিস্থিতির কারণে চাকরি বা ব্যবসা হারিয়ে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। চলে যেতে হচ্ছে আরও অনেককে। ঢাকায় তাদের এখন আর কোনো কাজ নেই, বেতন নেই, আগের মতো ব্যবসাও নেই। তাই যেন তাদের আশ্রয়ও নেই এখানে। যে কারণে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তারা।

ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২ হাজার ৩৭১ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্র্যাক মে মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এতে দেখা যায়, ৩৬ শতাংশ লোক চাকরি বা কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। ৩ শতাংশ লোকের চাকরি থাকলেও বেতন পাননি। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করেন, তাদের ৬২ ভাগই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। করোনার কারণে ১০টি জেলার মানুষের আয় কমে গেছে। ঢাকা জেলার মানুষের আয় কমেছে ৬০ ভাগ।

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা জামাল আক্তার। একটি বেসকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কিন্তু করোনার কারণে তিনি ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না কয়েক মাস ধরে। মাঝে দুই-একবার পেলেও তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ad

পাঠকের মতামত